দেশ থেকে অপুষ্টি দূর করতে শুধু পুষ্টিকেন্দ্রিক কার্যক্রম হাতে নিলে চলবে না। নারীর ক্ষমতায়ন, হাত ধোয়া কার্যক্রম, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ অন্যান্য কার্যক্রমকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
দেশের পুষ্টি খাতের চিত্র পাল্টাতে হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। তা না হলে যুগের পর যুগ একই অবস্থা চলতে থাকবে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ও জোরদার করতে হবে। গতকাল শনিবার বেসরকারি সংগঠন ব্র্যাক ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকের আলোচকেরা এসব কথা বলেন।
নগরের ডেইলি স্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘চাইল্ড নিউট্রিশন: মাল্টি সেক্টরাল অ্যাপ্রোচ ফর ইনভেস্টিং ইন দ্য ফিউচার’ শীর্ষক বৈঠকে ব্র্যাকের পরিচালক কাওসার আফসানা বলেন, সরকার পদক্ষেপ না নিলে অনেক ক্ষেত্রেই সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয় না। আর সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নেতৃত্ব জোরদার করতে হবে।
আলোচনায় আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সেন্টার ফর নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি বিভাগের পরিচালক তাহমিদ আহমেদ বলেন, সার্বিক পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে নারীর ক্ষমতায়ন, দূষণমুক্ত পরিবেশ, বাল্যবিবাহ রোধ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যনিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্যানিটেশনের বিষয়গুলোতেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যাও বাড়াতে হবে। তাহমিদ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে পুষ্টি কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেন।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (আইইএম) গণেশ চন্দ্র সরকার বলেন, সরকারের পাশাপাশি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থা পুষ্টি নিয়ে কাজ করছে। তবে নজরদারির অভাবে প্রায় বেশির ভাগ কার্যক্রমই হারিয়ে যায়।
আইসিডিডিআরবির শিশু বিভাগের প্রধান শামস-এল আরেফিন বলেন, যেসব পরিবারে খাদ্যের অভাব নেই, সেসব পরিবারেও শিশুদের যথাযথ নিয়মে মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার দেওয়া হচ্ছে না। তাই এসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।
জাতীয় পুষ্টি সেবার প্রোগ্রাম ম্যানেজার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের প্রায় ছয় লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার। তিনজনের একজন শিশু কম ওজন নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। তাই সরকারের একার পক্ষে এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
গোলটেবিল বৈঠকে শিশুপুষ্টি নিয়ে মূল প্রবন্ধ পড়ে শোনান ব্র্যাকের প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী রাইসুল হক। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে প্ল্যান বাংলাদেশের পরিচালক (দেশীয় প্রকল্প) সেলিনা আমিন, জাতীয় পুষ্টি সেবার উপ-প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাসরীন খান প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।
সুত্র - প্রথম আলো

