home top banner

Health Tip

অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া নিরসনে পরিচর্যা, খাদ্য তালিকা এবং গৃহ চিকিৎসা
28 November,13
Tagged In:  ripe hair  hair care  
  Viewed#:   567

ripe-hairধূসর বা সাদা চুল সহজে লুকিয়ে রাখা যায় না। অনেকে রং ব্যবহার করেন, হেনা ব্যবহার করেন, টুপি পরেন এমনকি স্কার্ফ পরেও তাদের বিলীয়মান চুল আড়াল করার চেষ্টা করেন। এটা বেশ স্পষ্ট দৃশ্যমান যে ভুক্তভোগীরা তাদের ধূসর এবং পাকা চুল নিয়ে বেশ বিব্রত হয়ে থাকেন। এখন পর্যন্ত তাদের যে চুল অবশিষ্ট আছে তা যেন আর সমস্যা কবলিত না হয় তার জন্য তারা প্রাণান্ত চেষ্টা করে থাকেন। যদিও সাধারণত বয়স বাড়ার ফলে চুল পাকতে দেখা যায়, তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে কম বয়সে বিশেষত বয়ঃসন্ধি কালেই অনেকের চুল পাকতে দেখা যায়। এধরণের সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়ে চলছে।

ধূসর বা পাকা চুলের কারণঃ
যদিও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বলা হয়ে থাকে যে বংশগত কারণই প্রধান, আসলে এর অনেক ধরণের কারণ আছে। অনেক কিছুর ঘাটতির কারণে এমন হতে পারে এবং বেশীর ক্ষেত্রে এ কারণেই তা হয়ে থাকে। রাতারাতি চুল পেকে যায় না। এটি একটি ধীর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যাতে বেশ সময় লাগে। সুতরাং ভয় পাবেন না, যত তাড়াতাড়ি আপনি এটা উপলদ্ধি করতে পারবেন, তত তাড়াতাড়ি আপনি এর উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। এখানে চুল ধূসর বা পেকে যাওয়ার কয়েকটি কারণ বর্ণিত হলঃ
·         বংশগত কারণ, এটি পাকা চুলের জন্য একটি বড় ভূমিকা পালন করে থাকে।
·         দেহে এবং চুলে ভিটামিন B এর ঘাটতি।
·         কেমিক্যালের প্রভাব, যা পরিবেশগত কারণে অথবা শ্যাম্পু বা কন্ডিশনারের কারণে হতে পারে।
·         ধূমপানের কারণে চামড়া এবং চুল সমস্যা কবলিত হতে পারে।
·         মাদকাসক্তি দুর্বলতা বা শরীরে প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতির কারণ হতে পারে।
·         থাইরয়েডের সমস্যাও একটি কারণ হতে পারে।
·         কোন আকস্মিক ঘটনা বা দুর্ঘটনার প্রভাবে এমনটি হতে পারে।
 
আজকাল অনেক মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব এমনকি সাধারণ মানুষও ধূসর চুলের অধিকারী হতে পছন্দ করে থাকেন। তারা এটা মনে করেন যে প্রাকৃতিক রং হল সবচেয়ে ভাল এবং তাদের রূপালী বর্ণের ঢেউ খেলানো চুলই বেশ সুন্দর। মহিলারা যেমনটি করেন পুরুষরা চুলের রং নিয়ে সাধারণত ততটা চিন্তিত হন না, যদিও বর্তমানে অনেক মহিলা রূপালী চুলের স্টাইল পছন্দ করে থাকেন। এমন ভাবে চুল কাটুন যা আপনার চেহারার সাথে মানানসই হবে। চুলকে সুন্দর রাখতে এর পরিচর্যা করুন। আপনার চুল এখন আপনার ব্যাক্তিত্বের একটি অংশ। অনেক মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব এবং অবসরে যাওয়া ক্রীড়াবিদরা তাদের দেহে বার্ধক্যের চিহ্ন দেখা যাওয়াতে লজ্জা বোধ করেন না। কিন্তু তারাও তাদের চুল ভাল ভাবে পরিচর্যা করে থাকেন। ভাল একটি সেলুনে আপনার চুলের পরিচর্যা করুন। আপনার পোশাক-আসাক এবং মেকাপের জন্য যেমন সময় দেন তেমনি চুলের জন্যও একটু সময় দিন।
 
ধূসর চুলের মোকাবেলায় খাদ্যতালিকাঃ
অবশ্যই শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি সাধারণ অবস্থার চেয়ে চুল ধূসর হওয়াকে ত্বরান্বিত করে। এ ব্যাপারটি যারা অল্প বয়সে চুল পাকা সমস্যায় আক্রান্ত তাদের সকলের জন্যই সমান ভাবে প্রযোজ্য। এটা জানা গেছে যে চুল পেকে যাওয়া প্রতিহত করা যায়, অন্তত এর প্রক্রিয়া ধীর করা যায় যদি আমরা সঠিক পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে পারি। সুতরাং এটা মনে রাখতে হবে যে; প্রতিটি সাধারণ মুদি দোকানে প্রাপ্ত কিছু সামগ্রীই আপনার চুলকে সঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। এসকল খাবার আপনাকে এটার নিশ্চয়তা দেবে যে আপনি আর চুল হারানো সমস্যার সম্মুখীন হবেন না এবং যেগুলি এখনো কালো রয়েছে সেগুলিও ভাল থাকবে। এ সকল খাবারের মধ্যে আছেঃ
 
তাজা সবুজ শাক-সব্জিঃ  হ্যাঁ তাজা সবুজ শাক-সবজি আপনার চুলের জন্য সঠিক প্রয়োজনীয় পুষ্টি  উপাদান সমৃদ্ধ হয়ে থাকে। আপনার শাক-সবজি সমূহ রান্নার সময় সেদ্ধ করে নিন, ভাজবেন না, কারণ ভাজলে এর পুষ্টি উপাদান কমে যায়। সকল শাক-সবজি কেবল আপনার চুলকেই ভাল রাখবে না, বরং তা আপনার ত্বক এবং হৃদপিণ্ডকেও সুস্থ্য এবং  সতেজ রাখবে।
চকোলেটঃ  হ্যাঁ! চকোলেটে কপার আছে যা আপনার চুলের মেলানিন উৎপাদন প্রক্রিয়াতে সহায়তা করে। এ উপাদানটি চুলের আসল রং বজায় রাখে। সুতরাং আপনি নিয়মিত ভাবে অর্ধেক থেকে একচতুর্থাংশ পরিমাণে চকোলেট বার খেতে পারেন। কিন্তু অবশ্যই খুব বেশী পরিমাণে খাবেন না। চকোলেটের যেমন উপকারিতা আছে তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে।
জাম জাতীয় ফল (berries)ঃ  তাজা জাম জাতীয় ফল যেমন, স্ট্রবেরী যা ভিটামিন C তে ভরপুর, খেতে পারেন। এগুলি চুলকে সুস্থ্য রাখে এবং সাধারণ ভাবে দৃশ্যমান বয়সের সকল চিহ্নকে কমিয়ে দেয়। সুতরাং একটি ঝুড়ি নিয়ে জাম কুড়াতে লেগে যান। সকল জাম জাতীয় ফলই পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ।
কাঠ বাদাম (almonds)ঃ  সকল স্থানে কিনতে পাওয়া যাওয়া এ খাদ্যটি সঠিক ভাবে খেতে ভুলবেন না। এর মানে হল, চিবান, পিষে ফেলুন যতক্ষণ পর্যন্ত না এগুলি পেস্টে পরিনত হয়, তার পর গিলে ফেলুন। এগুলি যেকোনো রূপে এবং যেকোনো সময় খাওয়া যেতে পারে।
 
চুল পাকার চিকিৎসাঃ
সকল সমস্যারই সমাধান আছে। নিম্ন বর্ণিত উপায়ে চুলকে বাঁচাতে এবং পেকে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেনঃ
 
·         ভারতীয় gooseberry বা আমলকী দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিয়ম হল আমলকী সারারাত ভিজিয়ে রাখুন এবং এ মিশ্রণটি পরের দিন মাথার ত্বকে মাখুন। ভাল ভাবে ম্যাসেজ করুন যাতে এটির পুষ্টি উপাদান মাথার ত্বকে শোষিত হতে পারে।
·         মাথার ত্বকে পেয়াজের রস মাখুন। ৩০ মিনিট এটি মাথার ত্বকে মেখে রাখুন এবং এরপর মাথার চুল ভাল করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। খেয়াল করে সপ্তাহে দুই দিন এটি নিয়মিত মাথায় মাখুন এবং ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।
·         প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের রস পান করলে তা চুলকে ধূসর হওয়া বা পেকে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে এটি নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে।
 
চিনি বিহীন এক কাপ শুধু চা নিন এবং এতে এক চামচ লবন মিশিয়ে তা মাথার ত্বকে মাখুন। এটিও মাথার চুলকে তার আসল বর্ণ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: খাদ্যাভ্যাস ও শিশুর আচরণ
Previous Health Tips: অনিদ্রায় একমাত্র ভরসা ঘুমের ওষুধ?

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')