মাতৃগর্ভ থেকে শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার অন্তর্বর্তী একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। মাতৃগর্ভে প্রায় ৩৮ সপ্তাহ থাকার পরে সাধারণত শিশু জন্ম নেয়। কোনো কোনো শিশু এ সময়ের আগেই জন্ম নিতে পারে। এটি একটি সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা। এই শিশুকে বলা হয় প্রিম্যাচিউর বেবি। অবশ্য এ ক্ষেত্রে মায়ের কোনো দোষ ত্রুটি থাকে না। তবে যমজ শিশুদের অপুষ্টি, গর্ভাবস্থায় মায়ের বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ ও ধূমপান থেকেও এমনটি হতে পারে। নির্ধারিত সময়ের আগে ভূমিষ্ঠ শিশুটির বৈশিষ্ট্য সমূহ:
১) শিশুর ওজন আড়াই কেজির চেয়ে কম হবে।
২) শিশুটির ছোট্ট ফুসফুস দুটো বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন গ্রহণ করার মতো শক্তিশালী হয়ে ওঠে না। ৩) শিশুর দেহেনিজস্ব তাপ উৎপাদন প্রক্রিয়া সৃষ্টি হয় না। কাঁথা মুড়িয়েও শিশুর শরীর গরমরাখা যায় না।
৪) শিশু মায়ের বুকের দুধ পান করার মতো ক্ষমতা সম্পন্ন হয়ে ওঠে না।
৫) শিশুকে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধারে হাসপাতালে ইনকিউবেটরের ভেতরে থাকতে হয়।
৬) ইনকিউবেটরে থাকা অবস্থায় কৃত্রিম ভাবে উত্তাপ, খাবার ও শ্বাস-প্রশ্বাসেরও ব্যবস্থা করা হয়।
ইনকিউবেটর কী?
ইনকিউবেটর এক ধরনের প্লাস্টিক ঘেরা ছোট বাক্সবিশেষ। এর ভেতরের তাপমাত্রা থাকে মাতৃ জরায়ুর তাপমাত্রার সমান। ইনকিউবেটরের মেঝেতে বিছানো থাকে ভেড়ার চামড়া। মেঝের নিচে বসানো ইলেকট্রনিক সেন্সরের মাধ্যমে বাইরে থেকে শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস গণনা করা যায়। কেনো রকম অসুবিধা দেখা দিলে বাইরে অ্যালার্ম বেজে ওঠে। ইনকিউবেটরের সাথে যুক্ত আছে ভেন্টিলেটিং মেশিন।এই মেশিন থেকে পাম্প করে বাতাস ইনকিউবেটরে প্রবেশ ও বের করা যায়। এভাবে শিশুর কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস বজায় রাখা হয়। শিশুকে খাওয়ানো হয় কৃত্রিম উপায়ে। নরম ও সরু একটি নল নাক ও খাদ্যনালীর মাধ্যমে পাকস্থলীতে প্রবেশ করানো হয়। এই নল দিয়ে মায়ের বুকের দুধ সংগ্রহ করে শিশুকে পান করানো হয়।
সূত্র - নয়া দিগন্ত

