
চকলেট। ছোট-বড় সবার কাছে পছন্দনীয়। নাম শুনলে কার না খেতে ইচ্ছে করে। অনেকের ধারণা চকলেট, চুইংগাম ও ক্যান্ডি, ভাজা-পোড়া, তৈলাক্ত খাবার,চিপস ইত্যাদিখেলে মুখের ব্রণ বেড়ে যায়। চকলেট ও ব্রণের এই সম্পর্ক জানতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন-শামছুল হক রাসেল
যদিওএখন ব্রণের খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ চিকিৎসা আমাদের দেশেই এসে গেছে, তারপরও এনিয়ে ভুল ধারণার শেষ নেই। যেহেতু ব্রণ সৌন্দর্যহরণকারী সমস্যা, তাই এনিয়ে নানারকম তথাকথিত চিকিৎসা এবং উপদেশ প্রচলিত আছে। এসবের অধিকাংশই ব্রণনিরাময়ে বিশেষ কোনো কাজে এসেছে বলে জানা যায়নি। অনেকের ধারণা, চকলেট ওক্যান্ডি, ভাজা-পোড়া, তৈলাক্ত খাদ্য, চিপস ইত্যাদি খেলে ব্রণ বেড়ে যায়।কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বরাবরই সাধারণের এ ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে।কারণ চিকিৎসা বিজ্ঞান জানে ব্রণ কেন হয়। আর যারা জানে না ব্রণ কেন হয় এবংকীভাবে হয়, তারাই ব্রণ নিয়ে রকমারি চিকিৎসার ডালি সাজায় আর উপদেশের ফুলঝুরিবর্ষণ করে। ব্রণ মূলত হয়ে থাকে সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ডের অতিক্রিয়ার কারণে।সাধারণত সেঙ্ হরমোনের (এন্ড্রোজেন) প্রভাবেই এটি হয়ে থাকে। বয়ঃসন্ধিকালথেকে ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের শরীরেই এই সেঙ্ হরমোনটির (এন্ড্রোজেন) নিঃসরণঘটে। প্রাপ্ত বয়সে এই হরমোনের প্রভাবে সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ড (গ্রন্থি)প্রচুর পরিমাণে সিবাম তৈরি করে থাকে। এই গাঢ় এবং আঠালো চরিত্রের সিবাম খুবসহজেই সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ড (গ্রন্থি) এবং হেয়ার ফলিকুলকে ভরাট করে বন্ধ করেদেয়। ক্রমশ এই গ্রন্থিটি ফুলে উঠতে থাকে। এক পর্যায়ে এর মধ্যে সামান্যপুঁজও জমে থাকে। এক সময় এটি ফেটে অবস্থাভেদে শাঁসের মতো সাদা পদার্থ কিংবাপুঁজ বের হতে দেখা যায়। এ অবস্থায় এটিতে জীবাণু সংক্রমিত হয়ে প্রদাহেরসৃষ্টি হয়, যা সাধারণের কাছে ইনফেকশন বলে সমধিক পরিচিত।
সিবাসিয়াসগ্ল্যান্ড বা ঘর্মগ্রন্থির ফুলে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট অবস্থাকেই ব্রণ বলা হয়েথাকে। ব্রণকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় একনি। ব্রুণের বিভিন্ন ধরনএবং পর্যায় রয়েছে, যা সাধারণের কাছে বোধগম্য হওয়ার কথা নয়। গবেষণায় দেখাগেছে, মানুষের বংশগতির বাহক জিনের সঙ্গে এন্ড্রোজেনের অতি নিঃসরণের একটিযোগসাজশ রয়েছে। এদিকে আমেরিকার গবেষকরা ব্রণ সৃষ্টিতে কিংবা বেড়ে যাওয়ারপেছনে চকলেটের কোনো ভূমিকা থাকার আশঙ্কাকে একেবারেই নাকচ করে দিয়েছেন। এব্যাপারে প্রমাণ হিসেবে সমীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্রণে আক্রান্ত এবংআক্রান্ত নয়, এমন তরুণ-তরুণীকে দীর্ঘদিন চকলেট খাইয়ে দেখা গেছে, তরুণ-তরুণীদের কারও নতুন করে ব্রণ ওঠেনি এবং যাদের এর আগে ব্রণ ছিল তাদেরব্রণের তীব্রতাও বাড়েনি। এদিকে ইয়ালি ইনস্টিটিউটের ডার্মাটোন্সলি (ত্বকবিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি শাখা) বিভাগের ক্লিনিক্যান্স অধ্যাপক ডা.অ্যান্ডু ব্রনিনের কথা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষেই যদি চকলেট জাতীয় খাবারে ব্রণবেড়ে যেত কিংবা ব্রণ হতো বা ব্রণ হওয়ার আশঙ্কা থাকত তাহলে শিশু-কিশোরদেরমাঝেই ব্রণের প্রকোপ বেশি থাকত। কারণ শিশুরাই চকলেট, ক্যান্ডি জাতীয় খাবারবেশি খেয়ে থাকে।
সূত্র - বাংলাদেশ প্রতিদিন

