home top banner

Health Tip

চুল পরা বন্ধের ২০ টি উপায়
12 October,13
Tagged In:  hair loss  
  Viewed#:   1185

নারী পুরুষ নির্বিশেষে সাড়া পৃথিবী জুড়ে অসংখ্য মানুষকে একটি সাধারণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এটি চুল ঝরে পরার সমস্যা ছাড়া আর কিছুই নয় যা খুবই স্বাভাবিক। দৈনিক প্রায় ১০০ টি হারে চুল ঝরে পরে। প্রকৃত পক্ষে এরকম মাথার খুলি থেকে চুল ঝরে পরাতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই তবে চিন্তিত হওয়ার যে কারণ সমূহ আছে তার তালিকায় আছে খনিজের অভাব, মানসিক চাপ, বংশগত কারণ, ঔষধের প্রভাব, দূষণ এবং খাদ্যতালিকা।
 
কিন্তু পুরুষের কথা আসলে একটি অন্যরকম কারণ আছে যেটি হল মাথায় ক্যাপ বা হেলমেট পরা। সকল কিছু বিবেবেচনা করে চুল পরার চিকিৎসার সহায়তার জন্য ২০ টি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যা নীচে বর্ণনা করা হয়েছে।
 
১. দৈনিক চুল ধোয়ার জন্য হালকা ধরণের শ্যম্পুর ব্যবহারঃ
অনেক পরিমাণে চুল ঝরে পরা রোধ করার জন্য সব সময় চুল এবং মাথার ত্বক পরিস্কার রাখার জন্য সুপারিশ করা হয় যার জন্য দৈনিক চুল ধোয়া প্রয়োজন। রোজ চুল ধোয়া মাথার ত্বকে খুশকি বা সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এই খুশকি বা সংক্রমণই হল চুল ঝরে পরার আসল কারণ। এছাড়াও এই পরিষ্কারকটি চুলের পরিমাণকে অনেক বেশী করে দৃশ্যমান করে।
 
২. ভিটামিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিনঃ
ভিটামিনকে শুধুমাত্র সমস্ত দেহের জন্যই কার্যকর মনে করা হয় না বরং চুলের জন্যও তা প্রযোজ্য। বিশেষত মাথার ত্বকে থাকা sebum এর উৎপাদনে সহায়তার জন্য ভিটামিন A কে প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। আরেকটি ভিটামিন হল E যা মাথার ত্বকে রক্ত ভাল ভাবে সংবহনে সহায়তা করে যার ফলে চুলের কোষ বৃদ্ধির মাধ্যমে আরও বেশী চুল গজাতে সাহায্য করে। এছাড়াও চুলের রঙ বজায় রাখার জন্য ভিটামিন B এর গ্রহণ বাড়িয়ে দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।
 
৩. খাদ্য তালিকায় প্রোটিন যোগ করুনঃ
চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন হয় যা মাছ, চর্বি বিহীন মাংস, সয়া এবং আরও নানা ভাবে পাওয়া যায় যা চুল ঝরে পরাকেও প্রতিরোধ করে।
 
৪. ম্যসাজের জন্য এসেন্সিয়াল অয়েল ব্যবহার করুনঃ
যারা পূর্ব থেকেই চুল ঝরে পরা সমস্যায় ভুগছেন তারা এসেন্সিয়াল অয়েল দিয়ে মাথার ত্বক কয়েক মিনিট ধরে ম্যাসেজ করে দেখতে পারেন। সরিষার তেল বা কাঠবাদামের তেলের মত এসেন্সিয়াল তেলের সাথে ল্যাভেন্ডার মিশিয়ে ব্যবহার করলে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে চুলের গোঁড়ার কোষ সমূহ দীর্ঘ সময়ের জন্য সক্রিয় থাকবে।
 
৫. ভেজা চুলে চিরুনি ব্যবহার করবেন নাঃ
যখন চুল পানিতে ভেজা থাকে তা সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় থাকে এজন্য ভেজা চুলে চিরুনি চালালে চুলের ঝরে পরার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই ভেজা চুলে চিরুনি না ব্যবহার করার সুপারিশ করা হয়। যদি কখনো ভেজা চুলে চিরুনি করার প্রয়োজন হয় তবে চওড়া দাঁত বিশিষ্ট চিরুনি ব্যবহার করুন। যেহেতু অতিরিক্ত চুল আঁচড়ানো চুলের ক্ষতির কারণ এবং চুল ঝরে পরার কারণ বলে মনে করা হয় তাই এতে কোন জট পরলে চুলের ভেতর আঙ্গুল চালিয়ে তা ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে বলা হয়।
 
৬. পিঁয়াজ, আদা বা রসুনের রসঃ
এগুলোর যে কোনটির রস করে মাথার চামড়াতে ভাল করে ঘষে মেখে সমস্ত রাত রেখে দিন এবং সকালে ধুয়ে পরিস্কার করে ফেলুন। এটি যদি অন্তত এক সপ্তাহ দৈনিক ব্যবহার করা হয় তবে চুল ঝরে না পরার ব্যপারে ভাল কিছু ফলাফল পাওয়া যায়।
 
৭. পানি গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে দিনঃ
প্রতি গোছা চুলে বেশ পরিমাণে পানি থাকে এজন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করার জন্য সুপারিশ করা হয়। এতে করে চুলে পানির সঠিক পরিমাণ বজায় থাকে এবং চুলের স্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়।
 
৮. সবুজ চাঃ
একটি জরিপে দেখা গেছে যে চুলে সবুজ চা ঘষে চুল ঝরে পরার চিকিৎসা করা যায়। এর জন্য প্রয়োজন শুধুমাত্র দুইটি টি ব্যাগ। টি ব্যাগ দুটি কাপে নিয়ে তাতে ফুটন্ত পানি দিন। এর পর তা ঠাণ্ডা হলে চুলে প্রয়োগ করুন। ধুয়ে ফেলার পূর্বে অন্তত এক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। ভাল ফলাফল পেতে অন্তত এক সপ্তাহ ধরে বা আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী এর বেশী সময় ধরে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।
 
৯. চুলের জন্য যা ক্ষতিকর তা চিহ্নিত করুনঃ
আপনার চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রথমেই কিভাবে ভাল ভাবে চুলের যত্ন নিতে হবে তা শেখার জন্য সুপারিশ করা হয়। টাওয়েল দিয়ে না ঘষে স্বাভাবিক ভাবে চুল শুকিয়ে যেতে দেয়া অনেক ভাল।
 
১০. অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুনঃ
যারা চুল ঝরে পরা সমস্যার শিকার তাদের অ্যালকোহল গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া উচিত। এটা জানা গেছে যে অ্যালকোহল পান চুলের বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্থ করতে পারে।
 
১১. ধূমপান নয়ঃ
সিগারেট পানে মাথার চামড়াতে রক্ত সংবহনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এটি সরাসরি চুলের বৃদ্ধিকে কমিয়ে দিয়ে প্রভাবিত করে।
 
১২. নিয়মিত শরীরচর্চাঃ
দৈনিক কিছু সময় নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম করলে, যা হতে পারে অন্তত আধ ঘণ্টার জন্য হাঁটাহাঁটি বা সাঁতার কাটা, শরীরের হরমোনের ভারসাম্য সঠিক থাকে এবং একই সাথে মানসিক চাপ এবং চুল ঝরে পরা কমায়। তাই নিয়মিত ভাবে এ ধরণের কাজ করার জন্য সুপারিশ করা হয়।
 
১৩. মানসিক চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করুনঃ
চুল ঝরে পরার জন্য মানসিক চাপকে অন্যতম কারণ হিসাবে গন্য করা হয়। এজন্য চুল ঝরে পরা বন্ধের জন্য প্রথমেই মানসিক চাপকে পরাস্ত করার জন্য বলা হয়। মানসিক চাপ কমানোর কয়েকটি প্রচেষ্টার মধ্যে আছে ইয়োগা এবং মেডিটেশন যেগুলিকে মনে করা হয় হরমোনের সঠিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য অন্যতম উপায়।
 
১৪. ঘন ঘন heating and drying থেকে বিরত থাকুনঃ
চুলকে ঘন ঘন heating and drying প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে দিবেন না, কারণ এর ফলে চুলের প্রোটিন কমে যায়। এতে করে চুল দুর্বল হয়ে যায় এবং একে ভঙ্গুর করে ফেলে।
 
১৫. মাথা ঘামতে দিবেন নাঃ
যাদের মাথার চামড়া তেলতেলে হয় তাদের খুসকি সমস্যা হতে দেখা যায়, বিশেষ করে গ্রীষ্ম কালে। এ কারণে মাথা ঘামার কারণে চুলের ঝরে পরার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। খুসকিতে চুল আক্রান্ত হওয়া প্রতিরোধ করতে অ্যালোভেরা এবং নিম সমৃদ্ধ শ্যাম্পু চুলে ব্যবহার করার জন্য সুপারিশ করা হয়। যারা নিয়মিত হেলমেট পরেন তাদেরকে চুল ঝরে পরা সমস্যায় ভুগতে বেশী দেখা যায়। এর কারণ বদ্ধ অবস্থায় মাথার চামড়া ভেজা থাকলে চুলের কোষগুলি বন্ধ হয়ে যায় ফলে চুল ঝরে পরে। হেলমেট পরার কোন বিকল্প না থাকলে মাথায় স্কার্ফ বেধে তারপর হেলমেট পরে চুল ঝরে পরার সমস্যা কমানো যায়।
 
১৬. চুলের স্টাইল পরিবর্তন করুনঃ
Braids এবং ponytails এর মত চুলের স্টাইলে চুল টেনে বাধা হয় ফলে চুলের গোঁড়ার কোষে ক্রমাগত টান পরার ফলে চুল উঠে টাক পরার সম্ভাবনা দেখা দেয়, এ জন্য আপনাকে চুলের স্টাইলের পরিবর্তন করতে হতে পারে।
 
১৭. সুস্বাস্থ্য বজায় রাখুনঃ
চুলের সমস্যা সুস্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত। স্বাস্থ্যবান চুল পাওয়ার জন্য সংক্রমণ, জ্বর বা অন্য কোন অসুস্থতা থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
 
১৮. উপযুক্ত ঔষধের খোজ করুনঃ
কিছু ঔষধ আছে যা শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে যার ফলে চুল ঝরে পরে যেতে পারে। এজন্য ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে সঠিক ঔষধ বেছে নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।
 
১৯. কেমিকেল পরিহার করুনঃ
কিছু কেমিকেলের কারণে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি চুল রং করার রাসায়নিক পন্যের কারণেও অনেক সময় চুল ঝরে পরে যেতে দেখা যায়।
 
২০. নিয়মিত বিরতিতে ডাক্তারের সাথে দেখা করুনঃ
চুল ঝরে পরার একটা কারণ হতে পারে হরমোনের পরিবর্তন যা একটি সুস্থ্যতা সংক্রান্ত বিষয় এবং এর সাথে ত্বকের বিষয়টিও জড়িত। তাই নিয়মিত ডাক্তারের সাথে সকল বিষয় নিয়ে পরামর্শ করার জন্য সুপারিশ করা হয়।

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: গ্যাসের ব্যথা কী করি
Previous Health Tips: উৎসবে ঘুরতে যাওয়ার সময়...

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')