home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

জিংকের ছোঁয়ায় দেহের সৌন্দর্য
২৮ সেপ্টেম্বর, ১৩
Tagged In:  Health Care  
  Viewed#:   382

জিংক বা দস্তা ধাতু হিসেবে সুপরিচিত। সুপরিবাহী ধাতু হিসেবে বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক শিল্পে দস্তার রয়েছে বিশাল কদর। কিন্তু এ ধাতব বস্তুই মানুষের শরীরে স্বল্প পরিমাণে থেকেও স্বাস্থ্য গঠনে কী অপরিমেয় ভূমিকা পালন করে আসছে, তা আমরা হয়তো অনেকেই জানি না। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের অকান্ত গবেষণায় আজ আমরা জানতে পেরেছি, শরীর গঠনে ও রোগ প্রতিরোধে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ভিয়েতনাম, ভারত, জ্যামাইকা, পেরু, পাপুয়া নিউগিনি ও আমাদের দেশের ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ২০ মিলিগ্রাম জিংক খাওয়ানোর ফলে তারা দ্রুত আরোগ্য লাভ করছে। পেরুর লিমায় অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের শতকরা ২৯ জন প্রতিদিন ওই একই মাত্রায় জিংক ব্যবহারে ডায়রিয়া রোগজনিত জটিলতা থেকে সম্পূর্ণভাবে রক্ষা পেয়েছে। এমনকি পুষ্টিহীনতার শিকার শিশুদের মধ্যেও এই পরিবর্তন ছিল লক্ষণীয়। শুধু ডায়রিয়াই নয়, নিউমোনিয়া রোগপ্রতিরোধ এবং রোগ থেকে আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে জিংক দারুণভাবে কাজ করছে।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের প্রতিদিন মাত্র ১০ মিলিগ্রাম জিংক প্রয়োগ করে ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া গেছে। পাপুয়া নিউগিনিতে পরিচালিত গবেষণায় শরীরে জিংকের অভাব রয়েছে এমন লোকজনের মধ্যে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ অপেক্ষাকৃত বেশি দেখা দেয়Ñ এ তথ্যই বেরিয়ে এসেছে। এ ছাড়া শরীরে ঘা শুকাতে, বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ, প্রজননতন্ত্রের বিকাশ সাধনেও জিংকের ভূমিকা যে অপরিহার্য, তা আজ প্রমাণিত হয়েছে। জিংকের জাদুকরী ভূমিকার রহস্য আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থির নাম থাইমাস। গ্রন্থিটি আমাদের গলার কাছে অবস্থান করে। জিংকের অভাব ঘটলে এ গ্রন্থি ক্রমেই শুকিয়ে যেতে থাকে। থাইমাস গ্রন্থির কাজ হলো রোগপ্রতিরোধকারী টি লিস্ফোসাইট কোষগুলোকে আরো পরিণত করে তোলা। থাইমাস গ্রন্থি শুকিয়ে যেতে থাকলে শরীরে টি লিস্ফোসাইটগুলো পরিমাণে কমে যায়। সেই সাথে শরীরের ইম্যুয়ন কার্যক্রম তথা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে যেকোনো রোগে শরীর সহজেই কাবু হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া শরীরের প্রায় তিন শ’ বিভিন্ন রকমের গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম, আমিষ বা প্রোটিন এবং হরমোন তৈরির ক্ষেত্রে জিংক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। জিংকের অভাবে শরীরের অভ্যন্তরের শ্লেষ্মা, ত্বক ও কোষগুলো ভালোমতো বাড়তে পারে না। হরমোন ও প্রোটিন বিনির্মাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকায়ই পর্যাপ্ত জিংক বহনকারী শিশুদের মানসিক বিকলাঙ্গতা ও বন্ধ্যত্বের স্বীকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। ত্বক আর শ্লেষ্মাকে সুগর্বিত করে বিধায় জিঙ্ক কাটা ছেঁড়া এবং ত্বকের ঘা শুকাতে চমৎকার কাজ করে থাকে।

জিংকের ঘাটতি যাদের মধ্যে দেখা দেয় অনেক দিন ধরে তীব্র পেটের পীড়া থাকলে, কিডনির রোগ নেফ্রোটিক সিন্ড্রোমের শিকার হলে, অ্যালকোহলে আসক্তদের শরীর পুড়ে গেলে, ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হলে, শরীর অনেক দিন জরাগ্রস্ত থাকলে এবং ডায়ালাইসিসকৃত রোগীদের শরীরে জিংকের ঘাটতি দেখা দেয়। যেভাবে জিংক আহরণ করবেন একজন মহিলার জন্য জিংকের দৈনিক পরিমিত মাত্রা হলো সাত মিলিগ্রাম, পুরুষের ক্ষেত্রে এ মাত্রা হলো সাড়ে ৯ মিলি গ্রাম। ছোট মাছ, চিংড়ি, বাদাম, শিম, বরবটি, ভুসিসহ গম অথবা যব, জই, গরু বা খাসির কলিজা ও গোশতÑ এসব খাবার হলো জিংকের সহজ উৎস। তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জিংক রয়েছে জলপাই অথবা জলপাইয়ের তেলে। 


সুত্র - দৈনিক নয়া দিগন্ত

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: চুলপাকা সমস্যা
Previous Health Tips: জীবনের জন্য রক্ত পরিশোধন পদ্ধতি ‘ডায়ালিসিস’

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')