টনসিল একধরনের লিমফয়েড টিস্যু, যা মুখগহ্বরের শেষে গলার দুই পাশে অবস্থিত।
কেন টনসিলের সমস্যা হয়?
টনসিলের সমস্যা সাধারণত ইনফেকশনের কারণে হয়। সর্দি-কাশি থাকলে, ঠা-া লাগলে, শ্বাসনালির প্রদাহ থাকলে বা নাকের হাড় বাঁকা থাকলে টনসিলের সমস্যা হয়।
আক্রান্ত হয় বেশি কারা?
টনসিলের সমস্যা সাধারণত বাচ্চাদের বেশি হয়। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদের। এ ছাড়া বড়রাও আক্রান্ত হতে পারে।
ইনফেকশন কী ধরনের হয়?
টনসিলের ইনফেকশন ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়। আবার ভাইরাসজনিত কোনো রোগের পরও হতে পারে। সাধারণত এ রোগটি হেমোলা স্ট্রেপটোকক্কাস দিয়ে হয়ে থাকে। এ ছাড়া স্ট্যাফাইলোর নিউমোকক্কাই বা এইচইনফ্লুয়েঞ্জা দিয়েও ইনফেকশন হতে পারে।
কী চিকিৎসা টনসিলাইটিসের?
টনসিলাইটিসের চিকিৎসা দুই ভাবে করা যায়_
১. ওষুধ সেবন
২. অপারেশন
কিছু নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওষুধের টনসিলাইটিস ভালো হয়ে যায়। যেহেতু টনসিলাইটিস সাধারণ ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন থেকে হয়। তাই উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক যথাযথ মাত্রায় প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
প্রয়োজন হলে কী ধরনের অপারেশন লাগে? এর খরচ কেমন?
যদি কারো অপারেশন লাগে, সে ক্ষেত্রে পুরো অজ্ঞান করে অপারেশন করতে হয়। অপারেশন নানাভাবে করা যায়। ডিসেকশন মেথড, কোবেস্নশন মেথড, লেজারের মাধ্যমেও অপারেশন করা যায়। তবে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে সর্বজনস্বীকৃত পদ্ধতি হলো ডিসেকশন মেথড। আর খরচ নির্ভর করে কোন পদ্ধতিতে করা হচ্ছে এবং কোথায় করা হচ্ছে এর ওপর।
আইসক্রিম খেলে টনসিলাইটিস হয় কি না?
আইসক্রিম খেলেই যে টনসিলাইটিস হয় তা নয়, তবে অনেকের ক্ষেত্রে হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ঠা-াজনিত অ্যালার্জি আছে, তাদের হতে পারে।
টনসিলাইটিস থেকে শিশুদের দূরে রাখার উপায়
শিশুদের টনসিলাইটিস হওয়ার প্রধান কারণ হলো শ্বাসনালির প্রদাহজনিত রোগ। এ জন্য শিশুদের যেন ঠা-া না লাগে সে ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে যাতে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
অ্যাডেনয়েড
এটি এক ধরনের নাসিকাগ্রন্থি, যা নাকের পেছনে গলার উপরিভাগে অবস্থান করে। এটি নাক ও গলার ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
কেন হয়? অ্যাডেনয়েডাইটিস কী?
অ্যাডেনয়েডের ইনফেকশনকে অ্যাডেনয়েডাইটিস বলে। যখন কোনো জীবাণু নাক ও গলা দিয়ে প্রবেশ করতে চায় তখন অ্যাডেনয়েডের গ্রন্থিগুলো জীবাণুকে আক্রমণ করে কারণ অ্যাডেনয়েডের গ্রন্থিগুলো রোগপ্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু কাজটি করতে গিয়ে তারা আকারে বড় হয়ে যায়। আবার নাক, গলা ও টনসিলের ইনফেকশন অথবা অ্যালার্জির কারণে অ্যাডেনয়েড বড় হতে পারে।
লক্ষণ কী?
* নাক বন্ধ হয়ে থাকা। * বিনা কারণেই ঘন ঘন সর্দি লাগা। * কানে কম শোনা বা কানে ব্যথা হওয়া এর প্রাথমিক লক্ষণ। দীর্ঘদিন এ রোগে ভুগলে_ * মুখের অবয়ব পরিবর্তিত হতে পারে। * কান পাকা রোগ হতে পারে। * দাঁত উঁচু হয়ে মুখের সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে। * শিশুদের বুদ্ধিমত্তা কমে যাওয়াসহ মারাত্মক হৃদরোগ ও পালমোনারি হাইপারটেনশন হতে পারে।
বেশি কাদের হয়?
৫-১০ বছর বয়সের বাচ্চাদের বেশি হয়। তবে সব বয়সের মানুষই এতে আক্রান্ত হতে পারে। অ্যাডেনয়েডাইটিসের চিকিৎসা প্রাথমিক পর্যায়ে অ্যাডেনয়েডাইটিস নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসা খুব সহজ হয়। এ ক্ষেত্রে_ * নাক ও মুখের ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হয়। * অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। * নাকের ড্রপ ও অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহার করলে প্রকোপ কমে যায়।
ওষুধে না কমলে অথবা জটিলতা লেখা দিলে অপারেশনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। অপারেশনটি অ্যাডেনয়েডেকটমি নামে পরিচিত। এ বিষয়ে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা বাঞ্ছনীয়।
কী অসুবিধা হয় অ্যাডেনয়েডেকটমি করলে?
অপারেশন লাগবেই এ ধরনের রোগীকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিলে, অপারেশনের পূর্বপ্রস্তুতি ভালো থাকলে তেমন কোনো অসুবিধা হয় না। সাধারণত অপারেশনের পর এক দিনেই রোগী সেরে ওঠে।
সুত্র - যায়যায়দিন

