home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

যদি দাঁত ঝকঝকে চান
২৩ সেপ্টেম্বর, ১৩
Tagged In:  about teeth  
  Viewed#:   706

সুন্দর দাঁত, সুন্দর হাসি আর এই দাঁতের কারণে হাসতে অনেকেই বিব্রতবোধ করে। বিশেষ করে যাদের দাঁত ঝকঝকে ও সুন্দর নয়।

দাঁতে হলদেটে ভাব কেন হয়?

কারো কারো দাঁত জন্মগত কারণেই হলদেটে হয়। যেমন যাদের গায়ের রঙ ফর্সা তাদের দাঁত একটু হলদেটে। যারা শ্যামলা বা কালো তাদের দাঁত সাধারণত একটু বেশি সাদা হয়। এ ছাড়া টেট্রাসাইক্লিন-জাতীয় কিছু ওষুধ সেবনের কারণেও কারো কারো দাঁত হলদেটে হয়, এনামেলের কিছু অসুখেও হলদেটে হতে পারে। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষের দাঁত হলদেটে হওয়ার কারণ এগুলো নয়। তাহলে? যথাসময়ে যথাযথ পরিষ্কারের অভাব। পান, সিগারেট ইত্যাদি সেবন, দাঁত ক্যারিজ বা ক্ষয়রোগ হওয়া, সঠিক নিয়মে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করা, কফি-চা সেবন করার পর পরিষ্কার না করা, আয়রনযুক্ত পানি (সাধারণত টিউবওয়েলের পানি) পান_ এগুলোই দাঁত হলদেটে দেখানোর বড় কারণ।

করণীয় কি?

যেসব অভ্যাসের কারণে দাঁতে দাগ পড়ে যাচ্ছে তা এড়িয়ে চলতে হবে। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করতে হবে। কিন্তু আরো কিছু কাজ আছে যা নিয়মিত করলে দাগমুক্ত ঝকঝকে দাঁত হতে পারে।

ফ্লস করুন

শুধু ব্রাশ নয়, এখন ডেন্টিস্টরা খুব গুরুত্ব দেন ফ্লস করার ওপর। দেখা গেছে, ফ্লস করলে দাঁতের ক্যারিজ হয় খুব কম। ফ্লস হচ্ছে এক ধরনের সুতা, যা দিয়ে দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে আটকে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করা হয়। পেরিওডন্টাইটিস হয়ে দাঁত নড়ে যাওয়ার ঘটনাও কম ঘটে। প্রতিবার খাওয়ার পর ফ্লস করাটা খুব ভালো। তা যদি কোনো কারণে সম্ভব না হয় অন্তত রাতের খাবারের পর ফ্লস করতে হবে। যাদের দাঁতে দাগ বেশি পড়ার প্রবণতা রয়েছে তাদের উচিত প্রতি বেলা খাবারের পর ব্রাশ করা। স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষের সকালের নাশতা আর রাতের খাবারের পর ব্রাশ করা দরকার। এ সঙ্গে দুপুরে খাবারের পর ব্রাশ করতে পারলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে। একই কথা প্রযোজ্য ফ্লস করার ক্ষেত্রেও।

বেশি বেশি করে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি খান

সুস্থ দাঁত থাকলেই কেবল তা ঝকঝকে দেখানো সম্ভব। আর দাঁত সুস্থ ও সবল রাখতে নিয়মিত ব্যালান্সড ডায়েট জরুরি। এ ব্যালান্সড ডায়েটের মধ্যে থাকবে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার। ক্যালসিয়াম ছেলে-বুড়ো সবার দাঁতই মজবুত করতে কাজ করে। ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবারের মধ্যে আছে দুধ, দই, পনির, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, পাউরুটি ও সয়াসমৃদ্ধ খাবার।

ভিটামিন সি দাঁত মজবুত করতে কাজ করে। এতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা টিস্যুর ক্ষতি কমায়। রোগ প্রতিরোধ করে। ভিটামিন সি নিয়মিত খেলে মাড়িতে ব্যাকটেরিয়া সহজে প্রবেশ করতে পারে না, সবুজ শাকসবজি ও ফলমূলে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। পাশাপাশি ফল খাওয়া দাঁতের জন্য অন্যদিক থেকেও উপকারী। যেমন আপেল ও গাজর। এগুলো খেলে দাঁত পরিষ্কার থাকে, ক্যারিজ কম হয়, মুখে থুথুর প্রবাহ ঠিক থাকে।

যাদের মুখে থুথু কম তারা চুইংগাম খেতে পারেন। এতে মুখে থুথুর পরিমাণ বাড়ে। তবে চুইংগামের চিনিও দাঁতের ক্ষতি করে, তাই সম্ভব হলে কম চিনিযুক্ত বা চিনিমুক্ত চুইংগাম খেতে পারলে ভালো।

চা, কফি, জুস ও কোল্ডড্রিংকস থেকে সাবধান

সব ঠিকঠাক আছে তবু কারো কারো মুখের দাঁত ঝকঝকে হয় না। কারণ এ ক্ষতি হয় চিনিযুক্ত যে কোনো খাবার থেকেই। তা সেটা শক্ত হোক, আঠালো বা চকোলেটের মতো হোক। আবার টক যে কোনো খাবারে একটু হলেও এসিড থাকে। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও এতে থাকা এসিড দাঁতের ওপর স্তর (যা এনামেল নামে পরিচিত) ক্ষয় করে। আর এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে ক্যারিজ খুব দ্রুত হওয়ার পায় আর চা ও কফির নিজস্ব হলদেটে ভাব তো রয়েছেই। তাই চা-কফি যারা নিয়মিত পান করেন তাদের দাঁত এ কারণে হলদেটে হয়ে যায় সহজেই।

চিকিৎসার প্রয়োজন

দাঁত সাদা করার টুথপেস্ট দিয়ে সাধারণত এ ধরনের দাগ পরিষ্কার হয় না। আবার কিছু কিছু টুথপেস্টে এত বেশি পরিমাণে দানাদার পদার্থ বা অ্যাবরেসিভ থাকে এগুলো দিয়ে সব সময় দাঁত ব্রাশ করলে বরং এনামেল বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তাই যাদের দাঁতে এরই মধ্যে এ ধরনের হলদেটে ভাব তৈরি হয়ে গেছে, তারা তা বাড়িতে নিজেরা পরিষ্কার করার চেয়ে ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে করানো ভালো। কারণ ডেন্টিস্টের কাছে টুথপলিশ করার পেস্ট ও বিশেষ ধরনের ব্রাশ থাকে। আর তিনি জানেন এগুলো কীভাবে ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষতি হবে না। এ ছাড়া যদি তিনি মনে করেন শুধু পলিশ করলে আপনার দাঁত ঝকঝকে হবে না, প্রয়োজন হবে টুথ বিস্নচিংয়ের এরও ব্যবস্থা করবেন। দাঁত বিস্নচ করলে সাধারণত আগের চেয়ে অনেক বেশি ঝকঝকে হয়।

সুত্র - যায়যায়দিন

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: জন্মগত ত্রুটি এবং করণীয়
Previous Health Tips: টনসিল

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')