home top banner

Health Tip

জরায়ুমুখ ক্যানসার: আগেভাগেই ঠেকানো সম্ভব
05 February,14
Tagged In:  uterus cancer  Cancer prevention  
  Viewed#:   1880   Favorites#:   1

cervical-canceজরায়ুমুখ ক্যানসার বিশ্বব্যাপী নারী-মৃত্যুর অন্যতম কারণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশেও প্রতিবছর প্রায় ১৮ হাজার নারী নতুন করে জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার নারী এই ক্যানসারে মারা যান। জরায়ুমুখে মরণব্যাধি ক্যানসার কারও শরীরে বাসা বাঁধছে কি না, তা বের করা সম্ভব ‘প্যাপ টেস্ট’ নামের একটি পদ্ধতির মাধ্যমে।

‘প্যাপ টেস্টের’ মাধ্যমে জরায়ুমুখের কোষের পরিবর্তন নির্ণয় করা হয়। ব্রাশ অথবা স্পেকুলাম নামের সরঞ্জাম জরায়ুমুখে প্রবেশ করিয়ে জরায়ু থেকে কোষ সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। জরায়ুকোষে যেকোনো ধরনের পরিবর্তন ধরা পড়লেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্রুত সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা শুরু করতে পারেন, যেন ভবিষ্যতে রোগীর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা না থাকে।

যৌন সংস্পর্শ এই রোগ ছড়ানোর প্রধান কারণ। যৌন সক্রিয় প্রত্যেক নারীই তাই এই ঝুঁকির আওতাভুক্ত। যেকোনো নারীর দৈহিক সম্পর্ক শুরুর তিন বছর পর থেকে বছরে একবার ‘প্যাপ টেস্ট’ করা প্রয়োজন। যদি পর পর তিনটি পরীক্ষার ফলাফলে কোনো সমস্যা চিহ্নিত না হয়, সে ক্ষেত্রে প্রতি তিন বছরে একবার প্যাপ টেস্ট করা যেতে পারে। 
মেনোপজ অথবা জরায়ুর আংশিক অপসারণের পরও প্যাপ টেস্ট অব্যাহত রাখা দরকার। 

তবে ৭০ বছরের বেশি বয়স্ক নারীদের জন্য যদি বিগত ১০ বছরে পর পর তিনটি পরীক্ষার ফলাফলে কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে তাঁদের আর প্যাপ টেস্ট করার প্রয়োজন নেই। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ‘প্যাপ টেস্ট’ করা যেতে পারে। পিরিয়ডের সময়টুকু বাদ দিয়ে মাসের যেকোনো দিন আপনি প্যাপ টেস্টের জন্য বেছে নিতে পারেন। তবে পরীক্ষাটির অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে দৈহিক মিলনে বিরত থাকতে হবে।

মনে রাখবেন জরায়ুমুখের ক্যানসার কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) নামের একটি ঘাতক ভাইরাস এই রোগের জন্য দায়ী। সাধারণত বেশির ভাগ জীবদ্দশায় একাধিকবার এইচপিভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হন। একজন নারীর সহজাত প্রতিরোধ ক্ষমতা বা কনডমের ব্যবহার কখনোই এই সংক্রমণের বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে না।

সম্প্রতি জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে অতি কার্যকর টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে। পর পর তিন ডোজ টিকা, নিয়মিত প্যাপ টেস্টের মাধ্যমে স্ত্রিনিং, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং সাবধানতা জরায়ুমুখের ক্যানসর প্রায় পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে পারে।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: কোলেস্টেরলের সহজ সমাধান
Previous Health Tips: ব্যায়াম কেন করবেন

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')