home top banner

Health Tip

মানবদেহের মারাত্মক ও জটিল ব্যাধি
15 December,13
Tagged In:  about cancer  cancer prevent  
  Viewed#:   183

lung-cancer-side-effectsমানবদেহের মারাত্মক ও জটিল ব্যাধির মধ্যে ক্যান্সার অন্যতম। মানবদেহের কোষগুলোর অতিমাত্রায় বুদ্ধি ও আকৃতিগত পরিবর্তনের কারণেই ক্যান্সার নামক রোগটির সূত্রপাত। স্বাভাবিক ভাবেই ক্যান্সার নামক শব্দটি আমাদের কাছে একটি ভীতিকর শব্দ। মরণ ঘাতক হিসেবে এইডসের পরই ক্যান্সারের অবস্থান। দেহের অন্যান্য স্থানের ক্যান্সারের মতো ফুসফুসের ক্যান্সারও একটি ভয়াবহ ব্যাধিই শুধু নয় বরং আরো বেশি মারাত্মক ও জটিল। প্রতি বছর বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। যদিও মহিলাদের চেয়ে পুরুষরাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, ইদানীং মহিলাদের চেয়ে পুরুষের ধূমপানের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় মহিলারাও অধিক সংখ্যক হারে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে।

ফুসফুসের ক্যান্সার কোনো জীবাণু ঘটিত রোগ নয়_ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি থাকলেও এ রোগ থেকে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভের কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। যদি একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে তবে তা থেকে মোটামুটি আরোগ্য লাভ করা যায়। তাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নিরূপণ দুঃসাধ্যই বলা চলে। জীবাণু ঘটিত রোগ না হওয়ায় এর বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রতিরোধক বা প্রতিষেধক আবিষ্কারে বিজ্ঞানীরা সাফল্য অর্জনে সক্ষম হননি। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যতটা সম্ভব প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় ও সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে মৃত্যুহার কমাতে হবে।

এ রোগের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপন্নতা কমানোর চেষ্টা সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরিত হচ্ছে।ক্রমে ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্য অন্যতম দায়ী ধূমপানের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারাও উল্লেখযোগ্য হারে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ধূমপায়ী ব্যক্তিই এরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন বেশি। তবে অধূমপায়ীদের যে এ রোগ হতে পারে না তাকিন্তু নয়। নগরায়নের এ বিশ্বে শিল্প-কারখানা ও গাড়ির নির্গত কালো ধোঁয়াও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ যেমন_ ক্রোমিয়াস, ক্যাডমিয়াম, অ্যাসবেটপস ইত্যাদি এ রোগ সৃষ্টি করতে পারে।ফুসফুসের ক্যান্সারের সৃষ্টিকে অ্যাসবেটপসের প্রভাব এত বেশি যে সমসাময়িককালে জাহাজ শিল্পে অ্যাসবেটপসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বর্তমান উন্নত বিশ্বে পারমাণবিক বর্জ্য ও ক্যান্সারের একটি বড় কারণ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।ভুপাল কিংবা চেরনোবিল গ্যাস দুর্ঘটনার পর বর্তমান সময়ে সেসব অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। ফুসফুসের প্রদাহজনিত রোগ যেমন_ যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া ভালো হওয়ার পর ফুসফুসের আক্রান্ত স্থানে ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগের উপসর্গ বা লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে একরকম হয় না। সাধারণ ভাবে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, কাশি, কাশির সঙ্গে কফ বা রক্ত, শ্বাসকষ্ট, আক্রান্তের দিকে বুকের ব্যথা হালকা, জ্বর, খাদ্যে অনীহা, ওজন হ্রাস ইত্যাদি উপসর্গ বা লক্ষণ নিয়ে হাজির হতে পারে।

অনেক সময় এ রোগ শরীরের অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে রোগী উপরোক্ত লক্ষণগুলোর সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া অঙ্গগুলোর কারণে সৃষ্ট উপসর্গ বা লক্ষণ নিয়েও হাজির হতে পারে। যেমন_ শরীরের ঘাড়ে গলায়, বগলের নিচে চাকার মতো দেখা দিতে পারে, ফুসফুসের আবরণী পর্দায় পানি জমতে পারে, গলায় স্বর ফ্যাসফ্যাসে হতে পারে, অঙ্গগুলোর অগ্রভাগ স্ফীত হতে পারে, রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, প্রস্রাবের সঙ্গে অতিমাত্রায় প্রোটিনযেতে পারে, শরীরের মাংসপেশিগুলো দুর্বল হয়ে যেতে পারে, অনেক স্থানের হাড় দুর্বল হয়ে অল্প আঘাতে ভেঙে যেতে পারে, এমনকি মস্তিষ্কে ছড়িয়ে গেলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

এ রোগ নির্ণয়ের জন্য উপসর্গ বা লক্ষণ রোগের ইঙ্গিতহলে আমরা সাধারণ ভাবে রোগীর কফ পরীক্ষা ও বুকের এক্স-রে করে থাকি।সুনির্দিষ্ট ভাবে রোগ নিরূপণে ব্রংকোসকপি ও সিটি স্ক্যানের সাহায্য নেয়া হয়ে থাকে। চিকিৎসার সুবিধার্থে চিকিৎসকরা এ ব্যাধিটিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগকরে থাকেন। স্মলসেল কারসিনোমা ও নন স্মলসেল কারসিনোমা। বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে সার্জারি, রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি। ননস্মলসেল কারসিনোমা প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা সম্ভব হলে সার্জারির মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করা যায়। এর সঙ্গে রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োগ করলে রোগ নিরাময়ের মাত্রা বা হার অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। তবে স্মলসেল কারসিনোমার চিকিৎসায় সার্জারির বিশেষ কোনো ভূমিকা নেই।কেমোথেরাপি রেডিওথেরাপির মাধ্যমে এর চিকিৎসা দেয়া হয়, যদিও তার ফলাফল আশাব্যঞ্জক নয়।

বর্তমানে টেক্রোটিয়ার নামে একটি নতুন ওষুধ ফুসফুসের ক্যান্সারে চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যান্য কেমোথেরাপির তুলনায় এটি অনেক বেশি ক্রিয়াশীল ও কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পন্ন হলেও অত্যধিক দামি হওয়ায় তা এখনো সাধারণের নাগালের বাইরে। ফুসফুসের ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য নাহলেও এর কারণটি প্রতিরোধযোগ্য। ধূমপান এর অন্যতম প্রধান কারণ। জনসেচতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে ধূমপান প্রতিরোধ করা গেলে এ রোগের উদ্ভবও প্রতিরোধ করা যাবে বহুলাংশে। এছাড়া শিল্প-কারখানায় স্বাস্থ্যসম্মত প্রতিরোধক ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ করলেও ফুসফুসের ক্যান্সার হার অনেক কমিয়ে আনা যাবে। কাজেই সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এ রোগ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সূত্র – যায়যায়দিন.কম

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: ক্যান্সার রোগ নির্ণয়ে পেট সিটি
Previous Health Tips: ডেঙ্গুজ্বর ও তার চিকিৎসা

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')