
২। ঠোঁট, জিহবা কিংবা চিবুকে রিং পড়া
মহিলাদের কান, নাক ফোঁড়ানো এবং অলংকার পড়া বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, জাতির হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য। তবে ইদানিংকালে অল্প বয়সিদের মাঝে কান, নাক ছাড়াও ঠোঁট, জিহবা কিংবা চিবুক ছিদ্র করে অলংকার পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যা স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাদের মতে এতে সৌন্দর্য্য বর্ধনের পরিবর্তে সৌন্দর্য্যহানী ঘটতে পারে। দেখা দিতে পারে বিভিন্ন জটিলতা যেমন ঠোঁট বা জিহবার কিংবা এর আশেপাশের টিস্যুর ইনফেকশন, রক্তপাত, ফুলে যাওয়া ইত্যাদি। কানাডিয়ান ডেন্টাল এ্যাসোসিয়েশন তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে যে ঠোঁট, জিহবা, চিবুকে ইত্যাদি অঞ্চলে অলংকার পড়ার ফলে এসব অঞ্চল সংলগ্ন দাঁত, মিউকোসা (ঠোঁট, জিহবা, চিবুক এর ভিতরের অংশ, স্বাদ গ্রন্থি) ইত্যাদি দীর্ঘমেয়াদী ইনজুরির শিকার হতে পারে, দাঁতে ফ্র্যাকচার হতে পারে, মাঁড়ির ক্ষয় শুরু হতে পারে – শেষ পর্যন্ত দাঁতই হারাতে হতে পারে। যারা একান্তই পড়তে ইচ্ছুক তাদের অবশ্যই কিছু অভ্যাস পাল্টাতে হবে যেমন রিং বা অলংকার কামড়ানো, ভারী অলংকার পড়া, নিয়মিত পরিস্কার না করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।

৩। খেলাধুলার সময় ‘মাউথ গার্ড না পড়া
এথলেটিক, বক্সিং, হকি, ফুটবলসহ বেশ কিছু খেলায় আমরা দেখি পেশাদার খেলোয়াড়েরা মাউথ গার্ড পড়ে নেন। কিন্তু বিভিন্ন বয়সের অপেশাদার, সৌখিন খেলোয়াড়দেরও উচিত যথাযথ মাউথ গার্ড ব্যবহার করা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যে কোন খেলা, যাতে মুখে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেসব ক্ষেত্রে অবশ্যই মাউথ গার্ড পড়ে নেয়া উচিত। বাজারে বিভিন্ন সাইজের, বিভিন্ন দামের মাউথ গার্ড পাওয়া যায়।

৪। বরফের টুকরা চিবানো
কচকচ করে বরফ কিংবা আইসক্রিমের টুকরা চিবানো বেশ মজার হতে পারে, তবে এতে আপনার দাঁতের এনামেল এর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, দাঁতের অগ্রভাগ ভেঙ্গে যেতে পারে। আর আপনার দাঁতে যদি আগে থেকে কোন ‘ফিলিং’ করিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে এরকম অভ্যাসটি কিন্তু আরো ঝুকিপূর্ন হতে পারে। ফিলিং করা দাঁতটা হয়তো ভেঙ্গেই যেতে পারে।
(শেষ পর্বে পড়ুন লজেন্স চোষা, দাঁত বেলচিং করা এবং এসিডিক খাবারের পরপর ব্রাশ করা)

