প্রশ্ন : যে কোনো জয়েন্টেই কি আর্থ্রাইটিস হতে পারে?
উত্তর : আর্থ্রাইটিস সাধারণত প্রতিটি জয়েন্ট কে আক্রমণ করে না, তবে অনেক স্থানে এটা স্থায়ী হতে পারে। আর বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিসের প্রবণতা থাকে বিভিন্ন জয়েন্ট কে আক্রমণ করা অর্থাৎ একেক ধরনের আর্থ্রাইটিস একেক ধরনের জয়েন্ট কে আক্রমণ করে। উদাহরণ স্বরূপ অস্টিও আর্থ্রাইটিসের লক্ষ্য থাকে কোমর, হাঁটু ও হাতের দিকে। আবার আর্থ্রাইটিসের অন্য একটি ধরন গাউট এটার লক্ষ্য থাকে পায়ের বুড়ো আঙুলের দিকে।
প্রশ্ন : জয়েন্ট এত দৃঢ় থাকে কী করে?
উত্তর : মাংস পেশি ও টেনডন (শক্ত ও মোটা তন্তু যা দ্বারা মাংস পেশি হাড়ের সাথে যুক্ত থাকে) জয়েন্ট গুলোকে দৃঢ় থাকতে কিছু ভূমিকা পালন করে।প্রকৃত পক্ষে লিগামেন্ট হলো শক্ত, তন্তুবৎ ফিতা যা একটি অস্থিকে আরেকটি অস্থির সাথে সংযুক্ত রাখে অস্থি সন্ধির চার পাশে ঘিরে থাকে ইলাস্টিক ব্যান্ডের বাসার মতো এবং অস্থি সন্ধিগুলোকে দৃঢ় রাখে।উদাহরণ স্বরূপ হাঁটার কথা ধরা যাক। এটার রয়েছে চারটি লিগামেন্ট, যার কথা ফুট বলাররা, এমনকি অপেশাদার ক্রীড়াবিদরাও ভুল ভাবে হলেও জানেন।কিছু হাড়ের কাঠামো এমন যে, সেই কাঠামোই জয়েন্টগুলো কে একত্রে ধরে রাখে।যেমন কটি ও কাঁধ। এগুলোর নকশা বল ও সকেট ধরনের, যার কারণে এসব জয়েন্ট ঘুরতে পারে।
প্রশ্ন : তাহলে হাড়গুলো কে পরস্পরের ঘর্ষণ থেকে বিরত রাখে কে?
উত্তর : সুস্থ জয়েন্টের ক্ষেত্রে হাড়ের শেষ প্রান্ত কে ঢেকে রাখে শক্তিশালী, রবারের মতো প্রচণ্ড মসৃণ টিস্যু যার নাম কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি। এই তরুণাস্থির কারণে হাড়গুলোতে চলাচলে খুব কম ঘষা লাগে।তরুণাস্থি ছাড়াও জয়েন্টের মুখোমুখি দুই হাড়ের মাঝখানে থাকে শক্তিশালী, তন্তুবৎ, তরল পদার্থ পূর্ণ অস্থিসন্ধির থলে বা জয়েন্ট ক্যাপসুল। ক্যাপসুলের ভেতর দিকের আবরণীর কোষ গুলো তৈরি করে সাইনোভিয়াল মেমব্রেন বা সাইনোভিয়াম।এই কোষগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সাধন করে। এগুলো সাইনোভিয়াল রস নিঃসরণ করে, যা জয়েন্টে গাড়ির ইঞ্জিনে তেল দেয়ার মতো কাজ করে। সাইনোভিয়াল রস অস্থি সন্ধির দুই মুখোমুখি তরুণাস্থির ওপর সর্বদা মাখানো থাকে বলে সচল অবস্থায় তাদের ভেতর ঘর্ষণ কম হয়। এক কথায় বলা যায় সাইনোভিয়াল রস জয়েন্টে পিচ্ছিলতা তৈরি করে ও তরুণাস্থিতে পুষ্টি জোগায়। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হলে সাইনোভিয়াল কোষগুলো মারাত্মক ভাবে এবং স্থায়ী ভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়।
প্রশ্ন : আমি অস্থি সন্ধির ভালো ভালো ছবি দেখতে চাইলে কোথায় দেখতে পাবো?
উত্তর : এ ব্যাপারে আপনি এনাটমির বই গুলো দেখতে পারেন, সেখানে অস্থি সন্ধির ভালো ছবি পাবেন। ব্যক্তিগত ভাবে আমি হেনরি গ্রে-এর এনাটমি অব হিউম্যান বডি বইটির কথা বলব। এটি একটি তথ্য নির্ভর বই। এর নির্ভুলতা বা শুদ্ধতা নিয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই। আপনি এনাটমির যে কোনো বিষয়ে এ বইটির ওপর নির্বিঘে নির্ভর করতে পারেন।
লেখক : আবাসিক সার্জন, সার্জারি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
সূত্র - নয়া দিগন্ত

