home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

রক্তের গ্রুপ ও প্রাসঙ্গিক কিছু তথ্য
১০ অক্টোবর, ১৩
Tagged In:  Health Care  
  Viewed#:   419

মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান উপাদান রক্ত। শরীরের মোট ওজনের শতকরা ৭ ভাগ রক্ত, যার ৯২ ভাগই জলীয় পদার্থ।

ঈষৎক্ষারীয় রক্ত আপাত দৃষ্টিতে একই রকম মনে হলেও আন্তর্জাতিক রক্ত পরিসঞ্চালনসোসাইটির মতে এগুলো ৩২টি ভিন্ন ভিন্ন ভাগে বিভক্ত। এই ভিন্নতার মূল কারণ, রক্তে নানা রকমের এন্টিজেনের উপস্থিতি।

এন্টিজেন হলো সেই পদার্থ যাসুনির্দিষ্ট এন্টিবডির সাথে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আর এন্টিবডি হলো বিশেষ ধরনেরপ্রোটিন (আমিষ), যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে।

৩২টি ভিন্নভিন্ন বিভাজন থাকলেও ব্যবহারিক দিক থেকে রক্তকে প্রধানত ‘এ’, ‘বি’ ‘ও’ এবং ‘আরএইচডি’ এন্টিজেন এই দু’টি উপায়ে ভাগ করা হয়। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়ামানুষের রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন হয় না।

এ বি ও’ রকমের শ্রেণী বিভাজন :
গ্রুপ এ বি :এ ধরনের রক্তের লোহিত কণিকার গায়ে ‘এ’ এবং ‘বি’ এন্টিজেন উপস্থিত থাকে এবংরক্তের জলীয় অংশে ‘এ’ ও ‘বি’ এন্টিজেনের বিরুদ্ধে কোন এন্টিবডি থাকে না।এই গ্রুপের রক্তধারী প্রয়োজনে যে কারও রক্ত নিতে পারেন তবে ‘এবি’ ছাড়া অন্যকাউকে রক্ত দিতে পারে না।

গ্রুপ এ:এই ধরনেররক্তের লোহিত কণিকার গায়ে শুধু মাত্র ‘এ’ এন্টিজেন থাকে এবং রক্তের জলীয়অংশে এন্টিজেন ‘বি’ এর বিরুদ্ধে এন্টিবডি থাকে। এই গ্রুপের রক্তধারী  ‘এ’ এবং ‘ও’ গ্রুপের যে কারো কাছ থেকে রক্ত নিতে পারে এবং ‘এ’  ও ‘এবি’র বাইরেঅন্য কাউকে রক্ত দিতে পারে না।

গ্রুপ বি:বিগ্রুপের ক্ষেত্রে রক্তের লোহিত কণিকার গায়ে শুধুমাত্র ‘বি’ এন্টিজেন থাকেএবং রক্তের জলীয় অংশে ‘এ’ এন্টিজেন বিরোধী এন্টিবডি থাকে। এই গ্রুপের রক্তধারীরা ‘বি’ ও ‘ও’ গ্রুপের রক্ত নিতে পারে এবং ‘এবি’ ও ‘বি’ গ্রুপধারীকেরক্ত দিতে পারে।

গ্রুপ ও:এই গ্রুপের রক্তের লোহিতকণিকার গায়ে ‘এ’ বা ‘বি’ কোন ধরনের এন্টিজেন থাকে না, তবে রক্তের জলীয়অংশে এন্টিজেন ‘এ’ ও এন্টিজেন ‘বি’ বিরোধী এন্টিবডি থাকে। ‘ও’  গ্রুপধারীরা কেবল মাত্র ‘ও’ গ্রুপেরই রক্ত নিতে পারে, কিন্তু যে কোন গ্রুপকেইরক্ত দিতে পারে।

আরএইচ’ পদ্ধতির শ্রেণী বিভাজন:
‘আরএইচ’ পদ্ধতি হলো রক্ত বিভাজনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এই বিভাজন উদ্ভাবনেরক্ষেত্রে কার্লল্যান্ড স্টেইনার ও আলেক জেন্ডার উইনার ‘রেসাস মানকি’ (বানর) ব্যবহার করেছিলেন বলে এর নাম ‘আরএইচ’ পদ্ধতি। কারও রক্তের লোহিতকণিকার গায়ে ‘আরএইচ ফ্যাক্টর/ডি’ এন্টিজেন থাকলে ‘আরএইচ পজেটিভ’ এবং নাথাকলে ‘আরএইচ নেগেটিভ’। অর্থাৎ ‘এবিও’ পদ্ধতির মাধ্যমে কারও রক্তের গ্রুপ ‘বি’ হলে এবং তার রক্তে ‘আরএইচ ফ্যাক্টর/ডি’    এন্টিজেন পাওয়া না গেলে, তার রক্তের গ্রুপ হলো ‘বি নেগেটিভ’ আর যদি ‘ডি এন্টিজেন’ পাওয়া যায় তাহলেতা হবে ‘বি পজেটিভ’। এভাবে ‘এবিও’ এবং ‘আরএইচ’ পদ্ধতি ব্যবহার করে ‘এপজেটিভ/নেগেটিভ’, ‘বি পজেটিভ/নেগেটিভ’,  ও ‘পজেটিভ/নেগেটিভ’ এবং ‘এবিপজেটিভ/নেগেটিভ’ রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করা হয়। প্রসঙ্গত, ‘আরএইচ পজেটিভ’ ধারীরা  ‘আরএইচ পজেটিভ’ ধারীর এবং ‘আরএইচ নেগেটিভ’ ধারীরা ‘আরএইচ নেগেটিভ’ ধারীর সাথে রক্ত বিনিময় করতে পারবেন, যদি তারা ‘এবিও’ পদ্ধতির শর্তের মধ্যেথাকেন।

রক্তের গ্রুপ ও মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য :
বিভিন্নপ্রকারের গবেষণার মাধ্যমে রক্তের গ্রুপের সাথে মানুষের চারিত্রিকবৈশিষ্ট্যের যোগসূত্র খোঁজা হয়েছে এবং সর্বাংশে মিল না হলেও প্রতিটিগ্রুপের মানুষের কিছু কমন বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে যা আলোচনা করা হলো।

ব্লাড গ্রুপ ও :মোট জনসংখ্যার শতকরা ৩৮ ভাগের রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজেটিভ এবং শতকরা ৬ ভাগের ‘ও’ নেগেটিভ। এই ব্লাড গ্রুপের মানুষ স্বচ্ছ দৃষ্টি সম্পন্ন, গভীর মনোযোগী, উচ্চাকাঙক্ষী, স্বাস্থ্যবান, বাকপটু, বাস্তববাদী, রোমান্টিক এবং অত্যন্তবুদ্ধিমান হয়ে থাকে।

ব্লাড গ্রুপ এ :শতকরা ৩৪ ভাগজন গোষ্ঠীর ব্লাড গ্রুপ ‘এ’  পজেটিভ। ‘এ নেগেটিভ’ ব্লাড গ্রুপের লোকসংখ্যা শতকরা ৬ ভাগ। এই ব্লাড গ্রুপের মানুষ গোছগাছ প্রিয়, দক্ষ চাকুরে এবংখুঁতখুতে স্বভাবের হয়ে থাকে, এরা আত্মকেন্দ্রিক, সুবিচারক, শান্ত, নিয়মতান্ত্রিক, বিশ্বস্ত, নিয়মানুবর্তী ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।

ব্লাড গ্রুপ বি :শতকরা ৯ ভাগ জন গোষ্ঠীর ব্লাড গ্রুপ ‘বি পজেটিভ’ এবং ‘বি নেগেটিভ’ এরক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২ ভাগ। এই ব্লাড গ্রুপের মানুষেরা স্বাধীনতচেতা, মেধাবী, নমনীয়, মনোযোগী, স্বাস্থ্যবান, সরল, দক্ষ, পরিকল্পনাবাদী, বাস্তববাদী, আবেগপ্রবণ এবং খুব বেশি রোমান্টিক হয়ে থাকে।

ব্লাড গ্রুপ এবি:শতকরা ৪ ভাগ লোকের রক্তের গ্রুপ ‘এবি’ পজেটিভ এবং মাত্র ১ ভাগ লোকেররক্তের গ্রুপ ‘এ বি নেগেটিভ’। এই ব্লাড গ্রুপের মানুষ সাধারণত সুবিবেচক, বুদ্ধি সম্পন্ন, হিসেবী, পরিকল্পনাবাদী, কৌশলী, সংবেদনশীল, সৎ, কৌশলী, নিরেট এবং খুব চমৎকার সাংগঠনিক হয়ে থাকে।

রক্তের গ্রুপের সাথেবিবাহের যোগসূত্রঃ বিবাহের পূর্বে পাত্র-পাত্রীর রক্তের গ্রুপ জানা বেশগুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে রক্তে ‘আরএইচ’ অসামঞ্জস্যতা সম্পর্কে অনুমান করাসম্ভব হয়। ‘আরএইচ পজেটিভ’ ও ‘আরএইচ নেগেটিভ’ পাত্র-পাত্রীর বিবাহ হলে ‘আরএইচ’ অসামঞ্জস্য হতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর ‘আরএইচ অসামঞ্জস্য’ হলে তাদেরসন্তানের নানা রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি হতে পারে রক্তস্বল্পতা, মারাত্মক জন্ডিস প্রভৃতি রোগ। তাই সন্তান ধারনের পূর্বেইডাক্তারের পরামর্শ নিন।


সূত্র -বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: হাঁটু এবং কনুইয়ের কাল দাগ থেকে মুক্তির কার্যকর ১৫ টি টিপস
Previous Health Tips: আপনি পরীক্ষা করিয়েছেন তো?

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')