home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

পুজোর আগের গ্রুমিং টিপস
০৮ অক্টোবর, ১৩
Tagged In:  skin care  
  Viewed#:   169

সাজগোজ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট এখনকার চলতি হাওয়া। তার ওপর পুজো দোড়গোড়ায়। তাই দেদারকেনাকাটা, আর পুজোর ক'দিন মনভরে সাজগোজ। সেই ফর্মুলা ফলো করে ইতোমধ্যেইকেনাকাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ বার শুধু কাউন্ট ডাউন। তার পর গো অ্যাজ ইউলাইকের মতো যেমন খুশি তেমনটি সেজে বেরিয়ে পড়া! কিন্তু এমনটা করলে পুরো সাজইমাটি হতে পারে বলে মনে করছেন আজকের সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞরা। আসলে যুগটাগ্রুমিং-এর। সেই মাপকাঠিতে চলতি ট্রেন্ডের দামি পোশাক, চোখ ধাঁধানো গয়না বাসাজগোজই শেষ কথা নয়। নিজেকে সবার মধ্যে আলাদা করে তুলে ধরতে চাই আরও বিশেষকিছু। তার জন্য না-ই বা হলেন আপনি ডানা কাটা পরি। থাকতেই পারে চেহারায়অজস্র খুঁত। দরকার এমন কিছু। যা খামতিগুলোকে ঢেকে ফেলবে। সঙ্গে জানতে হবেনিজেকে যথাযথ ভাবে উপস্থাপন করার কায়দা। আর তা আয়ত্তে আনতে না পারলে, নামেরসঙ্গে জুড়ে যাবে 'আনস্মার্ট' বিশেষণ।

গ্রুমিং-ই শেষ কথা গ্রুমিংব্যাপারটা অনেকটা আশির দশকের 'ওগো বধূ সুন্দরী' সিনেমার মতো। বাঁদর নাচদেখানো বস্তির মেয়েটিকে মেজেঘষে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় নামিয়েছিলেনউত্তমকুমার। সেই মাজাঘষাই আজকের গ্রুমিং। গুছিয়ে কথা বলা, শরীরী ভাষারব্যবহার, কতটুকু বলব, কোথায় থেমে যাব ইত্যাদি সব কিছুর মিশেলে নিজেকে ঝকঝকেকরে তোলাই গ্রুমিং-এর নানা পর্ব। এক সময় এই গ্রুমিং ব্যাপারটা ছিলএকচেটিয়া সিনেমা-মডেলিং-সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার জন্য। এখন স্কুলের চাকরিথেকে শুরু করে কর্পোরেট চাকুরে বরের সঙ্গে পার্টিতে যেতেও দরকার হচ্ছেগ্রুমিং। আসলে সৌন্দর্যের সংজ্ঞাটাই যে বদলে গিয়েছে। স্মার্টনেস, ব্যক্তিত্ব আর সুন্দর ব্যবহারেরই জয়জয়কার। তাই গ্রুমিং নিয়ে মাথা ঘামানোটাজরুরি হয়ে পড়েছে। পুজোর দিনগুলিতে তো বটেই, গ্রুমিং দরকার বছরের ৩৬৫টিদিনের জন্য। তাই শুরুটা বরং হয়ে যাক এই পুজোর মরশুমে।

গ্রুমিংয়ের প্রথম পাঠ প্রথমত সাজগোজ। নিজের চেহারা সম্বন্ধে জানতে হবে। কী আমাকে মানায়না, সে সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে জানাচ্ছেন  গ্রুমিং বিশেষজ্ঞরা।প্রয়োজনে পেশাদারদের সাহায্য নিতে পারেন। কারণ এই সাজগোজই অনেকটা মার্কসক্যারি করে, বলছিলেন দ্য ড্রিম মার্চেন্টের গ্রুমার সঞ্চিতা কুশারি। 'শাড়িসালোয়ারে যিনি অভ্যস্ত, ছোট স্কার্টে তিনি নিজেকে মানাতে পারবেন না। শুধুস্কার্টের তলা টানবেন। আবার বেঢপ মোটা চেহারার অনেকেই ঢিলেঢালা পোশাক পরেন।তাতে আরও বেশি মোটা দেখায় তাদের। সেটা তারা ভেবে দেখেন না। তাই সবার আগেদরকার একটা ওয়ার্ডড্রোব'।

নতুন করে কিচ্ছুটি কিনতে হবে না। যা আছেতাই দিয়েই মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করুন। কোথায় যাচ্ছেন সেটাও মাথায় রাখুন।মোদ্দা কথা, পোশাক বাছুন বুদ্ধি খাটিয়ে। আর যা-ই পরুন আগে তা পরখ করেদেখুন,  স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন কি না। জুতো ব্যাগ বা অন্যান্য অ্যাকসেসারিজেরব্যাপারেও একই কথা। মেক-আপ শিল্পী অনিরুদ্ধ চাকলাদার যেমন বললেন, 'অনেককেইদেখি ওয়েস্টার্নের সঙ্গে শাঁখা-পলা পড়তে, বা সুন্দর করে একটা টিপ পরছে।কায়দা করে চুল কাটল, কিন্তু সেটা মেনটেন করার ধার ধারল না। চুলের এক দিকেরকালার উঠেই গেল। বা নেলপলিশের অর্দ্ধেকটা উঠে গেল। তার চেয়ে বরং নেলপলিশনা-ই বা পরলেন। এ রকম ছন্নছাড়া ভাব একেবারই গ্রুমিং বিরোধী'।আর শুধু সাজলেইহবে না। সুন্দর সাজলেন, কিন্তু গা দিয়ে দুর্গন্ধ বেরোলে পুরোটাই মাটি। সেরকম হলে রোজ ফিটকিরি মেশানো জলে স্নান করুন। ডিয়ো-পারফিউম মাস্ট। মুখেরাখুন লবঙ্গ বা ক্লোরোমিন্ট। পুজোর দিনই হোক বা অফিস-ডে সকালের সাজটা সারাদিন ধরে রাখতে জানতে হবে। ব্যাগে রাখুন টিস্যু পেপার, ডিয়ো, চ্যাপস্টিক, আয়না, চিরুণির মতো প্রয়োজনীয় টুকিটাকি। ওয়াশরুমে গিয়ে মাঝে মাঝে এগুলোরসদ্ব্যবহার করে মেক-আপটা ঝালিয়ে নিন। সতেজ ভাবটা ফিরে পাবেন। নিজেকেসারাক্ষণ পরিপাটি করে রাখতে পারলে দেখবেন, কাঁধটা সোজা হয়ে গেছে, আত্মবিশ্বাস বাড়ছে।

নিজের গ্রুমার নিজেই এর পর ভেতরের ঘাটতিগুলোমেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে। ভেতরে ভেতরে আত্মবিশ্বাসের অভাব অনেকেই বোধকরেন।  তার থেকেই অচেনা কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সব কেমন গুলিয়ে গেল।এক ঘর লোকের সামনে কথা বলতে অনেকেরই গলা কেঁপে যায়। আত্মবিশ্বাসের অভাবইএর কারণ। এ ক্ষেত্রে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্র্যাকটিস করতে পারলে সবচেয়েভাল।

দরকারে কারও মুখের দিকে না তাকিয়ে মাথার ওপর দিকে তাকিয়ে কথাবলা রপ্ত করতে হবে। যেন সামনে কেউ নেই। শুনতে কেমন লাগলেও এটাই বাস্তব।সবচেয়ে মজার কথা, অনেক বাঘা বাঘা ঝকঝকে চেহারার এমবিএ-রা এ ভাবেই নিজেদেরতৈরি করেন। আমরা জানতেও পারি না। ভয়েস গ্রুমার বন্দিতা সরকারের কথায়, 'ভেতরকার এ সব ছোট বা বড় ত্রুটি মেরামত করতে কোনও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নামলেখাতে হবে না। নিজের গ্রুমিং নিজেই করুন। দরকার নিজের খামতিগুলো চেনারমানসিকতা। বাড়ির কারও সাহায্য নিতে পারেন। যিনি নিজেকে না রেখেঢেকে আপনারনেগেটিভগুলো ধরিয়ে দেবেন'।

আবেগের ঘরে তালা আবেগ নয়, কথা বলুন মেপে।শুধু পেশাগত জীবনেই নয়, বাস্তবের সঙ্গে পা মেলাতে বশে রাখতে হবে আবেগকে।বসের ঘরে ডাক পড়েছে। বুকের ভেতর উথালপাথাল। গলা শুকিয়ে কাঠ। মুখ শুকিয়েআমসি। মোটেই চলবে না এই সব দেখনদারি। পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, মুখেথাকবে এক চিলতে হাসি। হাসি মুখে ঝুলিয়ে রাখা অভ্যেস করুন। কথাবার্তায় ওশরীরী ব্যবহারে থাকবে পজিটিভ অ্যাটিটিউড। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর একটি মানুষহিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে হবে। ভেতরে যা-ই থাকুক না কেন, বাইরে তুলে ধরুন, আপনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। আত্মবিশ্বাসের অভিনয় করতে করতে তা এক সময় চামড়ারসঙ্গে মিশে যাবে। 


সূত্র - bd-pratidin.com

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: নিজের শরীরে মরণঘাতী কিছু কি বাসা বাঁধছে?
Previous Health Tips: প্রশ্ন : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে রাহনুমা খানম (৩১) লিখেছেন কয়েকদিন থেকে তারঘন ঘন প্রস্রাব হচ্ছে। ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পেলেও প্রস্রাব ঠিকমতো হচ্ছেনা। তলপেটে কিছুটা অস্বস্তি বা ব্যথা আছে। সেই সঙ্গে চুলকানিসহ থকথকে সাদাস্রাব যাচ্ছে। এ সমস্যার সমাধান জানতে চ

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')