home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

কথায় কথায় হাঁচি!
০৬ অক্টোবর, ১৩
Tagged In:  sign of influenza  
  Viewed#:   164

অনেকেই আছেন যারা কথায় কথায় হাঁচি দিয়ে থাকেন। সারাবছরই তাদের হাঁচি-কাশি লেগেই আছে। মূলত অ্যালার্জির কারণেই এরকমটা হয়। হাঁচি হলো একধরনের শারীরিক প্রক্রিয়া। যার মাধ্যমে শরীর থেকে উদ্দীপক বা উত্তেজক বস্তু অপসৃত হয়। অ্যালার্জি আক্রান্ত ব্যক্তিরা উত্তেজক রাসায়নিক পদার্থ যেমন : হিস্টামিন নাক দিয়ে নির্গত হওয়ার সময় হাঁচি দেয়। কিছু স্পর্শকাতর দ্রব্য যেমন ধুলাবালি, পশুপাখি বা ফুলের পরাগের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জি আক্রান্তদের এ সমস্যাটি হয়। সাধারণত বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে ফুলের পরাগের জন্য অ্যালার্জির কারণে হাঁচি হয়। হাঁচির জন্য অ্যালার্জিক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। প্রায় যে কোনো জিনিসই যা নাকে উত্তেজনা সৃষ্টি করে তার কারণে হাঁচি হতে পারে। যেমন - ধুলাবালি, তীব্র গন্ধ, তাপমাত্রার পরিবর্তন, সংক্রামক রোগ।

হাঁচি একটি জটিল প্রক্রিয়া : হাঁচির শুরু নাকের ভেতরে চামড়ার বহিরাংশে উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে এবং এর ফলে নাক ও মুখ থেকে আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণ আকারে বহুল পরিমাণে বায়ু নিঃসরণ। হাঁচির সময় স্নায়ুস্পন্দন নাক থেকে মস্তিষ্কে প্রবাহিত হওয়ার পর অন্যান্য স্নায়ুতে ফিরে আসে যা তলপেট, বুক, মধ্যচ্ছদা, ঘাড় ও মুখমণ্ডলের মাংসপেশি নিয়ন্ত্রণ করে। নাকের শ্লেষ্মা গ্রন্থি ও রক্তবাহী নালিকার ওপরও অনুরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সে জন্য হাঁচি দেওয়ার সময় সাধারণত আমরা চোখ বন্ধ করে ফেলি এবং প্রায়ই পরবর্তীতে নাক দিয়ে সর্দি ঝরে। ঘণ্টায় ১৫০ কি.মি. বেগে ২-৩ মিটার এর মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। তাই হাঁচি জীবাণু ছড়ানোর অতি কার্যকর ও দ্রুত একটি মাধ্যম।

সাধারণ হাঁচির উৎপাদকসমূহ : মাইট, মোল্ড, ফুলের রেণু বা পরাগ, ঠাণ্ডা এবং শুষ্ক আবহাওয়া

ঘরের ধুলো-ময়লা, প্রাণীর পশম এবং চুল, ওষুধসহ কিছু রাসায়নিক দ্রব্য, প্রসাধনসামগ্রী, উগ্র সুগন্ধি বা দুর্গন্ধ, হাঁচি একটি অ্যালার্জিজনিত রোগ, কারও কারও ক্ষেত্রে সামান্য সমস্যা হলেও কারও কারও ক্ষেত্রে দুর্বিষহ জীবন। হাঁচি সম্পর্কিত রোগ হলো অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ও অ্যাজমা।

চিকিৎসা : অ্যালারজেন পরিহার : যখন অ্যালার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় তখন তা পরিহার করলেই অ্যালার্জিজনিত হাঁচি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ওষুধ প্রয়োগ : ওষুধ প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে অ্যালার্জির উপশম অনেকটা পাওয়া যায়। এ রোগের প্রধান ওষুধ হলো এন্টিহিস্টামিন ও নেজাল স্টেরয়েড। এন্টিহিস্টামিন, নেজাল স্টেরয়েড ব্যবহার রোগের লক্ষণ তাৎক্ষণিকভাবে উপশম হয়। যেহেতু স্টেরয়েডের বহুল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, তাই এক নাগাড়ে বেশি দিন ব্যবহার করা যায় না।

অ্যালার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি : অ্যালার্জি দ্রব্যাদি থেকে এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি অ্যালার্জিজনিত হাঁচি থেকে সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। উন্নত দেশগুলোতে এ চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে।


সূত্র -বাংলাদেশ প্রতিদিন

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: জেনে রাখা ভালো
Previous Health Tips: আকস্মিক কিডনি বিকল

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')