home top banner

Health Tip

এই ঋতুতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি কাশি ও অ্যালার্জির প্রবণতা
01 October,13
Tagged In:  sign of influenza  
  Viewed#:   217

বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জেন যেমন ধুলাবালি-ধোঁয়া, ফুলের রেণু কলকারখানার নির্গতবিষাক্ত গ্যাস, গাড়ির ধোঁয়া, বিশেষ কিছু খাবার, ওষুধ ইত্যাদি অ্যালার্জি ওঅ্যাজমার সৃষ্টি করে। যে কোনো সুস্থ ব্যক্তিরও অ্যালার্জি হতে পারে।সামান্য উপসর্গ থেকে শুরু করে মারাত্মক উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে, এমনকিহঠাৎ তীব্র আকারে আক্রমণ করতে পারে। নিউইয়র্কে গবেষকরা বলেছেন, যানবাহনে, রাজপথে হাঁচি উদ্রেককারী অ্যালার্জেন সৃষ্টি করে। ক্যালিফোর্নিয়াইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির মতে, প্রস্তুর ফলক, ইস্টক প্রভৃতি দ্বারা আস্তরকরার পথে বিভিন্ন উৎসাহথেকে কমপক্ষে ২০টি অ্যালার্জেন পাওয়া যায়।ফুটপাতের ধূলিকণাকে বর্ণনা করেন এভাবে যে, এগুলো হচ্ছে মৃত্তিকার ধুলা, গাড়ির গচ্ছিত নিঃশেষিত পদার্থ, টায়ারের ধুলা, গাছপাতার খ- এবং অন্যান্যযৌগিক পদার্থের জটিল সংমিশ্রণ। পথের ধুলা শহরবাসীদের অ্যালার্জি/অ্যাজমায়প্রবলভাবে গ্রহণ করে। কারণ রাজপথ দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন, লোকজন প্রভৃতিরমাধ্যমে এগুলো দ্রুত বেগে বায়ুম-লে মিশে যায়। তাদের মতে শতকরা ১২ ভাগশহরবাসী নিঃশ্বাসের সঙ্গে এমন বায়ু বাহিত অ্যালার্জেন সৃষ্টি করে।

গবেষকদের মতে, রাজপথে খুব নিকটতম বসবাসকারীদর পথের ধুলার সঙ্গেসম্পর্কযুক্ত অ্যালার্জি ও অ্যাজমার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং রাস্তার ১০০মিটারের মধ্যে বসবাসকারী শিশুদের মধ্যে কাশি, হুইজ, রার্নিনোজ এবং নির্ণীতঅ্যাজমার প্রকোপ অধিক। অ্যাজমা এবং অ্যালার্জি নিঃসন্দেহে একটিযন্ত্রণাদায়ক স্বাস্থ্য সমস্যা, তাই অ্যালার্জি ও অ্যাজমা যাতে না হয় সেদিকলক্ষ্য রাখা উচিত। অ্যালার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। কী কারণে এবং কোনকোন খাবারে অ্যালার্জি দেখা দেয় তা শনাক্ত করে পরিহার করে অ্যালার্জি থেকেরেহাই পাওয়া সম্ভব। অ্যালার্জি সৃষ্টি হয় তখন, যখন ইমোনোগোবিন-ই এর পরিমাণরক্তে বেড়ে যায়। যার ফলে অ্যালার্জেন অ্যান্টিবডির বিক্রিয়ার পরিমাণ বেশিহয় এবং এই বিক্রিয়ার ফলে নিঃসৃত হিস্টাসিনের পরিমাণ বেশি হয় যা অ্যালার্জিসৃষ্টি করে। মোটকথা ধুলাবালি, ধোঁয়া, গাড়ির বিষাক্ত গ্যাস, কলকারখানারসৃষ্ট পদার্থ, বৃষ্টিতে ভেজা, শীতের কুয়াশা, ফুলের রেণু, বিশেষ কয়েকটিখাবার যেমন-চিংড়ি, ইলিশ, বোয়াল, গজার, গরুর মাংস, হাঁসের ডিম, পাকা কলা, আনারস, নারিকেল, কসমেটিকস ও অগণিত জানা-অজানা জিনিস আমাদের শরীরে কাশি, শ্বাসকষ্ট অ্যালার্জি ও অ্যাজমার সৃষ্টি করতে পারে।

অ্যাজমা বা হাঁপানি : দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ এবং তার প্রতিসংবেদনশীলতাই অ্যাজমা বা হাঁপানি। এর উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়া হাঁচি, কাশি, বুকে চাপা ভাব, শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণে বাধা।হাঁপানির কারণ : বংশগত এবং পরিবেশগত কারণে হাঁপিানি হলেও এ দুটি উৎপাদনকিভাবে সৃষ্টি করে তা পরিষ্কারভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তবে প্রদাহের কারণেশ্বাসনালি লাল হয়, ফুলে যায়, সরু হয় এবং ইরিটেন্ট বা উদ্দীপক এর প্রতি অতিসংবেদনশীল হয় যার ফলে হাঁপানির উপসর্গ দেখা যায়। নিম্নবর্ণিত বিভিন্নউৎপাদকের কারণে হাঁপানির উপসর্গ সাধারণত দেখা যায়।

হাঁপানি উপসর্গের উৎপাদন (ট্রিগার) সমূহ :

* ইনফেকশন, সাধারণত ভাইরাসজনিত উপসর্গ_ যেমন- কোল্ড, ফ্লু ইত্যাদি

* অ্যালার্জেন বিশেষত ধুলাবালি, পরাগরেণু, গৃহপালিত পশুপাখির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ ইত্যাদি

* ব্যায়াম বা শরীরিক পরিশ্রম, বিশেষত শীতকালে

* আবেগ- যেমন- উত্তেজনা, ভয়, রাগ

* ইরেটেন্ট, প্রধানত বায়ু দূষণ

* ধূমপান (হাঁপানি রোগী নিজে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের ধূমপান পরিহার করতে হবে)।

* আবহাওয়ার পরিবর্তন

* খাবার যেমন- কৃত্রিম রঙ এবং কিছু কিছু খাবার

* ওষুধ_ যেমন- এসপিরিন ও অন্যান্য ঘঝঅওউঝএবং বেটা বকার।

হাঁপানির উপসর্গসমূহ :

* ঘড়ঘড় করে শব্দসহ শ্বাস-প্রশ্বাস,

* শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হওয়া,

* বুকে ব্যথা এবং * কাশি ইত্যাদি।

চিকিৎসা : হাঁপানি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। সঠিক চিকিৎসা এবং ওষুধ ব্যবহারেরমাধ্যমে হাঁপানি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেসব উত্তেজকের (ট্রিগার)কারণে হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে যায় রোগীকে সেগুলো শনাক্ত করতে হবে এবংপরিহার করতে হবে।এছাড়াও সব হাঁপিানি রোগীকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি নজর রাখতে হবে।

* ধূমপান এবং তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে।

* ঠা-া বাতাসহাঁপানির তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। এই সময় ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হবে।

* ব্যায়াম এবং শারীরিক পরিশ্রম নিরুৎসাহিত করা উচিত নয়। ব্যায়াম শারীরিকভালো রাখে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য জটিল রোগ বালাই থেকে শরীরকে রক্ষাকরে। সঠিক ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যায়ামের সময় বা পরে হাঁপানিতে আক্রান্তহওয়ার সম্ভাবনা পরিহার করা সম্ভব।

* বাড়ির পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নরাখতে হবে এবং বাড়িতে অবাধ বিশুদ্ধ বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে।ওষুধ : দু'ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যেমন:

* হাঁপানি প্রতিরোধক ও উপশমকারক হাঁপানি প্রতিরোধক : যেসব ওষুধের ব্যবহার হাঁপানি রোগে আক্রান্ত হওয়া প্রতিরোধ করে তাদের হাঁপানি প্রতিরোধক বলা হয়।দু'প্রকারের ওষুধ হাঁপানি প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে:

* অ্যান্টি ইনফ্লোমটরিওষুধসমূহ : এসব ওষুধ শ্বাসনালির প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হাঁপানিপ্রতিরোধ করে। এ শ্রেণীর বহুল ব্যবহৃত বুসোনাইড, ক্লোমিথাসেন এবংফ্লুটিকাসোন ইত্যাদি। * ব্রুঙ্কোডাইলেটর বা শ্বাসনালি প্রসারক: এসব ওষুধ দ্রুত শ্বাসনালিকে প্রসারিত করে হাঁপানির তীব্রতা বিরোধ করে।হাঁপানি উপশমকারক : ব্রঙ্কোডাইলেটরসমূহ উপশমকারক হিসেবে কাজ করে।ব্রঙ্কোডাইলেটর শ্বাসনালিকে দ্রুত প্রসারিত করে ফলে ফুসফুসে সহজে বায়ুচলাচল করতে পারে এবং এর মাধ্যমে হাঁপানি আক্রান্ত রোগীর উপসর্গ দ্রুত উপশমহয়।দু'ধরনের ব্রঙ্কোডাইলেটর বা শ্বাসনালি প্রসারক আছে, যেমন:

* ক্ষণস্থায়ীব্রঙ্কোডাইলেটর- যেমন: সালবিউটামল। এসব ওষুধ দিনে ৩-৪ বার ব্যবহার করতে হয়।

* দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর যেমন: ব্যামবিউটামল। এসব ওষুধ দিনে একবারব্যবহার করতে হবে। মৃদু বা মাঝারি হাঁপানিতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষণস্থায়ীব্রঙ্কোডাইলেটর (যেমন: সালবিউটামল) ব্যবহার করলে কোনো ধরনের ক্লিনিকালসুবিধা পাওয়া যায় না। তাই এসব ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ীব্রঙ্কোডাইলেটর (যেমন:ব্যামবিউটামল) ব্যবহার করতে হবে।রাত্রিকালীন হাঁপানিতে মোডিফাইড রিলিজড থিওফাইলিরেন বিকল্প হিসেবে ব্যামবিউটামল ব্যবহার করে ভালো সুফল পাওয়া যায়।

হাঁপানির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া :

* অনেক রোগীই হাঁপানি চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলে কিন্তুঅনিয়ন্ত্রিত হাঁপানি আরো ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলে কিন্তুঅনিয়ন্ত্রিত হাঁপানি আরো ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

* গঠিকচিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবহারের মাধ্যমে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ না করলে বয়স বাড়ারসঙ্গে সঙ্গে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং অকেজো হবে।

* শিশুদেরহাঁপানির ঠিকমতো চিকিৎসা না করালে বুদ্ধি ব্যাহত হয় এবং মায়েদের বেলায়গর্ভস্থ ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।হাঁপানি চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া :

* করটিকোস্টেরয়েডের ব্যবহার ওরাল ক্যানডিয়াসিস সৃষ্টি করতে পারে। যেসব রোগীইনহেলারের মাধ্যমে করটিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করে তাদের অস্টিওপোরোসিসপ্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট (যেমন:অসটোক্যাল/অসটোক্যাল জেধার) গ্রহণে করা উচিত।

* থিওফাইলিন এবং এ জাতীয় ওষুধ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং রোগীকে অবসন্ন করে দেয় বলে থিয়োফাইলিনের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদিব্রঙ্কোডাইলেটর যেমন: ব্যামবিউটামল (ডাইলেটর) ব্যবহার করা উচিত।


সূত্র - যায়যায়দিন

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায়
Previous Health Tips: থাইরয়েড হরমোন ও হৃদরোগ

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')