কম ক্যালোরির খাবার; যেগুলো খেলে ওজন বাড়বে না
০২ জুলাই, ১৪
Viewed#: 156

খাবার খাওয়া শেষ করে প্রায়শঃই বলতে হয়... নাহ একটু বেশি খাওয়া হয়ে গেলো। এরপর ওজন কমাতে গিয়ে তারা খাবারের তালিকা থেকে এটা ওটা বাদ দিতে থাকেন। কিন্তু কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে ওজন বাড়বে না। উপরন্তু বেশি খাওয়ার আগেই মস্তিষ্কে বার্তা পাঠাবে... রোসো আর খেওনা। তোমার পেট ভরে গেছে। আর সাথে সাথে একটি তৃপ্তির বার্তাও চলে যাবে মস্তিষ্কে। কি খাবার সেগুলো? কখন খেতে হবে সে খাবার? খাদ্য বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এমন ডজনখানেক খাবারের তালিকা করেছেন যে খাবারগুলো খেলে শরীরকে বাড়তি উপকার করে।
আপেল
ধরা যাক আপেলের কথাই। বাংলাদেশি ফল না হলেও দেশের আনাচে কানাচে মেলে এই ফল। বলা যায় সারাবছরই মেলে। মূল খাবারের আধাঘণ্টা আগে একটি আপেল কেটে খেয়ে নিলে তাতে যে আঁশ আর পানি মিলবে তা মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে রাখবে। ফলে মূল খাবার খেতে গিয়ে বেশি খেয়ে ফেলার হাত থেকে সুরক্ষা পাবেন। সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতে কর্মক্ষেত্রে নিজেকে ফিট রাখতে এই অভ্যাস ভীষণ উপকারী।
ডাল
ডাল আর মটরশুটি জাতীয় খাদ্যের কথা খুব করে বলেন গবেষকরা। মসুরের ডাল, সিমবিচি, মটরশুটি সবকটিই প্রোটিনসম্মৃদ্ধ সুপারফুড হিসেবে পরিচিত। আঁশযুক্ত, বিষনাষক, ভিটামিন বি আর আয়রন সম্মৃদ্ধ এই খাবারগুলো। এই খাবারগুলো খাদ্য তালিকায় বেশি রাখলে অন্য খাবারে লাগাম রাখাও সহজ হবে। ওবিসিটি জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে, খাবারের তালিকায় ডাল থাকলে মানুষ ৩১ শতাংশ বেশি পরিতৃপ্তি নিয়ে খাওয়া শেষ করতে পারে।
মরিচ
মরিচের ঝালে কি দশা হয় তা প্রায় সবারই অভিজ্ঞতায় আছে। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের ম্যাসট্রিচ ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে, খাদ্য তালিকায় মরিচের এই ঝাল খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। অ্যাপেটাইট জার্নালে প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রতিবার খাবারে এক চা চামচের চারভাগের একভাগ মরিচের গুঁড়ো খাবার গ্রহণে পরিতৃপ্তি আনে, কম খেয়েই খুশি যান যে কেউ। গবেষণা আরও নির্দিষ্ট করেছে, খাবারে মরিচ থাকলে মোট ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রা ২৫ ভাগ কমে যায়। আরও একটু খাই, আরও একটু খাই এই মনোভাবই কাজ করবে না।
ডিম
সকাল বেলাটা যদি ডিম দিয়ে শুরু হয়, দুপুরের খাবার খাওয়া পর্যন্ত তার পরিতৃপ্তি থেকে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে কলাম্বিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরির প্রোটিনের শক্তি বিষয়ক গবেষণায় বলা হয়েছে, ৩০০ ক্যালোরির ব্রেকফাস্টে ৩০ থেকে ৩৯ গ্রাম পর্যন্ত আমিষ থাকতে পারে। আর সেক্ষেত্রে ডিমকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে দুপুরের খাবারের আগে পর্যন্ত ক্ষুধাক্ষুধা ভাব দূর করে। কেবল তাই নয়, একটি উচ্চ আমিষ সম্মৃদ্ধ ব্রেকফাস্ট গোটা দিনে মোট ক্যালরি গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
বাদাম
বাদাম আরেকটি দারুণ খাবার যা কম খাদ্য গ্রহণে সহায়তা করে। ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশন এর গবেষণায় দেখানে হয়েছে মোটা হয়ে যাওয়া নারী যদি দেড় আউন্স পিনাট অথবা তিন টেবিল চামচ পিনাট বাটার সহযোগে গমের সিরিয়াল আর এক গ্লাস অরেঞ্জ জুস খেয়ে নেন তাহলে টানা ১২ ঘণ্টা কোনো ক্ষুধাই অনুভব করবেন না। বাদাম প্রকৃতির দেওয়া এক অসাধারণ খাদ্য যা স্যাচুরেটেড ফ্যাটমুক্ত সঙ্গে রয়েছে আমিষ ও পর্যাপ্ত আঁশ। বাদাম মানব দেহে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে এবং হজমে সহায়তা করে।
পানি
স্রেফ পানি খান, ক্ষুধা কমে যাবে। দুইভাগ হাইড্রোজেন ও একভাগ অক্সিজেনে সংমিশ্রনে যে পানি হয় তাও ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করতে পারে। কেন? ক্ষুধা ও তৃষ্ণা এই দুইয়েরই লক্ষণগুলো একইরকম- শক্তি কমে যায়, বিমর্ষ করে দেয়, মস্তিষ্কের সক্রিয়তা কমায়। বিকেলে লম্বাটে আকারের এক গ্লাস পানি খেয়ে বিকেলের খাবার সরিয়ে রাখতে পারেন। মিনিট দশেক অপেক্ষা করলে খাবারগুলোর কথাই ভুলে যাবেন। এতে কয়েকশ ক্যালোরি গলধকরণ করা থেকে মুক্তি মিলবে।
চকোলেট
মিষ্টিজাতীয় খাবারে কার না আগ্রহ! কিন্তু মিষ্টি ক্ষতিকর। তবে মিষ্টি জাতীয় কিছু যদি খেতেই হয় ডার্ক চকোলেট খান। গবেষকরা বলছেন ডার্ক চকোলেট রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে এবং হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়। যারা মিল্ক চকোলেটে অভ্যস্ত তাদের জন্য বার্তা হচ্ছে একবার ডার্ক চকোলেট চেখে দেখুন ভালো লাগবে। মিষ্টি বা নোনতাজাতীয় খাবারের প্রতি আগ্রহও কমে আসবে। আর ডার্ক চকোলেটের একটি বার খেলে মূল খাবারে ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রা ১৭ ভাগ কমিয়ে দেবে।
স্যুপ
স্যুপ উপাদেয় খাদ্য। তবে সেই স্যুপ স্বল্প ক্যালোরির খাবারে তৈরি হতে হবে। কেউ এমন স্বল্প ক্যালোরির একবাটি স্যুপ দুপুরের খাবারের আগে খেয়ে নিলে পুরো খাবারে তার ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রা ২০ ভাগ কমে যেতে পারে। স্যুপ এক ধরনের পরিতৃপ্তি দেয়। ফলে পরে অনেক খাবার না খেয়েও পূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে খাবার শেষ করা যায়।
ঘোল
দুধের ঘোল অনেকেরই প্রিয়। তবে তার খাদ্যগুন জানলে ঘোল স্থান করে নিতে পারে নিত্য দিনের খাবার মেনুতে। বলা হয় ঘোল অন্যতম পেট ভরে রাখার মতো আমিষসম্মৃদ্ধ খাবার। অ্যাপেটাইট জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, এক গ্রাস ঘোল খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর যদি কেউ মূল খাবার খেতে যান তিনি অন্তত ১৮ ভাগ কম ক্যালোরি খাবেন।
ছাতু
যবের গুঁড়া বা ছাতু খেলে দীর্ঘক্ষণ ভরপেট অনুভূতি থাকে। আমেরিকান কলেজ অব নিউট্রিশন এর জার্নালে এ কথা বলা হয়েছে। এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের একদলকে ২৫০ ক্যালোরির ছাতু এবং অন্যদলকে ১১৩ কালোরির দুধ খেতে দেওয়া হয়। এরমধ্যে ছাতু যারা খেলেন তারা ক্ষুধা অনুভব করলেন অনেক পরে। কেন এমন হয়? যবের গুঁড়া বা ছাতুতে উচ্চ মাত্রায় আঁশ ও আমিষ থাকে। অল্প পরিমানেও তা দেয় বড় পরিতৃপ্তি।
অ্যাভোকাডো
নিউট্রিশনাল জার্নালে একটি গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, দুপুরের খাবারে আধাখানেক অ্যাভোকাডো খেয়ে নিলে বিকেলের একটি ভাতঘুমের সমান আরাম মিলবে শরীরে। আর নারীরা খেলেতো কথাই নেই। খাবারের তৃপ্তি পাবে পুরুষের চেয়ে ২২ শতাংশ বেশি। আর অ্যাভোকাডো বিহীন একটি লাঞ্চের পর তিন ঘণ্টার মাথায় হালকা স্ন্যাকস খাওয়ার যে ইচ্ছা তৈরি হয় তা অ্যাভোকাডো থাকলে তা ২৪ শতাংশ কমে যাবে।
পিকেলস
ভিনেগারে ভিজানো বা লবন দিয়ে সিদ্ধ শসা কিংবা বাধাকপি বা অন্যান্য সব্জিতে সল্পমাত্রায় ফ্যাটি অ্যাসিড (এসসিএফএ) থাকে। এবং সাম্প্রতিক গবেষণায় নিউইয়র্ক অ্যাকাডেমি ও সায়েন্সেস দেখিয়েছে, এই খাবারগুলো মূল খাবারের সঙ্গে অ্যাপেটাইজার হিসাবে খাওয়া হলে উদর ও মস্তিস্কের মধ্যে এক ধরনের যোগাযোগ সৃষ্টি করে। এসসিএফএ শরীরে হরমোন সৃষ্টিতে সহায়তা করে আর খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা পৌছে দেয়। ফলে খাদ্য গ্রহণে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ কাজ করে, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।
সূত্র - বাংলানিউস টোয়েন্টিফোর