home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি
২৪ জুন, ১৪
Tagged In:  child care  Child Health  
  Viewed#:   162

baby-constipationছোট্ট মৌমিতা হঠাৎ পেটে ব্যথায় চিৎকার করতে শুরু করল। ব্যথা কমছে না দেখে বাবা নিয়ে গেলেন ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানালেন মৌমিতার কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েছে এবং তা বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে।


আরো বললেন, "আপনার শিশু নিয়মিত মলত্যাগ করছে কিনা এ বিষয়টি আগে থেকেই খেয়াল রাখলে এ সমস্যাটি জটিল আকার ধারণ করতো না।"

বড়দের মতো শিশুরাও কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছরের শিশুরাই কোষ্ঠকাঠিন্যে বেশি ভোগে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যাটি বুঝতে পারে না। তাই বাবা-মায়ের উচিত শিশু কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছে কিনা তা খেয়াল রাখা।

এ সম্পর্কে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এসএম বোরহান উদ্দীন বলেন, "মলত্যাগ করতে শিশুদের যদি বেশি অসুবিধা হয় অথবা বেশি সময় লাগে তবে বুঝতে হবে আপনার শিশু কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগছে। অনেক সময় অসুস্থতার কারণে, কম খাওয়ার কারণে, অপর্যাপ্ত পানি পান করার কারণে শিশুদের সাময়িক কোষ্ঠ্যকাঠিন্য হতে পারে। আবার জন্মগত ত্রুটি, মানসিক প্রতিবন্ধী, শরীরে ক্যালসিয়াম বেশিসহ নানা কারণে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্যের নানা কারণের মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে খাদ্যাভ্যাসজনিত কারণ। এক্ষেত্রে বাবা-মা একটু সচেতন থাকলে শিশু কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থেকে দূরে থাকবে।"

কম আঁশযুক্ত খাবার খেলে কিংবা আঁশযুক্ত খাবার না খেলে, পর্যাপ্ত পানি পান না করলে, পায়খানা চেপে রাখলে অনেক শিশু কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগে। আবার গরুর দুধ খাওয়ার কারণেও কোনো কোনো শিশু কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগতে পারে।

এক্ষেত্রে খাবার-দাবার ও কিছু বিষয় নজরদারিতে রাখলে শিশু খুব সহজেই সুস্থ হয়ে উঠতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা এড়িয়ে চলতে পারবে। তবে জন্মগত কিংবা দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত শিশু কয়েক মাস ধরে মলত্যাগ সমস্যা, বেশ কয়েক দিন পরপর মলত্যাগ হওয়া, পেটে ব্যথা, খাওয়ার প্রতি অনীহা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, পেট ফুলে যাওয়া, শরীরের ওজন কম বাড়া, পেট শক্ত ও ফুলে থাকাসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়।

শিশুকে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূরে রাখতে- যদি খুব ছোট হয়, নিজে নিজে হাঁটতে-চলতে না শেখে তবে তাকে হাত-পা নাড়িয়ে ব্যায়াম করাতে হবে। যদি একটু বড় হয়, নিজে নিজে হাঁটতে পারে তবে তাকে খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ করতে দিতে হবে। তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা অনেকটাই কম থাকবে।

শিশুরা সাধারণত পটিতে মলত্যাগ করে। পটিতে মলত্যাগের ক্ষেত্রে চেষ্টা করতে হবে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিন মলত্যাগ করানোর। এ অভ্যাস করলে শিশু যথাসময়ে মলত্যাগ করার অভ্যাসে রপ্ত হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কম হবে।

একটু বড় যারা নিজে নিজে মলত্যাগ ব্যবহার করতে পারে তাদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখুন প্রতিদিন মলত্যাগ করছে কিনা, মলত্যাগ করতে বেশি সময় নিচ্ছে কিনা। শিশুর কাছেও জেনে নিতে পারেন তার মলত্যাগ করতে কষ্ট হয় কিনা।

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস জরুরি। কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি, তরল খাবার, শাকসবজি, পাকা ফল, বিভিন্ন রকম ফলের শরবত, ইসবগুলের ভূসির শরবত এবং আঁশযুক্ত খাবার খাওয়াতে হবে।

বারবার দুধ খাইয়ে বা ঘুমের মধ্যে ফিডার খাইয়ে পেট ভরিয়ে রাখলে শিশু সবজি খেতে চাইবে না। তাই শিশু যখন ক্ষুধার্ত থাকবে তখন তাকে ফল, সবজি, ভাত, ডাল খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে।

তবে এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস শুধু শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার পরে নয়, শিশুকে নিয়মিত এসব খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তা হলে শিশু সহজেই থাকতে পারবে কোষ্ঠকাঠিন্যমুক্ত।

সূত্র - এসবিএ/এএ

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা
Previous Health Tips: যে ভয়ানক খাবারগুলো কমিয়ে দেয় আপনার বুদ্ধিমত্তা, অথচ আপনি খাচ্ছেন রোজ

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')