
ভ্রমণে, অবসরে, গল্প আড্ডায় আমরা মুখরোচক চিপস বা স্ন্যাকস্ খাই। শিশু থেকে শুরু করে বয়সীরাও খাই অহরহ। অনেক খাবার আছে যেগুলোর শুধুমাত্র সুস্বাদুর কথা চিন্তা করেই আমরা খাই। জানার দরকার মনে করিনা যা খাচ্ছি তা কতটুকো ভাল বা খারাপ ।আমরা কি খাওয়ার সময় কখনো ভেবেছি আলুর চিপসে লুকিয়ে থাকতে পারে প্রাণঘাতী ক্যান্সার এর উপাদান? যে উপাদানের নাম এক্রাইলামাইড বা এক্রিলামাইড (acrylamide)। এই চিপস নিয়ে থেমে নেই বৈজ্ঞানিক গবেষণা। সুইডিস ন্যাশনাল ফুড অথোরিটির গবেষকরা দেয়া তথ্যমতে, আলু এক প্রকার উচ্চ শ্বেতসার সমৃদ্ধ সবজি। আলুর যে পাতলা ফালি চিপস তৈরিতে ব্যবহার করা হয় তা সংরক্ষণে দরকার উচ্চতাপ ও সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ। এই পাতলা ফালি তেলে ভাঁজা হয় অনেক সময় নিয়ে।ফলে খাদ্যগুন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এক্রাইলামাইড জাতীয় জটিল জীবননাশক যৌগ তৈরি হয় ।
এক্রাইলামাইড এমনই এক উপাদান যা খুব দ্রুতগতিতে মানবদেহে ক্যান্সারের বাসা বাঁধতে সহযোগিতা করে। লবন আমাদের শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং ক্ষয় রোধের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত লবন মানুষের শরীরের রক্ত ধ্বংস করার মাধ্যমে রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি করে। অন্যদিকে উচ্চরক্তচাপ এর ঝুঁকিতো আছেই। এই চিপস সুস্বাদু করতে রয়েছে লবনের আধিক্য। দীর্ঘদিন বেশি বেশি লবণ খাওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। কমে আসতে পারে ব্রেনের কর্মক্ষমতা। ফলে মানুষ ঘনঘন সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া ইত্যাদি নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়াও অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ফলে গেঁটেবাত, রিউমেটিক ফিভার, মুখের ঘা, ডায়াবেটিস, মাথাব্যথা, গলগন্ড, গ্যাষ্ট্রিক আলসার, ক্যান্সার প্রভৃতি মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করে।তবে পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় খাদ্যগুণাগুণ বজায় রেখে চিপস তৈরি করা সম্ভব।
যখন তখন শিশুদেরকে আমরা যে চিপস বা স্ন্যাকস্ কিনে দেই তা থেকে আমাদের বিরত হওয়া উচিত।তবে এসব খাবার থেকে যেহেতু দূরে থাকা একেবারে সম্ভব নয় তাই পরবেশক বা প্রস্তুত কারকদেরকে অবশ্যই গুরুত্ব দেয়া উচিত তাদের পণ্যর পুষ্টিগুণের উপরে। কিভাবে চিপস প্রস্তুত করলে পুস্টিগুন থাকবে অটুট রক্ষা পাবে আমাদের শরীর সে দিকে দেয়া উচিত বেশী গুরুত্ব। সুসংহত খাদ্য ব্যবস্থাপনা আমাদেরকে বাঁচাতে পারে নানাবিধ রোগ থেকে।
সূত্র - দৈনিক মানবজমিন

