home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

গর্ভাবস্থার পর দ্রুত মেদ কমাবেন যেভাবে
২৪ মে, ১৪
Tagged In:  reduce fat  weight loss  
  Viewed#:   279

how-to-lose-weight-after-a-baby

গর্ভাবস্থায় যেহেতু বাচ্চার পুষ্টির জন্য বেশি করে খাওয়া লাগে এ কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে পেটে মেদ জমে যায়। একটি বাচ্চা হওয়ার পর আবার বাচ্চা নিতে গেলে শরীরের জমে যাওয়া অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফেলা অনেক জরুরী। গর্ভাবস্থার পর মেদ কমানো কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। 


যদি গর্ভধারণের সময় আপনার ওজন স্বাভাবিক থেকে থাকে এবং গর্ভাকালীন সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার ১১-১৫ কেজি ওজন বেড়ে যায় তাহলে গর্ভাবস্থার পর আপনার মেদ কমিয়ে আগের অবস্থায় যেতে ৪/৫ মাসের বেশি সময় লাগার কথা না যদি আপনি খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখেন ও নিয়মিত ব্যায়াম করেন।

অন্য ক্ষেত্রে আপনার ওজন যদি গর্ভধারণের আগে থেকেই বেশি থাকে তাহলে ওজন কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় যেতে হলে আপনার ১ বছরের মত সময় লাগতে পারে।

ওজন কমানোর জন্য আপনার বাচ্চা হওয়ার ৬ মাস পর থেকেই প্ল্যান করা উচিত। অনেক মহিলার ক্ষেত্রে বাচ্চা হওয়ার ৬ সপ্তাহের মধ্যেই শরীর নিজেই বাড়তি মেদ খানিকটা ছাড়া শুরু করে। বাকি টুকু নির্ভর করে আপনার উপর। তাই বাড়তি মেদ কমানোর জন্য আপনি যা করতে পারেনঃ
 
গর্ভাবস্থার পর খাদ্যাভ্যাসঃ
এই স্বাস্থ্যসম্মত টিপস গুলো আপনার স্বাস্থ্য ঠিক রেখে ওজন কমাতে আপনাকে সাহায্য করবে

প্রতিদিন ঠিক সময়ে খেয়ে নিবেন। নতুন মা রা অনেক সময় ঠিক সময়ে খেতে ভুলে যায়, এর ফলে দেখা যায় শরীরের শক্তি কমে যায়। মনে রাখবেন এর ফলে কিন্তু আপনার ওজন কমবে না। শুধু শক্তিই হারাবেন।
৩ বেলা বেশি করে না খেয়ে সারাদিনে ৫/৬ বার কম করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এর মাঝে হাল্কা নাস্তা করুন ক্ষুধা মেটানোর জন্য।
সকালের নাস্তা কখনই বাদ দিবেন না। অনেকে মনে করে সকালের নাস্তা না করলে বাড়তি মেদ কমানো সম্ভব। তবে এটা ভুল। সকালে খাওয়া খাবার সারাদিনে শরীরের শক্তি যোগাতে সাহায্য করে। এছাড়া সকালে নাস্তা করলে আপনার দিনে ক্ষুধা পাবে কম তাই আপনি খেতেও পারবেন কম।
যখন খাবার খাবেন তখন সময় নিয়ে খাবেন। পেট ভরতে কিন্তু সময় লাগে না। তাই আপনি যদি সময় একটু বেশি নিয়ে অল্প পরিমাণে খাবার খান তাহলে আপনি নিজেকে উপলব্ধি করাতে পারবেন যে আপনার পেট ভরে গেছে। এতে করে আপনার বেশি খাবার নেয়ার সুযোগ কমে যাবে।
কম চর্বি সম্মত দুধ ও দুধের তৈরী খাবার খাবেন। পারলে চর্বি-মুক্ত দুধের তৈরী খাবার খাবেন। 
যখন আপনি নাস্তা খাবেন চেষ্টা করবেন সেখানে বেশি করে ফল ও সবজী রাখতে। আপেল, কমলালেবু, বেরী, কলা, গাজর এসব বেশি করে খাবেন নাস্তার জন্য। এগুলোতে ফ্যাট কম থাকে কিন্তু প্রচুর পরিমাণে তন্ত ও ভিটামিন থাকে।
দিনে ৮-৯ কাপ তরল খাদ্য যেমনঃ ফলের রস, স্যুপ খান। পানি সবচেয়ে ভালো নির্বাচন এ ক্ষেত্রে। পানি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। সোডা, ঠান্ডা পানীয়, কেনা জ্যুস ও যেসব তরল  খাদ্যে চিনি আর ক্যালরি বেশি থাকে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
মসলা জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে সেদ্ধ ও হাল্কা তেলে রান্না করা খাবার খাবেন।
চিনি জাতীয় খাবার ও মিষ্টি খাওয়া যাবে না।

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানঃ 
আপনি যদি আপনার সন্তানকে বুকের দুধ পান করিয়ে থাকেন তাহলে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বেশি জোর দিবেন না। দ্রুত মেদ কমানোর প্রচেষ্টায় থাকলে আপনার বাচ্চা কম দুধ পাবে। দেড় সপ্তাহে ১ কেজি করে ওজন কমলে আপনার বুকের দুধের সরবরাহ ঠিক থাকবে। 

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শরীরের ক্যালরি পুড়তে থাকে। তাই এটি আপনার অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করবে। আপনি যদি ধৈর্য্য ধরতে পারেন তাহলে আশ্চর্য হয়ে যাবেন যে শুধু বুকের দুধ পান করিয়েই আপনি অনেক ওজন কমিয়ে ফেলেছেন।
 
ক্র্যাশ ডায়েট একেবারেই মানাঃ
ওজন কমানোর লক্ষ্যে ভুলেও ক্র্যাশ ডায়েটে (পরিমিত না খাওয়া) যাবেন না। এতে অল্প সময়ে আপনার ওজন অনেক খানি কমে গেলেও পরে খাদ্যাভ্যাস আগের মত করলে আবার ওজন বেড়ে যাবে ও শরীরেরও ক্ষতি হবে।
 
বাস্তববাদী হউনঃ
অনেক চেষ্টা করার পরও দেখা যেতে পারে যে আপনি গর্ভাবস্থার পর খানিক ওজন কমাতে পারলেও আপনার শেপ আর আগের মত হয় নি। এর কারণে হতাশ হবেন না। কেননা অনেক মহিলার ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা শরীরে এমন কিছু বদল আনে যা আর ঠিক করা যায় না। আপনার পেটের চামড়া ঝুলে যেতে পারে, নিতম্ব চওড়া হতে পারে, কোমরের মাপ বেড়ে যেতে পারে। এরকম হলে এই অবস্থাতেই কিভাবে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলবেন সেটি নিয়ে ভাবুন।
 
ব্যায়ামঃ
স্বাস্থ্যকর খাদ্যের সাথে ঠিকমত ব্যায়াম করাই গর্ভাবস্থার পর দ্রুত ওজন ও মেদ কমানোর সবচেয়ে সঠিক পন্থা। প্রতিদিন একটু করে ব্যায়াম করুন। যখন দেখবেন আপনার মেদ কমা শুরু হয়েছে তখন থেকে প্রতিদিন একটু করে খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কমিয়ে দিন ও একটু বেশি নড়াচড়া করা শুরু করুন। কঠোর রুটিনের মধ্যে ফেলাটা খুব কষ্টের হবে তবে একবার যদি এটি করতে পারেন তখন আর খারাপ লাগবে না রুটিনের মধ্যে থাকতে। আবার খেয়াল রাখবেন শরীরের প্রতি যেন বেশি কঠোরও হয়ে না যান। প্রতিদিন বাচ্চাকে ট্রলারে নিয়ে ২০-৩০ মিনিট হেঁটে আসলে আপনার ও আপনার বাচ্চার মন যেমন ভালো হবে আপনার স্বাস্থ্যও আরও ভালো হবে। 

এছাড়া বাসায় বসে প্রতিদিন বেসিক ক্রাঞ্চ করতে পারেন। ওজন কমাতে বেশ ভালো কাজ করবে এটি। যেভাবে করবেন,

-মেঝে বা শক্ত বিছানায় সোজা হয়ে ও হাঁটু বাকিয়ে শুয়ে পড়ুন (ছবি থেকে ধারণা নিন)

-হাত দুটি মাথার পেছনে রাখুন যেন আপনার হাতের বুড়ো আঙ্গুল কানের পেছনে থাকে (আঙ্গুল গুলো একটি আরেকটির সাথে পেচিয়ে রাখবেন না)

-এবার কনুই এর উপর মাথা ভর দিয়ে কাঁধ মেঝ থেকে ১/২ ইঞ্ছি উত্তোলন করুন। এ সময় ঘাড় সোজা ও চিবুক উঁচু রাখবেন

-৩/৪ সেকেন্ড এভাবে থেকে ধীরে আবার মেঝে কাঁধ নিয়ে আসুন 

-১৫/২০ বার পুনরাবৃত্তি করুন প্রক্রিয়াটি
 
basic-crunch

পেটের মেদ কমানোর জন্য বেসিক ক্রাঞ্চ খুবই কার্যকরী। এছাড়া আপনার শরীরের অবস্থার উপর ভিত্তি করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আরও বিভিন্ন ধরণের ব্যায়াম করতে পারেন।

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: জেনে নিন আন্ডার আর্মের কালো দাগ দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায়
Previous Health Tips: প্রতিদিন একটি আমলকীর ২০টি উপকারিতা

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')