৫ উপায়ে বুঝুন হার্ট-অ্যাটাকে আক্রান্ত কিনা ও যা করবেন
14 May,14
Viewed#: 351

হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হলেও, অনেক সময় তা বুঝে উঠতে বেশ দেরি হয়ে যায়। ফলে, আর কিছুই করার থাকে না। চিকিৎসকের কাছে শুনতে হয়, আরেকটু আগে ভর্তি করালে রোগীকে হয়তো বাঁচানো যেতো। কথাটা যে তারা অকারণে বলেন, তেমনটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কিন্তু নয়। ৪০ বছর বয়সের বেশি মানুষের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হারটাই সবচেয়ে বেশি। তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীকে সময়মতো সঠিক হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে দেরি হয়ে যায়। এই হাসপাতাল থেকে বললো, ওই হাসপাতালে নিয়ে যান।
এভাবে মূল্যবান সময়টা হারিয়ে ফেললেন আপনি। শেষ পর্যন্ত সঠিক হাসপাতাল ও হার্ট-বিশেষজ্ঞের খোঁজ পেলেন। কিন্তু, চিকিৎসক আপনার প্রিয় মানুষটিকে মৃত ঘোষণা করলো। এই সময়টা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১ মিনিটও বাজে নষ্ট করার সময় তখন রাখা উচিত নয়। এজন্য সবসময়ই জরুরি ফোন নম্বরগুলো একটি ডায়েরি বা ফোনবুকে ও মোবাইলে লিখে রাখুন। মোবাইল হারিয়ে গেলে বা খুঁজে না পেলে, আপনার ফোনবুক তখন হবে একমাত্র ভরসা। তাছাড়া ডায়েরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ফোন-নম্বরগুলো লেখা থাকে। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সঙ্গে সঙ্গে পেলে ভাল। না হলে, যে কোন যানবাহনে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
আপনার বাড়ির কাছে হার্টের মানসম্মত হাসপাতাল সম্পর্কে অবগত থাকাটা বেশ জরুরি। প্রয়োজনের সময় এই বাড়তি খাটনিটুকুই আপনার প্রিয়জনের প্রাণ বাঁচাতে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। হার্টে যখন পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়, তখন হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয় মানুষ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে পারেন কোন ব্যক্তি। রক্তবাহী ধমনীতে হঠাৎ রক্ত জমাট বেঁধে গিয়ে হার্টে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হতে পারে ও হার্ট অক্সিজেন বঞ্চিত হয়। যার ফলে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়। হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হলে বোঝার কয়েকটি উপায় আছে।
নিচের লক্ষণগুলো দেখলে উদাসীনতায় মূল্যবান সময় হারাবেন না: 
১) বুকে যদি ভীষণ যন্ত্রণাবোধ করেন ও শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয় বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বিষয়টাকে মোটেই হালকাভাবে নেবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অনেক সময় পেটে জমা গ্যাস ওপরের দিকে ওঠার চেষ্টায় বুকে ধাক্কা দিতে পারে। সেক্ষেত্রেও একই ধরনের অনুভূতি হতে পারে। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে খানিকটা মুড়ি ও অল্প পানি খেয়ে নিন। প্রয়োজনে গ্যাসের একটি বা দুটি ট্যাবলেটও খেয়ে দেখতে পারেন। গ্যাসের কারণে এমনটা হলে, তাতে অনেকটা আরামবোধ করবেন। তারপরও অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করিয়ে নিন।
২) ভীষণ অবসাদ ও ক্লান্তিও হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণসমূহের একটি।
৩) কাঁধ, ঘাড় ও হাতের মাংসপেশীতে যন্ত্রণা ছড়িয়ে যাওয়াও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ।
৪) সাধারণভাবে যে রকম ঘাম হয়, তাতে যদি হঠাৎ করে পরিবর্তন আসে, হাতের তালু ঘামতে শুরু করে ও মাথা ঘোরার অনুভূতি হয়, তবে সাবধান।
৫) অনেক সময় বদহজমের অনুভূতির সঙ্গে দুই বাহুতে ব্যথা বা শক্ত শক্তভাব, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা বা স্বভাবিকভাবে দম নিতে কষ্ট হওয়া এবং চোয়াল ব্যথাও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে।
ওপরে বর্ণিত লক্ষণসমূহ দেখা দিলে, আপনার উচিত হবে অবিলম্বে সঠিক হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া ও স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করানো। মনে রাখবেন, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা এবং আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত, পর্যাপ্ত পূর্ব-প্রস্তুতি, সচেতনতা ও প্রয়োজনের সময় দ্রুত পদক্ষেপই পারে আমাদের আপনজনদের প্রাণ বাঁচাতে।
সূত্র - দৈনিক মানবজমিন