পেশাদার বা শৌখিন খেলোয়াড়দের মাঝে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় বা সামনে ঝুঁকে কাজ করার সময়ও জয়েন্ট আঘাত প্রাপ্ত হতে পারে। গোড়ালি, হাঁটু, কটি, কাঁধ, কনুই, মেরুদণ্ড ও আঙুলের জয়েন্টে আঘাত বেশি লাগে।
উপসর্গ :
* প্রথমে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, পরে সেই ব্যথা কমে আসে।
* জোড়া নড়াচড়া করলে ব্যথা বেড়ে যায়।
* আঘাতের প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে বা ২-৩ ঘণ্টা পর জোড়া ফুলে যায়।
* ফোলা ও ব্যথার জন্য মুভমেন্ট করা যায় না।
* দাঁড়াতে বা হাঁটতে চেষ্টা করলে মনে হবে জোড়া ছুটে যাচ্ছে বা বেঁকে যাচ্ছে।
* আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তি ‘পপ’ বা ‘ক্র্যাক’ শব্দ শুনতে বা বুঝতে পারে।
* বেশিক্ষণ বসলে, হাঁটু বা পা জোড়া করতে কষ্ট হয় বা আটকিয়ে যায়।
* আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার অনেক দিন পর জোড়া ফুলে যেতে পারে, ধীরে ধীরে সেই ফোলাভাব কমে আসে। এক সময় ভালো হয় এবং কিছুদিন পর আবার ফুলে ওঠে- এভাবে চলতে থাকে।
* দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরি থাকলে পেশি শুকিয়ে যায় এবং জোড়ায় শক্তি কমে যায়।
* উঁচু নিচু জায়গায় হাঁটা যায় না, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করতে এবং বসলে উঠতে কষ্ট হয়।
* কাঁধ ও কনুই ইনজুরির জন্য কাত হয়ে ঘুমানো, পিঠ চুলকানো, জামার বোতাম লাগানো, চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়ানো ও হাত দিয়ে ওজন তোলা যায় না।
জরুরি চিকিৎসা :
জোড়াকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।
বরফের টুকরা টাওয়ালে বা ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি প্লাস্টিকের ব্যাগে নিয়ে লাগালে ব্যথা ও ফোলা কমে আসবে। প্রতি ঘণ্টায় ১০ মিনিট বা দুই ঘণ্টা পর পর ২০ মিনিট অনবরত লাগাতে হবে। এ পদ্ধতি আঘাতের ৪৮-৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত চলবে।
জোড়ায় ইলাসটো কমপ্রেসনবা স্পিন্ট ব্যবহারে ফোলা ও ব্যথা কমে আসে।
জোড়ার নিচে বালিশ দিয়ে উঁচু করে রাখলে ফোলা কম হবে।
কোমরে সাপোর্ট বা কোরসেট ব্যবহার করতে হবে।
এনালজেসিক বা ব্যথানাশক ও দরকার হলে এন্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করতে হবে।
হাড় ভাঙলে বা জোড়া স্থানচ্যুতি হলে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।
চিকিৎসা :
প্রাথমিক চিকিৎসায় রোগীর ব্যথা ও ফোলা সেরে ওঠার পর, জোড়ার বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো লিগামেন্টে, পেশিতে বা মেনিসকারে ইনজুরি রয়েছে কিনা তা নির্ণয় করতে হবে। কখনও কখনও এক্স-রে ও এমআরআইয়ের সাহায্য নিতে হয়।
সূত্র – যুগান্তর.কম

