home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

কুমড়ো বীচিতে কৃমি নাশ
২১ মে, ১৩
View in English

যতই কুমড়ো খাই আর কাউকে কুমড়ো পটাস বলে গালি দেই না কেনো, কুমড়োর বীচি যে কত কাজের জানেন কী? হ্যাঁ! কুমড়ো বীচি আপনার পেটের কৃমিকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে সক্ষম। আর কে না জানে কৃমি মানুষের পেটের একটি পরিচিত উপদ্রব। কুমড়ো বীচি কিভাবে কৃমি তাড়ায় তা’ জানার আগে চলুন ঐসব পরজীবী সম্পর্কে কিছু জেনে নেয়া যাক।

কৃমি জাতীয় পরজীবীরা মানুষের শরীরে দূষিত পানি বা খাদ্যের মাধ্যমে প্রবেশ করে। এছাড়া মশার কামড়, যৌনমিলন বা অন্তরংগ সংস্পর্শ, ভিজা স্যাঁতস্যাঁতে নোংরা মাটি বা কোন সংক্রমিত পশুর নাক-মুখ স্পর্শ করার পর ঐ হাত বা আঙ্গুল নাকে বা মুখে দেয়া বা কোন কিছু ধরে খাওয়ার মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।

সাধারনত একজন সুস্থ-স্বাভাবিক লোকের দেহ এমনিতেই এসব পরজীবী ভালভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম। কিন্তু যখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বা কমে যায় এবং পরিপাক ক্রিয়া যখন খুব দুর্বল থাকে বা হয়, তখন এইসব পরজীবীরা বিশেষ করে অন্ত্রের কৃমিরা আমাদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে আর পরবর্তিতে সুস্পষ্ট কিছু রোগ লক্ষণের মাধ্যমে বিপদে ফেলে দেয়।

সাধারন কিছু পরজীবী সংক্রমন লক্ষণ

ঢেঁকুর ও গ্যাসের সমস্যা, ঘন ঘন ডায়ারিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), দুর্বল লাগা, এলার্জি, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ইত্যাদি সাধারনত কৃমি জনিত রোগ লক্ষণ। আপনি যদি এসব রোগ লক্ষণে ভোগেন, তাহলে আপনার জন্য ভাল হবে দেরী না করে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেয়া।

পরজীবী থেকে পরিত্রান মেলে কুমড়ো বীচিতে

বহুকাল থেকেই মানুষ কুমড়ো বীচিকে কৃমিনাশক হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু যেটি জানা প্রয়োজন তা’ হল কুমড়ো বীচি কৃমিকে মেরে ফেলতে পারে না। আসলে কুমড়ো বীচিতে থাকা উচ্চ মাত্রার কিউকারবিটিনস এবং অন্যান্য অসনাক্তকৃত উপাদানসমূহ কৃমিকে অবশ করে দেয়। যা তাদেরকে পাকস্থলি কিংবা অন্ত্রের দেয়ালে আটকে থাকতে দেয় না। ফলে তারা মলের সাথে বাইরে বেরিয়ে যায়।

দ্রুত ও কার্যকর ফল লাভের জন্য কুমড়ো বীচি দিয়ে কৃমি তাড়াতে কিছু কঠোর নিয়ম পালন করতে হবে। যেমনঃ

১। ২০০ গ্রাম ভাল মানের কুমড়ো বীচি ব্লেন্ডার করে (যা প্রায় এক কাপের মত হবে) পেস্টের মত করে রাখুন। খাঁটি মধু বা গুঁড় এর সাথে মেশাতে পারেন।

২। এর সাথে অল্প দই মেশাতে পারেন।

৩। সকালে খালি পেটে খান। এটা খেতে সত্যিকার অর্থেই সুস্বাদু।

৪। কুমড়ো বীচির মন্ড বা দই খাওয়ার প্রায় এক ঘন্টা পর বড় গ্লাসে এক গ্লাস পানি খান। আরো ঘন্টাখানেক পরে পানি আরো খান।

৫। ল্যাক্সাটিভ হিসাবে খেতে পারেন ত্রিফলা। ত্রিফলা বা ত্রিফলা গুড়া পানিতে ভিজিয়ে খেতে পারেন। পরিমানে একটু বেশি খেলে তা আপনাকে তাড়াতাড়ি বাথরুমে নিয়ে যাবে এবং অবশ হওয়া কৃমিদের পায়খানার সাথে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

৬। ভাল ফলাফল পেতে ২/৩ দিন একনাগাড়ে এভাবে খেয়ে যান। আর একটানা সাতদিন ধরে খেলে অবশ্য ল্যাক্সাটিভ খাওয়ার তেমন প্রয়োজন পড়ে না।

 

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: The Surprising Health Benefits of Papaya Seeds
Previous Health Tips: Autism, Down Syndrome, & Dementia

আরও স্বাস্থ্য টিপ

ডালিমের পুষ্টিগুণ

ডালিম মজাদার ও পুষ্টিকর ফল, যা বছরের প্রায় সব সময়ই পাওয়া যায়। ডালিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস যা কমলা, আপেল ও আমের চেয়ে চারগুণ বেশি। আতা ফল ও আঙুরের চেয়ে দ্বিগুণ, কুল ও আনারসের চেয়ে সাতগুণ বেশি। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি একশ’ গ্রাম আহার উপযোগী ডালিমে রয়েছে শর্করা ১৪.৫ গ্রাম, প্রোটিন... আরও দেখুন

ঘরোয়াভাবে ব্ল্যাক ও হোয়াইট হেডস তুলুন

ঘরোয়াভাবে ব্যাথাহীন ও সহজ ভাবে ব্ল্যাক ও হোয়াইট হেডস তুলুন একদম নিরাপদে। পার্লারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন নেই বাড়তি টাকা খরচের। ছেলে মেয়ে উভয়েই এই সমস্যায় আক্রান্ত হয় তাই উভয়ের জন্যই এটা উপকারী! উপকরণঃ ১টা ডিমের সাদা অংশ ১/২ লেবুর রস ১ চা চামচ মধু পদ্ধতিঃ * প্রথমে মুখে গরম... আরও দেখুন

প্যারাসিটামল থেকে সাবধান!!!

জ্বরের সব থেকে কার্যকর ও সুরক্ষিত ওষুধ হিসেবে সারা বিশ্বেই সমাদৃত প্যারাসিটামল। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, প্যারাসিটামল শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। এমনকি গর্ভস্থ ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশেও ভয়াবহ ভূমিকা নিতে পারে প্যারাসিটামল। ভারতের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি... আরও দেখুন

যে ৭টি ভুল ধারণার কারণে ওজন বাড়ছে!

বাড়তি ওজন নিয়ে ঝামেলার শেষ নেই। মার্কেটে ঘোরাঘুরির সময় একটি পোশাক পছন্দ হলো কিন্তু পোশাকটি পরতে পারবেন না, কিংবা ইচ্ছে হলো একটুখানি পছন্দের খাবার খাবেন কিন্তু শরীরের দিকে তাকিয়ে খাওয়া আর হলো না। এই ধরণের ঝামেলার মূল কারণ হচ্ছে বাড়তি ওজনটুকু। ওজন নিয়ে কে কী মনে করলো কিংবা কে কী বললো তা হয়তো... আরও দেখুন

শরীরে পানিশূন্যতার কারণ ও করণীয়

গরমে শরীর বেশি ঘামতে থাকে আর ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায় পানি ও লবণ৷ অতিরিক্ত পানি হারিয়ে কখনো কখনো শরীর হয়ে পড়তে পারে পানিশূন্য৷ প্রচণ্ড গরমে বৈরী আবহাওয়ায় কাজ করতে গেলেও এমন হতে পারে৷ এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ৷... আরও দেখুন

শিশুর জন্মগত হৃদরোগ সমস্যা ও করণীয়

পৃথিবীতে প্রতি হাজার জীবিত নবজাতকের মধ্যে ৪ থেকে ৮ জনকে এ রোগে ভুগতে দেখা যায়। নবজাতকের জন্মগত হৃৎত্রুটির মধ্যে অন্যতম হলো হৃৎপিন্ডের ফুটো। সাধারণত হৃৎপিন্ডের দুনিলয়ের মধ্যবর্তী দেয়ালে ফুটো থাকলেই বাচ্চারা অধিক হারে ঠান্ডা-কাশির রোগে ভুগতে পারে। আর যদি তার সঙ্গে হৃৎপিন্ডের গঠনেও ত্রুটি দেখা যায়,... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')