যতই কুমড়ো খাই আর কাউকে কুমড়ো পটাস বলে গালি দেই না কেনো, কুমড়োর বীচি যে কত কাজের জানেন কী? হ্যাঁ! কুমড়ো বীচি আপনার পেটের কৃমিকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে সক্ষম। আর কে না জানে কৃমি মানুষের পেটের
একটি পরিচিত উপদ্রব। কুমড়ো বীচি কিভাবে কৃমি তাড়ায় তা’ জানার আগে চলুন ঐসব পরজীবী সম্পর্কে কিছু জেনে নেয়া যাক।
কৃমি জাতীয় পরজীবীরা মানুষের শরীরে দূষিত পানি বা খাদ্যের মাধ্যমে প্রবেশ করে। এছাড়া মশার কামড়, যৌনমিলন বা অন্তরংগ সংস্পর্শ, ভিজা স্যাঁতস্যাঁতে নোংরা মাটি বা কোন সংক্রমিত পশুর নাক-মুখ স্পর্শ করার পর ঐ হাত বা আঙ্গুল নাকে বা মুখে দেয়া বা কোন কিছু ধরে খাওয়ার মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।
সাধারনত একজন সুস্থ-স্বাভাবিক লোকের দেহ এমনিতেই এসব পরজীবী ভালভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম। কিন্তু যখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বা কমে যায় এবং পরিপাক ক্রিয়া যখন খুব দুর্বল থাকে বা হয়, তখন এইসব পরজীবীরা বিশেষ করে অন্ত্রের কৃমিরা আমাদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে আর পরবর্তিতে সুস্পষ্ট কিছু রোগ লক্ষণের মাধ্যমে বিপদে ফেলে দেয়।
সাধারন কিছু পরজীবী সংক্রমন লক্ষণ
ঢেঁকুর ও গ্যাসের সমস্যা, ঘন ঘন ডায়ারিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), দুর্বল লাগা, এলার্জি, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ইত্যাদি সাধারনত কৃমি জনিত রোগ লক্ষণ। আপনি যদি এসব রোগ লক্ষণে ভোগেন, তাহলে আপনার জন্য ভাল হবে দেরী না করে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেয়া।
পরজীবী থেকে পরিত্রান মেলে কুমড়ো বীচিতে
বহুকাল থেকেই মানুষ কুমড়ো বীচিকে কৃমিনাশক হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু যেটি জানা প্রয়োজন তা’ হল কুমড়ো বীচি কৃমিকে মেরে ফেলতে পারে না। আসলে কুমড়ো বীচিতে থাকা উচ্চ মাত্রার কিউকারবিটিনস এবং অন্যান্য অসনাক্তকৃত উপাদানসমূহ কৃমিকে অবশ করে দেয়। যা তাদেরকে পাকস্থলি কিংবা অন্ত্রের দেয়ালে আটকে থাকতে দেয় না। ফলে তারা মলের সাথে বাইরে বেরিয়ে যায়।
দ্রুত ও কার্যকর ফল লাভের জন্য কুমড়ো বীচি দিয়ে কৃমি তাড়াতে কিছু কঠোর নিয়ম পালন করতে হবে। যেমনঃ
১। ২০০ গ্রাম ভাল মানের কুমড়ো বীচি ব্লেন্ডার করে (যা প্রায় এক কাপের মত হবে) পেস্টের মত করে রাখুন। খাঁটি মধু বা গুঁড় এর সাথে মেশাতে পারেন।
২। এর সাথে অল্প দই মেশাতে পারেন।
৩। সকালে খালি পেটে খান। এটা খেতে সত্যিকার অর্থেই সুস্বাদু।
৪। কুমড়ো বীচির মন্ড বা দই খাওয়ার প্রায় এক ঘন্টা পর বড় গ্লাসে এক গ্লাস পানি খান। আরো ঘন্টাখানেক পরে পানি আরো খান।
৫। ল্যাক্সাটিভ হিসাবে খেতে পারেন ত্রিফলা। ত্রিফলা বা ত্রিফলা গুড়া পানিতে ভিজিয়ে খেতে পারেন। পরিমানে একটু বেশি খেলে তা আপনাকে তাড়াতাড়ি বাথরুমে নিয়ে যাবে এবং অবশ হওয়া কৃমিদের পায়খানার সাথে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
৬। ভাল ফলাফল পেতে ২/৩ দিন একনাগাড়ে এভাবে খেয়ে যান। আর একটানা সাতদিন ধরে খেলে অবশ্য ল্যাক্সাটিভ খাওয়ার তেমন প্রয়োজন পড়ে না।

