home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

কুমড়ো বীচিতে কৃমি নাশ
২১ মে, ১৩
বিষয়টি বাংলাতে পড়ুন
  Viewed#:   639

যতই কুমড়ো খাই আর কাউকে কুমড়ো পটাস বলে গালি দেই না কেনো, কুমড়োর বীচি যে কত কাজের জানেন কী? হ্যাঁ! কুমড়ো বীচি আপনার পেটের কৃমিকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে সক্ষম। আর কে না জানে কৃমি মানুষের পেটের একটি পরিচিত উপদ্রব। কুমড়ো বীচি কিভাবে কৃমি তাড়ায় তা’ জানার আগে চলুন ঐসব পরজীবী সম্পর্কে কিছু জেনে নেয়া যাক।

কৃমি জাতীয় পরজীবীরা মানুষের শরীরে দূষিত পানি বা খাদ্যের মাধ্যমে প্রবেশ করে। এছাড়া মশার কামড়, যৌনমিলন বা অন্তরংগ সংস্পর্শ, ভিজা স্যাঁতস্যাঁতে নোংরা মাটি বা কোন সংক্রমিত পশুর নাক-মুখ স্পর্শ করার পর ঐ হাত বা আঙ্গুল নাকে বা মুখে দেয়া বা কোন কিছু ধরে খাওয়ার মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।

সাধারনত একজন সুস্থ-স্বাভাবিক লোকের দেহ এমনিতেই এসব পরজীবী ভালভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম। কিন্তু যখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বা কমে যায় এবং পরিপাক ক্রিয়া যখন খুব দুর্বল থাকে বা হয়, তখন এইসব পরজীবীরা বিশেষ করে অন্ত্রের কৃমিরা আমাদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে আর পরবর্তিতে সুস্পষ্ট কিছু রোগ লক্ষণের মাধ্যমে বিপদে ফেলে দেয়।

সাধারন কিছু পরজীবী সংক্রমন লক্ষণ

ঢেঁকুর ও গ্যাসের সমস্যা, ঘন ঘন ডায়ারিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), দুর্বল লাগা, এলার্জি, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ইত্যাদি সাধারনত কৃমি জনিত রোগ লক্ষণ। আপনি যদি এসব রোগ লক্ষণে ভোগেন, তাহলে আপনার জন্য ভাল হবে দেরী না করে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেয়া।

পরজীবী থেকে পরিত্রান মেলে কুমড়ো বীচিতে

বহুকাল থেকেই মানুষ কুমড়ো বীচিকে কৃমিনাশক হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু যেটি জানা প্রয়োজন তা’ হল কুমড়ো বীচি কৃমিকে মেরে ফেলতে পারে না। আসলে কুমড়ো বীচিতে থাকা উচ্চ মাত্রার কিউকারবিটিনস এবং অন্যান্য অসনাক্তকৃত উপাদানসমূহ কৃমিকে অবশ করে দেয়। যা তাদেরকে পাকস্থলি কিংবা অন্ত্রের দেয়ালে আটকে থাকতে দেয় না। ফলে তারা মলের সাথে বাইরে বেরিয়ে যায়।

দ্রুত ও কার্যকর ফল লাভের জন্য কুমড়ো বীচি দিয়ে কৃমি তাড়াতে কিছু কঠোর নিয়ম পালন করতে হবে। যেমনঃ

১। ২০০ গ্রাম ভাল মানের কুমড়ো বীচি ব্লেন্ডার করে (যা প্রায় এক কাপের মত হবে) পেস্টের মত করে রাখুন। খাঁটি মধু বা গুঁড় এর সাথে মেশাতে পারেন।

২। এর সাথে অল্প দই মেশাতে পারেন।

৩। সকালে খালি পেটে খান। এটা খেতে সত্যিকার অর্থেই সুস্বাদু।

৪। কুমড়ো বীচির মন্ড বা দই খাওয়ার প্রায় এক ঘন্টা পর বড় গ্লাসে এক গ্লাস পানি খান। আরো ঘন্টাখানেক পরে পানি আরো খান।

৫। ল্যাক্সাটিভ হিসাবে খেতে পারেন ত্রিফলা। ত্রিফলা বা ত্রিফলা গুড়া পানিতে ভিজিয়ে খেতে পারেন। পরিমানে একটু বেশি খেলে তা আপনাকে তাড়াতাড়ি বাথরুমে নিয়ে যাবে এবং অবশ হওয়া কৃমিদের পায়খানার সাথে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

৬। ভাল ফলাফল পেতে ২/৩ দিন একনাগাড়ে এভাবে খেয়ে যান। আর একটানা সাতদিন ধরে খেলে অবশ্য ল্যাক্সাটিভ খাওয়ার তেমন প্রয়োজন পড়ে না।

 

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: The Surprising Health Benefits of Papaya Seeds
Previous Health Tips: Autism, Down Syndrome, & Dementia

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')