প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছে। এখন খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। স্বাস্থ্য খাতের অর্জন আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা পেয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকা মেডিকেলের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
প্রধানমন্ত্রী মহাজোট সরকারের আমলে চিকিৎসক ও নার্সদের পদ সৃষ্টি, নিয়োগ ও পদোন্নতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, আর কোনো সরকারের আমলে এত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, কোনো কিছু করার আগে নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা দরকার। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যনীতি যুগোপযোগী করেছে। দেশে শিশু ও মাতৃমৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হওয়ার ফলে মানুষ ঘরের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। বিনা মূল্যে ওষুধ পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছিল। কারণ, তারা ভেবেছিল, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু থাকলে মানুষ নৌকায় ভোট দেবে।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ৬০০ শয্যার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২ উদ্বোধন করেন। তিনি প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে এই হাসপাতাল-২-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন ২০০১ সালের এপ্রিল মাসে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে হাসপাতালের কাজ আর এগোয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারও কোনো কাজ করেনি। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসেই হাসপাতাল নির্মাণের কাজে হাত দেয় ২০০৯ সালে। তিনি বলেন, বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা চলার পরও বাংলাদেশের মানুষের গড় আয় এক হাজার ৪৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ১৬ বিলিয়ন ডলার মজুত আছে। বিরোধী শক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘উড়ে এসে যারা জুড়ে বসে, তারা উন্নয়ন চায় না। তারা পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চায়।’
স্বাস্থ্যসচিব এম এম নিয়াজউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেন, ঢাকা মেডিকেলের এই বর্ধিত হাসপাতালে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা থাকবে। দেশে প্রথম অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন ইউনিট চালু হবে এই হাসপাতালে।
সাংসদ রাশেদ খান মেনন বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও বিস্তৃতি অপরিহার্য ছিল।
আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুজিবুর রহমান ফকির, সাংসদ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ ও হাসপাতাল-২-এর প্রকল্প পরিচালক বায়জীদ খুরশীদ।

