দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এবং বৃহৎ চিকিৎসাসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এ হাসপাতালের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি হলেও উপমহাদেশের অন্যতম এই প্রতিষ্ঠানটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জড়িত।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা, ব্যক্তি-গোষ্ঠীর স্বেচ্ছাচারিতা, বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত রোগীর চাপ, ইঁদুর-বিড়াল-ছারপোকার উৎপাত, অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য, অযত্ন আর অবহেলার মধ্য দিয়েই চলছে দেশের বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল।
হাসপাতালটির নোংরা পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা, ময়লা পাত্রে খাবার পরিবেশন, কোলাহলময় পরিবেশ, ইঁদুর-বেড়াল, ছারপোকা-তেলাপোকার সঙ্গেই রোগীদের বসবাস করতে হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিস হারানোর ভয়। হাসপাতালটির প্রায় সব বিভাগেই কর্তৃপক্ষের চেয়ে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য বেশি। পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল, ভ্রাম্যমাণ দালালরাই যেন এখানকার সবকিছু।
গ্রামগঞ্জ থেকে আসা অনেকেই এদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। অসুস্থ রোগী দেখতে স্বজনদের প্রবেশ ও অবস্থানে কিছু নিয়মকানুন থাকলেও তার প্রতি কারোরই ভ্রুক্ষেপ নেই। যে যার মতো ওয়ার্ডে প্রবেশ করছে, বের হচ্ছে। শুধু পরিচালক বা উপ-পরিচালক এলেই আনসার সদস্যরা একটু সচেতন হন। তাছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং তার বাইরে রোগীরা গাদাগাদি করে অবস্থান করছে। একজন রোগীর সঙ্গে অবস্থান করছেন কয়েকজন। আয়া, বয় এবং নার্সদের হাতে নির্ভর করে অপারেশন থেকে শুরু করে, বেড, ওষুধ, সেবা, খাওয়া ইত্যাদি।
হাসপাতালটির ভেতরে-বাইরে ময়লার স্তূপ : হাসপাতালে প্রবেশের আগেই চোখে পড়বে একটি বস্তি এবং ময়লার ডাস্টবিন। যেগুলো থেকে রীতিমতো গন্ধ ছড়াচ্ছে। হাসপাতালটির ভেতরেও একই অবস্থা। বার্ন ইউনিটের পাশেই রয়েছে ময়লার স্তূপ। যেখানে হাসপাতালের আংশিক বর্জ্যসহ অন্যান্য ময়লা ফেলা হয়। এই ময়লার স্তূপের পাশেই রোগী এবং অন্যদের জামা-কাপড় শুকাতে দেখা যায়। কিছু কিছু কেবিন এবং ওয়ার্ডে দেখা যায়, চিকিৎসার বর্জ্য ডাস্টবিনে না ফেলে মেঝেতে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের সামনের বস্তি উচ্ছেদ করার জন্য প্রতিবছর পদক্ষেপ নেয়া হলেও কোনো কাজে আসে না। উচ্ছেদের কয়েক মাসের মধ্যেই আবার দখল হয়ে যায়। বস্তিতে সন্ধ্যা হলেই অবাধে মাদক গ্রহণের বিষয়টি চোখে পড়ে।
পুরুষ-মহিলা টয়লেট একাকার : ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রায় তিন হাজার রোগীর জন্য মাত্র চার শতাধিক টয়লেট রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি টয়লেট ব্যবহারের অযোগ্য হওয়ায় স্টোর হাউস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন ওয়ার্ডবয় জানান, ২নং মেডিকেল ভবনেও পর্যাপ্ত টয়লেট নেই। কিছু কিছু টয়লেটে সারাদিন পানি পড়ছে, আর অপরদিকে টয়লেটগুলো ব্যবহারের অযোগ্য। কিছু কিছু টয়লেটে কল থাকলেও ঠিকমতো পানি বের হচ্ছে না। আবার কতগুলোতে কল নেই। এভাবেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গোসলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতে হচ্ছে রোগীদের।
সবচেয়ে অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে হাসপাতালের টয়লেটগুলোতে। নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলেও এদিকে কারো তোয়াক্কা নেই। একজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির কাছে নারীদের টয়লেটে প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'পুরুষদের টয়লেটে বেশকিছু মহিলা দেখলাম তাই এখানে আসা।'
হাসপাতালে ইঁদুর-বিড়াল খেলা : এমনিতেই হাসপাতালে রোগীর গাদাগাদি। তার ওপর ফ্লোর আর বেডে চলে ইঁদুর-বেড়াল খেলা। নোংরা পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা, ময়লা পাত্রে খাবার পরিবেশন, কোলাহলময় পরিবেশ, ইঁদুর-বেড়াল, ছারপোকা-তেলাপোকার সঙ্গেই রোগীদের বসবাস করতে হচ্ছে। দিনের বেলা ইঁদুর-চিকা-ছারপোকা চোখে তেমন দেখা না গেলেও বিড়ালগুলো ঠিকই দৃষ্টিসীমায় চলে আসবে।
শিশু বিভাগের সামনেই ক্যামেরায় ধরা পরে কয়েকটি বিড়াল। মোটাতাজা এসব বিড়াল দেখেই বোঝা যায়, তারা বেশ সুখেই আছে। ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে এক রোগীর ভাই নাসির বলেন, 'রাতে ছারপোকার কামড় খেতে হয়। গত রাতে বিড়ালে আমাদের খাবারও খেয়ে ফেলেছে।'
নবজাতক চুরি : এখানে চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশ মানুষই গরিব বা নিম্ন মধ্যবিত্ত। হাসপাতালটির নবজাতক বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, বেড না পেয়ে অনেকেই মেঝে বা বারান্দায় প্রসব বেদনায় ছটফট করছেন। নবজাতক বিভাগের সামনে লেখা, 'এখানে পুরুষ প্রবেশ নিষেধ'। অথচ অবাধে ঢুকছে পুরুষ। দুইজন আনসারকে কর্তব্যরত অবস্থায় দেখা গেলেও তাদের নজরদারি নেই।
এ বিভাগ থেকে নবজাতক চুরির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। মার্চ মাসেই হাসপাতালটি থেকে দুই নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটে। শিশু বিভাগের প্রধান প্রফেসর আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, বাচ্চাটিকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়নি। ভর্তি করা হলে শিশুটি তাদের দায়িত্বে থাকত। ঘটনাটি দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিজেই জ্বলছে বার্ন ইউনিট : সরকারিভাবে পরিচালিত দেশের প্রথম ‘বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট’টি ঢাকা মেডিকেল কলেজের। জনবল, ওষুধ সংকট, শয্যা-স্বল্পতা ও রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হওয়াসহ বহুবিধ সমস্যায় জর্জড়িত বার্ন ইউনিট। এ বিভাগে কাঠামোগতভাবে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এখানে শয্যার সংখ্যা আরও কম।
অভিযোগ আছে, একশ্রেণীর দালাল সব সময় এখানে সক্রিয় থাকে। তারা উন্নত চিকিৎসার কথা বলে গ্রাম থেকে আসা ভর্তি থাকা রোগীদের পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। সেই সঙ্গে আছে চিকিৎসক স্বল্পতা। আর ওষুধ চুরি তো নিত্যদিনের ঘটনা।
অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধিকাংশ রোগীর ভাগ্যে জোটে না সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। ৮৫০ রোগীর জন্য রয়েছে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স। আর এ সুযোগেই হাসপাতালটির বাইরে এবং ভেতরে প্রকাশ্যেই চলে অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ পাওয়ার আগেই হাসপাতালের বাইরে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়তে হয় রোগীর স্বজনদের। হাসপাতালের পূর্বপাশের রাস্তায় প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে জরুরি বিভাগ পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে ভাড়ায় চালিত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স।
জানা যায়, ঢাকা মেডিকেলের মোট চারটি নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সচল, অন্যটি বিকল। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে নগরীর যেকোনো স্থানে গেলে ভাড়া ৩০০ টাকা। কিন্তু এ অ্যাম্বুলেন্সগুলো সহজে রোগীরা পায় না। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই হাসপাতাল চত্বরে গড়ে ওঠা অ্যাম্বুলেন্সের রমরমা ব্যবসার কারণে বিপাকে পড়ছেন রোগীরা। বাধ্য হয়েই উচ্চমূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের।
জানা গেছে, বেসরকারি মালিকানায় রয়েছে অর্ধশতাধিক অ্যাম্বুলেন্স। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে ছাড়াই তারা বছরের পর বছর অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসন যেন দেখেও দেখে না।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি এবং অব্যস্থাপনার কথা বলেছেন সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। চিকিৎসাসেবায় অবহেলা, খাবারে অনিয়ম, পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ ইঁদুর-বিড়ালের উৎপাতের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন তারা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিচতলার একটি ওয়ার্ডের বাইরে একটি বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন রাজবাড়ী থেকে আসা শহিদুল ইসলাম। তার স্ত্রী সেলিনা বেগমপরিবর্তনকে বলেন, 'মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দুপুরে হাসপাতালে স্বামীকে ভর্তি করিয়েছি। এরপর অনেকক্ষণ বসার কোনো জায়গা পাইনি। পরে দু’জন লোক (দালাল) এসে আমাদের বলে, আপনার স্বামীর জন্য একটি বেডের ব্যবস্থা করে দিতে পারি, যদি আপনারা আমাদের একটু খরচাপাতি দেন। স্বামীর কষ্টের কথা চিন্তা করে রাজি হয়ে যাই। পরে ২০০ টাকার বিনিময়ে এই বেড পেয়েছি। তবে পরে আরেকজন এসে দাবি করে, আমি আপনাদের সঙ্গে প্রথম কথা বলেছিলাম এখন আরেকজনের কাছে গেছেন, আমার টাকা কই? তাকেও ৩০ টাকা দিতে হয়।'
এই বেডের পাশেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন নরসিংদির সাইদুর রহমান। তার ভাই আবদুস সালাম বলেন, 'আমার ভাই আজ পনেরো দিন ধরে চিকিৎসাধীন আছে। হাসপাতাল থেকে মাঝেমধ্যে নার্সরা খোঁজ নেন, ডাক্তারকে পাওয়া খুব মুশকিল।'
হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ পেয়েছেন কিনা -এ প্রশ্নে তিনি বলেন, স্যালাইন ছাড়া বেশিরভাগ ওষুধ বাইরে থেকে আনা হচ্ছে।
হাসপাতালটির শিশু এবং নবজাতক বিভাগে গিয়েও দেখা যায় বাড়তি রোগীর চাপ। রোগীরা বেডে জায়গা না পেয়ে শুয়ে-বসে আছেন মেঝেতে চলাচলের জন্য জায়গাটুকুতেই। মুন্সীগঞ্জ থেকে এসেছেন সেলিমা বেগম। তিনি বলেন, 'মাইয়ারে ভর্তি করানোর প্রায় ২৪ ঘণ্টা হইল। এখন পর্যন্ত শুধু সকালে একবার ডাক্তার দেইখা গ্যাছে। কিন্তু কোনো টেস্ট দেয় নাই। কয়েকটা স্যালাইনও দিছে। মাইয়াডার কী অবস্থা কিছুই বুঝবার পারতাছি না'।
হোয়াট ক্যান আই ডু : ঢাকা মেডিকেল কলেজের অব্যবস্থাপনা, দালাল চক্র, খাবারের মানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ-২ এর সংযোজনের মাধ্যমে ২৪০০ বেডে হাসপাতালটি উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে বার্ন ইউনিটে ৫০ বেড বাড়ানো হয়েছে। সমস্যা হল আমাদের যে সিস্টেমগুলো দিয়ে কাজ করা দরকার ছিল সে সিস্টেমগুলো কাজ করে না। যেমন আমাদের ২৪০০ বেডের বাইরে তো একজনকেও বেড দিতে পারি না। আমরা বেশির ভাগ ওষুধও ফ্রি অফ কস্টে দিচ্ছি। কিছু ওষুধ যেগুলো অনেক দাম সেগুলো দুই-একটা বাইরে থেকে আনতে বলা হয়।'
তিনি দাবি করেন, 'হাসপাতালের ভেতরে বিশৃঙ্খলার কারণ হচ্ছে, একজন রোগীর সঙ্গে কয়েকজন লোক থাকা। রোগীর খাওয়া, দেখাশোনার জন্য কয়েকজন প্রয়োজন। সরকারি হিসাব মতে, ২৪০০ বেডের প্রতি বেড হিসাবে একজনকে খাবার দেয়ার কথা কিন্তু আমরা সবাইকে খাবার দিচ্ছি। এতে করে অডিট অফিসে ঝামেলা হয়ে থাকে।'
হাসপাতালের বাইরের অংশের ফুটপাতে অস্থায়ী বস্তি এবং ময়লা-আবর্জনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহরের ফুটপাতগুলো থেকে বস্তি এবং আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য ভালো একটা মুভমেন্ট তৈরি হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় এসব উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। চলতি সপ্তাহেই আমাদের এখানকার বস্তিগুলো উচ্ছেদ হওয়ার কথা রয়েছে।
হাসপাতালের কেবিন এবং যত্রতত্র বিড়াল-ইঁদুর-চিকার উপদ্রব নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'বিড়াল আসলে তেমন রোগ ছড়ায় না। আর এ ধরনের ইঁদুর-বিড়াল-চিকার প্রতিরোধে ওইভাবে কোনো বাউন্ডারি নেই। আপনি কীভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবেন? খাওয়া-দাওয়া পায়, এজন্য এখান থেকে যেতে চায় না বা চলে আসে। আসলে হাসপাতালে যে ধরনের পরিবেশ হওয়ার কথা সেই ধরনের পরিবেশ রক্ষার জন্য যে জনবল প্রয়োজন সেটা আমাদের নেই। কোনো কোনো ওয়ার্ডে আমাদের ব্যাপক সমস্যা, সুইপারও নেই।'
রোগী ভর্তি করা থেকে শুরু করে, বেড পাইয়ে দেয়া পর্যন্ত দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে তিনি বলেন, এত বড় হাসপাতালে নজর রাখা কঠিন। যেমন একজন গার্মেন্ট মহিলা এসেছেন আউটডোরে। দালাল তাকে ধরে বলছে আপনি চলেন, আমার কাছে ডাক্তার আছে। দেখা যাচ্ছে রোগীকে অল্পসময়ের মধ্যে উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে হাজার তিনেক টাকা নিয়ে নিয়েছেন। এভাবেই অনেকে সচেতন না হয়ে প্রতারিত হন।'
দালাল চক্র রোধে কিছু করা হচ্ছে কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, 'দালালকে তো আপনি চিনবেন না। দালাল আপনার মতো আমার মতোই মানুষ। যদি দেখেন তাহলে বলবে আমি রোগীর অ্যাটেনডেন্স, একটা কাগজও ম্যানেজ করে ফেলে।'
কয়েক সপ্তাহ আগে হাসপাতালের ভেতর একজন সরকারি ওষুধসহ ধরা পড়েছিল। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, 'ঘটনাটি ধরা পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা মামলা দিয়েছি। একজন জেলে আছে আরও যদি কেউ জড়িত থাকে তাদেরও ধরা হবে। এ ধরনের দালালের দৌরাত্ম্য যে নেই এ কথা আমি বলব না। এসব অনৈতিক কাজ হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ তো বাংলাদেশের বাইরে কিছু নয়। পুরো সমাজের যে রিফ্লেকশন আছে সেটা এখানেও আছে। হেরোইনখোর, চোর, বাটপার এরা কল খুলে নিয়ে যাচ্ছে। আগের চেয়ে আরও বেশি আনসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারপরও এসব হচ্ছে। হোয়াট ক্যান আই ডু। আমি চেষ্টা করছি।'
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'এ সমস্যা থেকে উত্তরণের পথটা কিন্তু সহজ নয়। বাংলাদেশের কোথাও কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ নয়। জনশক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি এক নম্বর অন্তরায়। দুই নম্বর হল, জনশক্তি বাড়াতে একটা টিওডি দরকার। একটা টিওডির প্রপোজাল দিয়ে গেছেন আমার আগের পরিচালক ২০০৯ সালে। আমি আসার পর ৯ বার মিটিং করে বিষয়টি সুরাহা করেছি। এখনও বেতন স্কেলে সমস্যা আছে। কাজেই রাতারাতি জনশক্তি বাড়ানো সম্ভব নয়।'
সূত্র - poriborton.com

