ঠাকুরগাঁওয়ের সদর হাসপাতালের ভেতরের করিডর, টিকিট কাউন্টার, চিকিৎসকদের চেম্বারের সামনে ফেরি করে খোলা খাবার বিক্রি করছেন একদল ফেরিওয়ালা। অনেক সময় ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ভেতরেও এসব খাবার বিক্রি হচ্ছে।
শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, শুধু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে নয়, হাসপাতালের ভেতরে কোনো অবস্থাতেই খোলা খাবার বিক্রি করা ঠিক নয়। এতে মারাত্মক সংক্রামক রোগের জীবাণু অন্যের দেহে ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা হাসপাতালের মূল দরজার কাছে ভিড় করে আছেন। ভিড়ের মধ্যে কাটা নারকেল বিক্রি করছেন এক ফেরিওয়ালা। কয়েকজন অভিভাবক তাঁদের শিশুদের তা কিনে দিচ্ছেন। এদিকে চিকিৎসকদের চেম্বারের সামনে সারিতে দাঁড়ানো রোগীদের কাছে তিলের খাজা বিক্রি করতে দেখা যায় আরেক ফেরিওয়ালাকে।
আশরাফুল নামে এক ফেরিওয়ালা বলেন, বিক্রি বাড়াতে অনেক সময় ওয়ার্ডে যাওয়া হয়।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুর স্বজন উপজেলার পূর্ব বেগুনবাড়ি গ্রামের রহমত আলী বলেন, ‘যেইঠে ছুয়ালা (শিশুরা) থাকে ওইঠেই ফেরিআলা খাবার ধরিয়া ঘুরঘুর করে। হাসপাতালের খোলা খাবার খায়ে অনেক রোগ হছে জানিয়াও ছেলের রায়নায় পড়িয়া তা কিনে দিবা হছে।’
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল জব্বার বলেন, ‘আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফেরিওয়ালারা খোলা খাবার নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে পড়ে। মাঝেমধ্যেই এদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়।’
ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন আফজাল হোসেন তরফদার বলেন, হাসপাতাল চত্বরে খোলা খাবার বিক্রি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সুত্র - প্রথম আলো

