দিনভর বিক্ষোভ মিটফোর্ডে
30 September,13
Viewed#: 44
সাজাপ্রাপ্ত ওষুধ ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিতে গতকাল রোববার দিনভর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড রোডের ওষুধ ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দোকান বন্ধ করে প্রায় দিনভর বিক্ষোভ করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি এবং জব্দ করা ওষুধ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলেও জানান তাঁরা।
গত শনিবার রাতে ৮২ জন ওষুধ ব্যবসায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রায় সোয়া কোটি টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান। গতকাল রোববার রফিকুল ইসলাম নামের আরেক ব্যবসায়ী দুই লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন।
শনিবার পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার নয়টি মার্কেটে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ১০৩ জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এঁদের মধ্যে ২০ জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকি ৮৩ জনকে সোয়া কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ২৮টি ওষুধের দোকান সিলগালা করে দেওয়া হয়।
বিসিডিএসের উপসাধারণ সম্পাদক এ এস এম মনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অবিচারের প্রতিবাদে ওষুধ ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দোকানপাট বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করছেন। এর সঙ্গে সমিতির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে সমিতির নেতারা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অবিচারের প্রতিবাদে বৈঠকে বসবেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে মিটফোর্ড রোডের ওষুধ ব্যবসায়ী ও তাঁদের কর্মচারীরা দোকানপাট বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মিছিল নিয়ে দফায় দফায় মিটফোর্ড সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় তাঁরা র্যাবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সতর্ক অবস্থায় ছিল। এ অবস্থায় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ যান চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয়।
ব্যবসায়ীদের মুক্ত করা এবং জব্দ করা ওষুধ ফেরত আনার পদক্ষেপ না নেওয়ায় ওষুধ ব্যবসায়ীরা সমিতির নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তাঁরা সমিতির কার্যালয় লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়েন এবং নেতাদের পদত্যাগ দাবি করেন। একপর্যায়ে পুলিশ ব্যবসায়ীদের মাইকে স্লোগান দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
সার্জিক্যাল সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা মানববন্ধন করবেন। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ব্যবসায়ীরা জানান, মিটফোর্ড রোডে ৪৩টি ওষুধের মার্কেট আছে। একেকটি মার্কেটে অন্তত ৪০টির মতো ছোট-বড় দোকান রয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে সব মার্কেট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল সকালে কোতোয়ালি ও বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মিটফোর্ড রোডে অবস্থিত বিসিডিএস কার্যালয়ে বৈঠক করেন। তাঁরা সমিতির নেতাদের মার্কেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ওষুধ ব্যবসায়ী শেখ মো. রিয়াজ অভিযোগ করেন, টেস্টি স্যালাইন ও আমদানি করা ওষুধ বিক্রি করার অভিযোগে দোকানের সব ওষুধপত্র লুট করে নিয়ে গেছে র্যাব। এর জন্য ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, শনিবার সকালে অন্তত ১৫টির মতো মার্কেটের ভেতরে ঢুকে তালা লাগিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
কয়েকজন ওষুধ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সমিতির কতিপয় নেতা পুলিশ-র্যাবকে ম্যানেজ করার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা নেন। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন সমিতির নির্বাচন হয় না। নেতাদের পদত্যাগ দাবি করে তাঁরা নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান।
গতকাল সকালে সমিতির দপ্তরে এ এস এম মনির হোসেন বলেন, ওষুধ ব্যবসায়ীদের লঘু অপরাধে গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জেল ও জরিমানা দুটি একসঙ্গে হতে পারে না। মনির হোসেন বলেন, নিম্নমানের ও ভেজাল ওষুধ তৈরি করে কারখানা। এ জন্য ওষুধ ব্যবসায়ীরা দায়ী নন।
শনিবার অভিযান পরিচালনাকারী র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আইন ভঙ্গকারীদের জেল-জরিমানা দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই তাঁদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে কয়েকজনের ড্রাগ লাইসেন্স নেই, অনুমোদিত কোম্পানির বাইরে ওষুধ আমদানি করে কেউ আইন ভঙ্গ করেছেন। এ ছাড়া নিষিদ্ধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির পাশপাশি কেউ কেউ ওষুধ সংরক্ষণের জন্য ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দেননি। ওষুধ আইন অনুযায়ী ওষুধের দোকানে টেস্টি স্যালাইন ও খাদ্য সম্পূরক বিক্রি করার নিয়ম না থাকলেও তাঁরা তা করছিলেন। এসব কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে ৮০টি মামলা হয়েছে।
সুত্র - প্রথম আলো