ডেনমার্কের এক দল গবেষক জানিয়েছেন, সম্পর্কের মাঝে দুশ্চিন্তা, বাক-বিতণ্ডা এবং ভাঙন মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেন এর পাবলিক হেলথ রিসার্চার রিকি লান্ড বলেন, বিশেষ করে যারা বেকারত্বের করাল গ্রাসে পড়েছেন তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সামাজিক পরিবেশে মানুষের মধ্যে এ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে 'জার্নাল আব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড কমিউনিটি হেলথ'।
সম্পর্কের জটিলতায় মৃত্যুর ঝুঁকি কীভাবে বাড়ে তা পরীক্ষা করতে গবেষকরা দীর্ঘমেয়াদি নিরীক্ষা চালান। ডেনমার্কের ৯ হাজার ৮৭০ জন প্রাপ্তবয়স্কদের বাছাই করে তাদের ৩০, ৪০ এবং ৫০ বছর বয়সের বিভিন্ন স্তর পর্যবেক্ষণ করেন। ২০০০ সাল থেকে ২০১১ সালের পর্যন্ত এ গবেষণা পরিচালিত হয়।
এই মানুষগুলোকে তাদের সঙ্গী বা সঙ্গিনী, সন্তান, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর টুকে নেন। এ সকল টানাপড়েনে মানসিক সাপোর্টের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় এবং তাদের উত্তরগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এই গবেষণা চলাকালীন অংশগ্রহণকারীদের ৪০ শতাংশ নারী এবং ৬০ শতাংশ পুরুষ মারা যান। তাদের মৃত্যুর কারণ ছিলো কার্ডিওভাসকুলারসহ লিভারে সমস্যা, দুর্ঘটনা এবং আত্মহত্যা।
তাদের মধ্যে প্রতি দশজনের মধ্যে একজন স্বীকার করেন, তাদের সঙ্গী বা সঙ্গিনী অথবা সন্তান সব সময় আশঙ্কা বা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে ছিলো। তাদের ৬ শতাংশ পরিবারে কারো না কারো সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে ছিলেন এংব ২ শতাংশের ঝামেলা হতো বন্ধুদের সঙ্গে।
যারা পরিবার ও সন্তানের সঙ্গে ঝামেলা নিয়ে থাকতেন তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি দেখা যায়। যার এ ধরনের আশঙ্কা নিয়ে সময় পার করছেন তাদের অর্ধেকের স্বাস্থ্য সমস্যা বহু গুনে বেড়ে চলেছে।
এদিকে, প্রেমিক বা বন্ধু সংক্রান্ত জটিলতায় মৃত্যুর সম্ভাবনা দ্বিগুন বাড়ে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে এসব সমস্যায় ঝুঁকি বাড়ে তিনগুন।
রিকি লান্ড বলেন, তবে খেয়াল রাখতে হবে, সব সম্পর্ক কিন্তু এক নয়। কোনো ধরনের সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন থাকাটা আমাদের জন্য ভালো নয়। তাই সম্পর্কের এসব বিষয়কে ভিন্ন দৃষ্টি দিয়ে ইতিবাচক করে উপলব্ধি করতে হবে। সূত্র : ফক্স নিউজ
সূত্র - কালের কণ্ঠ

