রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ দিন ধরে ক্যানসার-আক্রান্ত রোগীদের রেডিওথেরাপি দেওয়া বন্ধ রয়েছে। বিভাগের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ত্রুটির কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের দেড় শতাধিক রোগী প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে এসে ফিরে যাচ্ছেন।
আর যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তাঁদের অনেকেই একটি থেরাপির জন্য ১৫ দিন ধরে হাসপাতালে পড়ে রয়েছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, যাঁদের একটি বাকি ছিল, এখন তাঁদের পাঁচটি দিতে হবে। রেডিওথেরাপি বিভাগ থেকে জানা গেছে, কোবালন্ট-৬০ যন্ত্রটি দিয়ে ক্যানসার-আক্রান্ত রোগীদের রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে। এই যন্ত্রটির কক্ষের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকতে হয়। তাপমাত্রা এর ওপরে উঠলেই যন্ত্রটি বন্ধ হয়ে যায়। যন্ত্রটি যে কক্ষে বসানো রয়েছে, ওই কক্ষে দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র রয়েছে। একটি অনেক দিন ধরেই অচল। বাকিটি দিয়ে কাজ চলছিল। গত ২৫ মার্চ থেকে সেটিও আর ঠিকমতো কাজ করছে না।
ওই কক্ষের একজন কারিগর জানান, ২৫ মার্চ থেকে এই কক্ষের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রির নিচে নামছে না। যন্ত্র চালু করলে তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির নিচে না থাকলে এই যন্ত্র চালানো যাবে না। এ জন্য রেডিওথেরাপি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, তখনো কক্ষের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রিতে উঠে রয়েছে। হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ক্যানসার-আক্রান্ত রোগীদের রাখা হয়। ওই ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, রোগীরা রেডিওথেরাপির জন্য বসে রয়েছেন। জোছনা বেগম (৪৫) নামে এক নারী প্রশ্ন করে বসেন, ‘ওই মেশিনটা কবে ভালো হবে বলতে পারেন?’ জোছনা বেগমের বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায়। স্বামীকে নিয়ে দুই মাস ধরে এই হাসপাতালে আছেন।
জোছনা বলেন, তাঁর স্বামী কথা বলতে পারতেন না। এখন কথা বলছেন। তাঁর ২৯টি থেরাপি দেওয়া হয়ে গেছে। আর একটা বাকি রয়েছে। একটা থেরাপির জন্যই ১৫ দিন থেকে বসে রয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এসেছেন মাতোয়ারা বেগম (৫৫)। তিনি বলেন, সপ্তাহের পাঁচ দিনই তাঁর থেরাপি দিতে হয়। কিন্তু ১৫ দিন ধরে একবারও থেরাপি দেওয়া হয়নি। যেটুকু আরাম পেয়েছিলেন, সেটুকুও এখন আর পাচ্ছেন না।
রেডিওথেরাপি বিভাগের প্রধান দায়েম উদ্দিন বলেন, যন্ত্রটি গণপূর্ত বিভাগের ঠিক করে দেওয়ার কথা। বারবার বলেও তারা এটি ঠিক করে দিচ্ছে না। প্রতিদিন দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের দেড় শ থেকে পৌনে দুই শ রোগীকে এখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হাসপাতলের উপপরিচালক আ স ম বরকতুল্লাহ বলেন, ‘আমি আজকে (বুধবার) বিষয়টি জানতে পেরেছি। গণপূর্ত বিভাগকে বলেছি। তারা স্থানীয়ভাবে পারলে কালকেই হয়ে যাবে।’
সূত্র - প্রথম আলো

