মুঠোফোনের খুদে বার্তা এবং ই-মেইলের মতো অনলাইন যোগাযোগে বহুল ব্যবহূত হয় প্রতীকী চেহারা বা ইমোটিকন। এসব প্রতীকী ও কৃত্রিম চেহারার বিভিন্ন অভিব্যক্তি এখন এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে যে তা মানুষের মস্তিষ্কের গতিবিধিই পাল্টে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এমনটিই দাবি করেছেন।
সোশ্যাল নিউরোসায়েন্স সাময়িকীতে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, মূলত বেশি বেশি ব্যবহারের কারণেই বিভিন্ন ইমোটিকনকে মানুষের মস্তিষ্ক সহজভাবে গ্রহণ করে নেয়। ফলে এদের প্রতি মস্তিষ্কে যে রকম সাড়া জাগে, তা মস্তিষ্কের ওপর বাস্তব মুখমণ্ডলের প্রভাবের প্রায় সমান। ইমোটিকনগুলোর ব্যবহার কখনো কখনো শব্দের চেয়ে বেশি কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।
এমনিতে কোনো চেহারা দেখলে মস্তিষ্কের বাইরের আবরণের একটি বিশেষ অংশে (ওসিপিটোটেম্পোরাল কর্টেক্স) সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া হয়। আধুনিক যান্ত্রিক প্রযুক্তি (স্ক্যান) ব্যবহার করে সেই প্রতিক্রিয়ার ধরন শনাক্ত করা যায়। তবে মজার ব্যাপার হলো, ইমোটিকনের প্রতিক্রিয়ায় মানব মস্তিষ্কের আচরণ মোটেও জন্মগত নয়, বরং এটি আশেপাশের সাংস্কৃতিক প্রভাবেই তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্ট গবেষক ও মনোবিজ্ঞানী ওয়েন চার্চেস ও তাঁর সহযোগীরা ২০ জন স্বেচ্ছাসেবীর মস্তিষ্কের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে দেখতে পান, ইমোটিকনের বিভিন্ন অভিব্যক্তি দেখেও মস্তিষ্কে মোটামুটি একই ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়। টেলিগ্রাফ।
সূত্র - প্রথম আলো

