ঘুম দরকার মগজেরও!
09 April,14
Viewed#: 115
কিশোর-কিশোরীরা যত বেশি গভীরভাবে শিখতে থাকবে তার ঘুমের চাহিদাও তত বেড়ে যেতে থাকবে। ছবিটি প্রতীকী। যে বইটা হাতে ছিল তা পড়া শেষ হলো না! যে লেখাটা শেষ করার কথা তা শেষ করা গেল না! ই-মেইলের ইনবক্সটা খালি করা গেল না কিংবা ফেসবুকের মেসেজগুলোর জবাব দেওয়া হলো না! এমন অনেক কাজ হয়তো শেষ হয় না ঘুমের কোলে ঢলে পড়লে। কিন্তু তাই বলে নির্ঘুম থাকাটা কোনো কাজের কথা নয়। পরিমিত ঘুম সবারই দরকার। বিশেষত টিনএজার বা কিশোর-কিশোরীদের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম খুবই প্রয়োজন। গবেষকেরা বলছেন, পর্যাপ্ত ঘুম শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং তা স্মৃতিশক্তি ঠিক রাখাসহ মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখতে খুবই প্রয়োজনীয়।
যতই শিখবে ততই ঘুমাবে
সম্প্রতি হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ওপর একটি পরীক্ষা চালানো হয়। নতুন একটি জটিল গেম শেখানোর পর তাতে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের সেখানেই ‘ঘুমিয়ে যেতে’ বলা হয়। পরের দিন দেখা যায় যারা রাতে ভালো করে ঘুমিয়েছে, সেই শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করছে। আর যারা ৬ ঘণ্টার চেয়ে কম ঘুমিয়েছে বা ঠিকঠাক ঘুমাতে পারেনি, তারা ভালো ফল করতে পারেনি বা আগের চেয়ে খারাপ ফল করেছে।
শেখার জন্য ঘুম কেন এত প্রয়োজন? ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’ সাময়িকীতে এ বিষয়ে নতুন একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সারা দিনের নানান ঘটনাপ্রবাহ থেকে সংগ্রহ করা সব তথ্য-উপাত্ত থেকে বাছাই করে ‘মনে রাখতে হবে’ এমন তথ্য-উপাত্ত স্মৃতিগুলো আলাদা করার কাজটা মস্তিষ্ক করে থাকে এই ঘুমের সময়ই। তাই কেউ যত বেশি শিখতে থাকবে, তার ঘুমের চাহিদাও তত বেড়ে যেতে থাকবে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই গভীর শিক্ষণের জন্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার কাজে ব্যবহূত মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হঠাত্ই কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে, এমনকি বাকি মস্তিষ্কও এ বিষয়ে সজাগ থাকে। ফলে গবেষকেরা বলছেন, লেখাপড়া, নানা ধরনের কাজ শেখা এবং জগত্ সম্পর্কে জ্ঞানের ভিত গড়ার সময়টায় ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি।
ঘুমের স্বভাব ঠিক করুন
কার্যকর শিক্ষার জন্য ঘুম নিয়ে কোনো আপস করা চলবে না। কিন্তু কৈশোর এবং কৈশোর থেকে তারুণ্যে পদার্পণের সময়টাতেই ঘুম নিয়ে বেশি হেলাফেলা করে এবং ঘুমের স্বভাবের বারোটা বাজায় ছেলেমেয়েরা। কিছুটা যত্ন নিয়ে, কিছুটা বুঝিয়ে আর কিছুটা পরিবেশগত সহায়তা করে কিশোর-কিশোরীদের ঘুমের স্বভাব ঠিক করার চেষ্টা করতে পারেন অভিভাবকেরা।
আলো নিভিয়ে রাখা
খুব সামান্য আলোও এ বয়সের ছেলেমেয়েদের ‘সার্কাডিয়ান ক্লক’ বা ‘দেহঘড়ি’র (রাত-দিনের প্রাকৃতিক নিয়মের সঙ্গে শরীরের অভ্যন্তরীণ গতি-ছন্দের) কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই রাতের বেলায় ঘুমের জন্য বাতি নিভিয়ে রাখা এবং আলো ছড়ায় এমন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি সরিয়ে রাখা দরকার। অনেক ক্ষেত্রে আলোর সমস্যা থেকে বাঁচতে প্রয়োজনে ‘চোখের মুখোশ’ পরে ঘুমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।
তাপমাত্রা কমিয়ে রাখা
ঘুমের সময় শরীরের তাপমাত্রা খুব কমে যায়। ফলে ঘুমের আবেশ তৈরির জন্য ঘরের তাপমাত্রা কমিয়ে ফেললে উপকার পেতে পারে কিশোর-কিশোরীরা। এ ছাড়া সন্ধ্যায় এমন কোনো কঠিন শারীরিক ব্যায়াম করা যাবে না, যার প্রভাব থেকে গিয়ে শরীর অনেক রাতেও বেশি সচল থাকে বা গরম থাকে।
ঘুমের রুটিন বানান
একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা খুবই জরুরি। এমনকি ছুটির দিনেও এই একই রুটিন বজায় থাকা ভালো। প্রাকৃতিক নিয়মের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেহঘড়ির এই গতি-ছন্দকে ঠিক রাখাটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও জরুরি। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে লম্বা করে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করাটা ভালো। আর সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে ঘুমানোর জন্য খুবই অল্প শব্দে ‘সফট মিউজিক’ বা হালকা গান-বাজনা শোনার অভ্যাস করা যেতে পারে।
কিশোর-কিশোরীদের ঘুমের স্বভাব ঠিকমতো গড়ে তুলতে এবং নিয়মিত তার চর্চায় উত্সাহিত করতে পারেন পরিবারের বড়রা। ঘুম ঠিক থাকলে স্কুলের লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সব ধরনের শিক্ষার ক্ষেত্রেই ভালো করার সম্ভাবনা বাড়বে অল্প বয়সী ছেলেমেয়েদের।
সূত্র - প্রথম আলো