চট্টগ্রামে জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খাদ্য ঘাটতি। গত তিন বছরে এই সংকট প্রকট হয়েছে। বর্তমানে বছরে চট্টগ্রামে খাদ্য ঘাটতি সোয়া চার লাখ মেট্রিক টন। ঘাটতি মেটাতে অন্য জেলার দিকে চেয়ে থাকতে হয় বাণিজ্যিক নগরকে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৩-১৪ সালে চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় খাদ্য ঘাটতি ছিল চার লাখ ২৫ হাজার ১১২ টন। ওই সময় চট্টগ্রামের জনসংখ্যা ছিল ৮০ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৫ জন। এর মধ্যে শিশুকে বাদ দিলে খাদ্যগ্রহণকারী লোক হিসাব করা হয় ৭১ লাখ ৪২ হাজার। একই বছর তিন মৌসুমে খাদ্য উৎপাদন হয় আট লাখ ৬৩ হাজার ৭৭১ টন। এর মধ্যে বেশির ভাগই চাল।
সূত্রে জানা গেছে, গত বছর আমনের ফলন আগের বছরকে ছাড়িয়ে গেছে। আমন হয়েছে পাঁচ লাখ নয় হাজার ৮৬১ টন। একই সময়ে আউশ ও বোরো হয়েছে যথাক্রমে এক লাখ ১১ হাজার ৩০০ টন ও দুই লাখ ৩৫ হাজার ৩২২ টন। চলতি অর্থ বছর অর্থাৎ ২০১৪-১৫ সালে আমন উৎপাদন অন্তত ২০ হাজার টন বেশি হয়েছে বলে কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. খসরু মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছর যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে সে হারে উৎপাদন বাড়ছে না। উন্নত বীজ, সার ইত্যাদি প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন কিছুটা বাড়ানো হলেও তা ঘাটতি মেটাতে সক্ষম নয়। চট্টগ্রামে প্রতিবছর তিন থেকে চার লাখ টন খাদ্য ঘাটতি থাকে। এবার ছিল সবচেয়ে বেশি, সোয়া চার লাখ টন।
জানা গেছে, ২০১১-১২ সালে চট্টগ্রামের লোকসংখ্যা হিসাব করা হয় ৭৫ লাখ ছয় হাজার। এক বছর পর তা বেড়েছে প্রায় পাঁচ লাখ। ওই বছর খাদ্য ঘাটতি ছিল তিন লাখ ৪১ হাজার ৯৪১ টন। একই সময়ে খাদ্য উৎপাদন ছিল আট লাখ ৬৪ হাজার টন। এর আগে ২০১০-১১ সালে খাদ্য ঘাটতি ছিল দুই লাখ ৯৪ হাজার ৩১৬ টন।
উৎপাদিত খাদ্যের মধ্যে বেশির ভাগই চাল। পাশাপাশি সামান্য পরিমাণ গম ও ভুট্টা হয়। কৃষিবিদদের মতে প্রতিবছর জনসংখ্যা অনুপাতে খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে না। তাই খাদ্য ঘাটতি দিন দিন বাড়ছে। প্রতিজনের জন্য দৈনিক ৪৫৩ গ্রাম হিসেবে খাদ্য ধরে মোট চাহিদা হিসাব করা হয়। গেল বছর চাহিদা ধরা হয় ১১ লাখ ৮২ হাজার টন। এর আগের বছর ২০১১-১২ সালে খাদ্য চাহিদা ছিল ১১ লাখ ছয় হাজার টন। ক্রমবর্ধমান এই চাহিদা মেটাতে অন্যান্য জেলা থেকে চাল আনতে হয় চট্টগ্রামে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ আমিনুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে অন্যান্য জেলা থেকে চাল আনতে হয়। চাল এনে বিশেষ করে নগরবাসীর ঘাটতি মেটাতে হয়। কারণ জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নগরের বাসিন্দা। ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে কোনো খাদ্য আমদানি করতে হয় না।’
সূত্র - প্রথম আলো

