শুধু ঢাকা শহর নয়, সমগ্র দেশ বায়ুদূষণে আক্রান্ত। এই দূষণের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষায় কার্যকর কর্মসূচি নিতে এবং কঠোর হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনসহ (বাপা) ১৩টি সংগঠন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গতকাল শুক্রবার এক নাগরিক সমাবেশে এই দাবি করে সংগঠনগুলো। বক্তারা বিশ্বব্যাংক ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানান, ঢাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। প্রতি কিউবিক মিটারে এয়ারবোর্ন পার্টিকুলেট ম্যাটারের (বায়ুপরিবাহিত দ্রব্য) পরিমাণ ২৫০ মাইক্রোগ্রাম। আর সহনীয় মাত্রা ৫০ মাইক্রোগ্রাম।
ঢাকার চারপাশে থাকা ইটভাটা, যানজট, পুরোনো মোটরগাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ধুলার কারণে ঢাকার বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।
বক্তারা বলেন, সিসাযুক্ত পেট্রল আমদানি বন্ধ এবং দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট বেবিট্যাক্সি বন্ধ করে দেওয়ার পরও বায়ুদূষণ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁরা জানান, সারা দেশে কমবেশি ১০ হাজার ইটভাটা রয়েছে। এর অর্ধেকই ঢাকা শহরের আশপাশে।
আর এসব ইটভাটায় পোড়ানো হয় ভারতের মেঘালয় থেকে আমদানি করা নিম্নমানের কয়লা। সেখানে সালফারের পরিমাণ ৭ থেকে ১০ শতাংশ। অথচ এর পরিবেশসম্মত সর্বোচ্চ সীমা হচ্ছে ১ শতাংশ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন। তিনি বায়ুদূষণ প্রতিরোধে পুরোনো পদ্ধতির ইটভাটা বন্ধ করে জিকজ্যাক ইটভাটা চালু, কাঠ পোড়ানো বন্ধ, কয়লা আমদানি বন্ধ, ১৬ বছর বা তারও আগেকার যানবাহন বন্ধসহ সরকারের প্রতি ১১টি দাবি জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিজবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, বায়ু-পানি-মাটি—এ তিনটি মৌলিক উপাদানের মধ্যে বায়ুদূষণ সর্বোচ্চ। আর বায়ুদূষণ অন্য দুটি উপাদানের ওপর চরম প্রভাব ফেলছে।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন, গ্রিন ভয়েসের সহ-সমন্বয়ক হুমায়ূন কবির, ডব্লিউবিবি টাস্ট্রের অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা মারুফ রহমান, সেবার নির্বাহী পরিচালক মো. নুরুদ্দীন প্রমুখ।
সূত্র - প্রথম আলো

