মোবাইল অ্যাপস কমাবে আপনার চিকিৎসা খরচ। কম দামে একই রাসায়নিক কম্পোজিশনের ওষুধের সন্ধান এখন আপনার আঙুলের ডগায়।
শত আইন উপেক্ষা করে ডাক্তাররা যখন ওষুধের জেনেরিক নাম প্রেসক্রিপশনে না লিখে দামি কোম্পানির ওষুধের ব্র্যান্ড নামই লেখেন। তখন বাধ্য হয়েই আপনাদেরকে সেই ওষুধই কিনতে হয়।
কারণ একটাই, আপনি জানেন না, অনেক কম দামে একই কম্পোজিশন একই গুণগতমানের ওষুধ তৈরি করে একাধিক ওষুধ কোম্পানি।
এবার আপনার আঙুলের ডগায় মুশকিল আসান। বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন দামে একই কম্পোজিশনের ওষুধের খোঁজ দিতে আপনার অ্যানড্রয়েড ফোনের জন্য আছে একাধিক অ্যাপস।
অ্যাপসগুলোতে আপনাকে শুধু ওষুধের ব্র্যান্ডের নাম লিখতে হবে। এই অ্যাপস আপনাকে নিজ থেকেই ওই একই রাসায়নিক কম্পোজিশনের বিভিন্ন দামের ওষুধের সন্ধান দেবে।
মৃগী রোগে আক্রান্ত সুজাতা কৃষ্ণান (ছদ্মনাম) । ডাক্তার তাঁকে প্রেসক্রিপশনে এমন একটি ওষুধের ব্রান্ডের নাম লিখেছিলেন যার ১৪টির দাম ৭৬৮.৫৬ টাকা। ৩৯ বছরের সুজাতা মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে জানতে পারেন। ৫৯ টাকায় একই কম্পোজিশনে অন্য একটি কোম্পানির ১০ টি ক্যাপসুল পাওয়া যায়।
টেকস্যাভি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের নিত্যসঙ্গী এখন হেলথকার্ট প্লাস, মাই দাওয়াই, গেট মেডের মত বহু অ্যাপস।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ ডাক্তার অতিসাধারণ ভিটামিন বা মাল্টি ভিটামিন, ব্যাথা নিরাময়ক, অ্যালার্জি প্রতিরোধকারী এবং অ্যান্টিবায়োটিকসের জন্য এমন ব্রান্ডের ওষুধের নাম প্রেসক্রিপশনে লিখে থাকেন যে কোম্পানিগুলো থেকে তারা বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেন। প্রকৃতপক্ষে তারা ওইসব কোম্পানি থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘুষ পান।
বাস্তবে একই রাসয়ানিক কম্পোজিশনের ওষুধের দামের ব্যবধান কোম্পানি ভেদে আকাশ পাতাল হয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় গ্ল্যাক্সো কোম্পানির একটি অ্যান্টিবায়োটিক অগমেনটিনের প্রতিটির দাম ২৩.৫ টাকা। অ্যামোক্সিসিলিন ও ক্লাভুলানিক অ্যাসিড দ্বারা নির্মিত ওই একই ওষুধ ফাইজার কোম্পানিও তৈরি করে ওয়ারক্ল্যাভ ডুও নামে। যার প্রতিটির দাম ৮.২৫ টাকা।
এই কারণেই আইন অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তাররা ওষুধের ব্র্যান্ড নামের পরিবর্তে জেনেরিক নাম প্রেসক্রাইব করতে বাধ্য। বাজারে বেশি মূল্যের ওষুধের রমরমা ব্যবসা চলছে, কারণ যারা বেসরকারিভাবে প্র্যাকটিস করেন তাঁদের জন্য কোন নির্দিষ্ট আইন নেই।
খুব সহজেই গ্রাহকদের সমস্যার সমাধান করছে নতুন এই অ্যাপসগুলো। যার ফলে অকারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে রোগীরাও বেঁচে যাচ্ছেন।
সূত্র - poriborton.com

