মুখমণ্ডলের অভিব্যক্তি দেখেই মানুষের মনের অবস্থা বোঝা যায়, এটা আগে থেকেই প্রমাণিত। একেক ধরনের অভিব্যক্তিতে ফুটে ওঠে একেক ধরনের মনোভাব। প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, মোট ছয় ধরনের অভিব্যক্তিতে মানুষের সব আচরণ প্রকাশ পায়।
তবে নতুন একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এটাকে চার ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এ গবেষণা প্রচলিত ধারণার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
মুখমণ্ডলের যে ছয় ধরনের অভিব্যক্তি প্রকাশ পায় বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, সেগুলো হলো: সুখ, দুঃখ, ভয়, রাগ, বিস্ময় ও বিরক্তি। তবে যুক্তরাজ্যের ওই গবেষকেরা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে কম্পিউটারভিত্তিক নতুন পদ্ধতি বের করেন। এর মাধ্যমে তাঁরা মুখমণ্ডলের ৪২টি স্বতন্ত্র পেশি অভিব্যক্তি প্রকাশের সময় যে ‘সংকেত’ তৈরি করে, তা বিশেষ ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করেন। সেগুলো নিয়ে গবেষণা করে তাঁরা দেখতে পান, ভয় ও বিস্ময় একই রকম অভিব্যক্তিতে প্রকাশ পায়। এ ধরনের অভিব্যক্তি প্রকাশে মানুষ চোখ বড় করে থাকে। আবার রাগ ও বিরক্তি প্রকাশের অভিব্যক্তিও এক রকম। নাক কুঁচকানোর মাধ্যমে মানুষ এ ধরনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে থাকে। তার মানে, মানুষের আচরণ প্রকাশ পায় মুখমণ্ডলের মৌলিক চারটি অভিব্যক্তিতে।
গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষকেরা গবেষণার জন্য ৪২টি স্বতন্ত্র পেশিই সক্রিয় করতে পারেন, বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এমন কিছু মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করেন। তাঁদের মাধ্যমে কম্পিউটারে মুখমণ্ডলের অভিব্যক্তি প্রকাশের একটি ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করা হয়। এই মডেলের মাধ্যমে মুখমণ্ডলের কোনো নির্দিষ্ট অভিব্যক্তি থেকে কোন কোন পেশি ব্যবহূত হয়, তা শনাক্ত করা যায়।
গবেষকেরা একদল মানুষকে কম্পিউটারে তৈরি করা মুখমণ্ডলের অভিব্যক্তির ছবি দেখতে দেন। দলটির কাছে জানতে চাওয়া হয়, এর মাধ্যমে কোন আচরণটি প্রকাশ পাচ্ছে। অভিব্যক্তি প্রকাশের শুরুতে তাঁদের আচরণ কোনটি, এ নিয়ে বিতর্ক দেখা যায়। যেমন: নাক কুঁচকে যাওয়া দেখে দলের একটি অংশ জানায়, বিরক্তি প্রকাশ পাচ্ছে; আবার অপর অংশ দাবি করে, রাগ প্রকাশ পাচ্ছে। একইভাবে চোখ বড় হয়ে যাওয়া দেখে ভয় ও বিস্ময় দাবি করে দলের দুটি অংশ।
গবেষকেরা বলেন, আচরণের ভিন্নতা অনুযায়ী ব্যবহূত পেশিতে ভিন্নতা দেখা যায়। একই আচরণ প্রকাশে কখনোই সব পেশি একসঙ্গে কাজ করে না। বিবিসি।
সূত্র - প্রথম আলো

