মুখাবয়বযত সুন্দরই হোক না কেন, হাসতে বা কথা বলতে গিয়ে যদি দেখা যায় বর-কনের ভাঙা দাঁত, ফাঁকা দাঁত, মুখে দুর্গন্ধ, কালো দাগ যুক্ত দাঁত তাহলে উভয়ের পছন্দের মাঝে ভাটা পড়তেই পারে। তাই বিয়ের আগে বর-কনের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মুখের স্বাস্থ্যও নিশ্চিত করতে হবে।
বরের ক্ষেত্রে যে সমস্যা হতে পারে-
* ছেলেরা ধূমপান করলে দাঁতে কালো দাগ পড়ে। অতিরিক্ত চা-কফি পানেও এটি হতে পারে।
* মুখে দুর্গন্ধ থাকতে পারে।
* দাঁতে পাথর জমতে পারে।
* পানের দাগ থাকতে পারে।
* থাকতে পারে ভাঙা দাঁতের উপস্থিতি।
* দাঁতে ক্যারিজ থাকতে পারে।
কনের ক্ষেত্রে যা হতে পারে-
* মাড়ি লালচে এবং ফোলা ভাব।
* মুখে দুর্গন্ধ।
* আঁকা-বাঁকা, ফাঁকা দাঁত থাকতে পারে।
* বিবর্ণ দাঁত।
সমস্যানুযায়ী প্রতিকারও আছে যেমন-
* স্কেলিং, স্টেইন রিমুভিং ও পলিশিংয়ের মাধ্যমে দাঁতের অবাঞ্ছিত দাগ দূর করতে হবে।
মুখের দুর্গন্ধের নানা কারণ আছে। যেমন-
* কিছু খাবার আছে যা খেলে মুখে দুর্গন্ধ হয় যেমন বেশি মশলাদার খাবার, কাঁচা পেঁয়াজ-রসুন খাওয়া ইত্যাদি।
* বহুদিন ধরে দাঁতে পাথর জমলে।
* মাড়িতে ইনফেকশন থাকলে।
* দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ইনফেকশনে ভুগলে।
* সাইনুসাইটিস থাকলে।
* দাঁতে ক্যারিজ থাকলে।
* মুখে আলসার থাকলে।
* মুখে ফাংগাল ইনফেকশন থাকলে ইত্যাদি।
এর যথাযথ চিকিৎসা ডেন্টাল সার্জনের মাধ্যমে করিয়ে নিতে হবে।
* দাঁতে পাথর জমলে অবশ্যই স্কেলিং পলিশিং করিয়ে নিতে হবে।
* দাঁতে পানের দাগসহ কঠিন কোন দাগ থাকলে ব্লিচিং করিয়ে নেয়া যেতে পারে।
* মুখে ভাঙ্গা-ফাটা ক্ষয়ে যাওয়া দাঁত থাকলে ক্যাপ বা ক্রাউন করে নিলে হারানো সৌন্দর্য পুরোপুরি ফিরে পাওয়া সম্ভব।
* চোয়ালে কোথাও দাঁত না থাকলে ব্রিজের মাধ্যমে তা প্রতিস্থাপন করে নিতে হবে।
* দাঁতে ক্যারিজ থাকলে তার অবস্থান, বিস্তৃতি ও রোগের ইতিহাস জেনে প্রয়োজনেএক্সরে করে ফিলিং বা রুট ক্যানেল ক্যাপ করে দাঁতের হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্যফিরিয়ে আনতে হবে।
* হাসলে লাল টকটকে ফোলা মাড়ি দেখা দিলে মাড়ির চিকিৎসা করাতে হবে।
* আঁকা-বাঁকা ফাঁকা দাঁতের চিকিৎসা করাতে হবে। এ চিকিৎসা ব্যববহুল ও সময় সাপেক্ষ- তাই বিয়ের কমপক্ষে এক দেড় বছর আগে থেকে এ চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
বিবর্ণ দাঁতের অনেক কারণ আছে। যেমন-
* আঘাতের ফলে সৃষ্ট বিবর্ণ দাঁত।
* টেট্রাসাইক্লিন পিগমেন্টেশন।
* জিনগত কারণ ইত্যাদি।
সমস্যাও রোগের ইতিহাস জেনে দাঁত পরীক্ষা করে বিবর্ণ দাঁতে বিভিন্ন রকম চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে। যেমন লেমিনেটিং ফিলিং, ক্রাউন ইত্যাদি। এছাড়াও দাঁতে ব্লিচ করা যেতে পারে।
দাঁতে ব্যথা থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যথার কারণ খুঁজে যথাযথ চিকিৎসা করাতে হবে।
সূত্র – যুগান্তর.কম

