স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে ধীরে ধীরে। তবুসঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না হওয়ায় জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে এটি।তাই প্রতি মাসে একবার নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করতে হবে। ২০ বছর বয়স থেকেএ পরীক্ষা করা উচিত। আর প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করার প্রথম ধাপনিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করতে জানা।
স্তন ক্যানসারের প্রথম উপসর্গ স্তনেবা বগলে চাকা। প্রাথমিক অবস্থায় ৯৫ শতাংশ রোগীর স্তনের চাকায় কোনো ব্যথাথাকে না। অন্য কোনো উপসর্গ না থাকায় বেশির ভাগ রোগীই চিকিৎসকের পরামর্শনিতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর দেরি করে ফেলেন। তত দিনে স্তনের চাকা বড় হয়েযায়, স্তনের ওপরের ত্বক ও বগলের গ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়ে।
নিজে কীভাবে স্তন ক্যানসার পরীক্ষা করবেন
এইপরীক্ষা করতে সময় লাগে ১৫ মিনিট। প্রয়োজন একটি নিরিবিলি ঘর ও বড় আয়না।ঋতুচক্র শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে এ পরীক্ষা করলে সবচেয়ে ভালো হয়।কারণ, সে সময় স্তন কিছুটা হালকা থাকে। মেনোপজ হয়ে গেছে কিংবা জরায়ুরঅস্ত্রোপচার হওয়া নারীরা মাসের যেকোনো দিন এ পরীক্ষা করতে পারেন। তবে মনেরাখার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন।
আয়নার সামনে
আয়নারসামনে দাঁড়িয়ে পর্যাপ্ত আলোয় কাপড় সরিয়ে নিজেকে ভালোভাবে লক্ষ করতেহবে। প্রথমে দুই বাহু দেহের দুই পাশে ঝুলিয়ে দাঁড়াতে হবে। তারপর দুই বাহুমাথার ওপর উঁচু করতে হবে। এবার দুই হাত কোমরে চেপে দাঁড়াতে হবে, যাতেবুকের মাংসপেশি টানটান হয়। হালকা করে স্তনের বৃন্ত চেপে দেখতে হবে।
লক্ষ করার বিষয়
স্তনের আকার-আকৃতি ও রঙের পরিবর্তন আছে কি না।
স্তনের ত্বক কমলার খোসার মতো পুরু হয়ে আছে কি না।
স্তনের বৃন্ত ভেতরে ঢুকে গেছে কি না।
স্তনের বৃন্ত থেকে নিঃসৃত তরলের রং কী?
হাত দিয়ে পরীক্ষা করা
বিছানায়শুয়ে ও গোসলের সময় সাবান মেখে দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে স্তন পরীক্ষা করতেহবে। ডান স্তন পরীক্ষা করার সময় ডান হাত মাথার ওপর রেখে বাঁ হাত ব্যবহারকরতে হবে এবং বাঁ স্তনের জন্য বাঁ হাত মাথার ওপর রেখে ডান হাত দিয়েপরীক্ষা করতে হবে। মাঝের তিন আঙুল ব্যবহার করতে হবে। প্রথমে একটু হালকাচাপ, পরে আরও একটু ভারী চাপ এবং তৃতীয় পর্যায়ে বেশ জোরে চাপ দিয়ে স্তনটিস্যু-সংবলিত পুরো এলাকা পরীক্ষা করতে হবে। স্তন টিস্যুতে চাপ রাখা আঙুলেরপ্যাড (ঘুর্ণমান লাটিমের মতো) একটি অক্ষের ওপর কয়েকবার করে ঘুরিয়ে অনুভবকরতে হবে। আয়নায় পর্যবেক্ষণ ও হাত দিয়ে পরীক্ষা করে যেকোনো পরিবর্তন ওচাকা লক্ষ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, এ রোগের প্রথমশনাক্তকারী কেবল আপনি নিজেই হতে পারেন।
সূত্র - প্রথম আলো

