ক্লান্তি দূর করতে, অতিথি আপ্যায়নে সবুজ চায়ের জুড়ি নেই। এই চায়ের আরেকটি বড় গুণ আবিষ্কার করেছেন গবেষকেরা। তাঁদের মতে, সবুজ চায়ে ক্যানসার প্রতিরোধী উপাদান রয়েছে। এমনকি যাঁরা নিয়মিত সবুজ চা পান করেন, তাঁদের স্তন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কম।
চীন, জাপান, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে চায়ের ওপর অনেক গবেষণা হয়েছে। জানা গেছে, এই চায়ে ঔষধি গুণাগুণসহ রয়েছে ভিটামিন,খনিজ লবণ ও রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পলিফেনলস।
গবেষকদের মতে, চায়ের এসব উপাদান শরীরে ক্যানসার গঠনের প্রতিটি স্তরে সক্রিয় প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। ক্যানসার তৈরি হওয়ার উপাদানগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। দেহকোষ ক্যানসারে রূপান্তরিত হতে শুরু করলে চায়ের পলিফেনল বিশেষ করে কোটসিল ভিটামিন ও খনিজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে। চায়ের বিশেষ পলিফেনল উপাদানটি ক্যানসার কোষের রক্ত চলাচল বন্ধ করে দিয়ে ক্যানসার কোষ বিনষ্ট করে দেয়। চা-পাতার পলিফেনল স্তন, খাদ্যনালি, প্রস্টেট ও মুখের ক্যানসার প্রতিরোধেও বিশেষভাবে কাজ করে।
সবুজ চায়ের উপকার পেতে হলে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ কাপ সবুজ চা পান করতে হবে। সবুজ ও লাল চা দুটোতেই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, তবে সবুজ চা পাতায় সতেজতা অনেক বেশি এবং খেতে ভালো। মনে রাখতে হবে যে দুধ-চিনি দিয়ে চা-পান করা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এতে চায়ের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়।
এ ছাড়া স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সবুজ চায়ের পাশাপাশি সবুজ শাকসবজি, মাশরুম, আম, জাম, পেয়ারা, বেদানা, তরমুজ ও আপেল খাদ্যতালিকায় যুক্ত করতে হবে। সবুজ চায়ের সম্পূর্ণ গুণাগুণ পেতে হলে নিম্ন উপায়ে চা তৈরি করতে হবে:
ক. চায়ের কেতলি গরম রাখার জন্য গরম পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।
খ. এক কাপ চায়ের জন্য কেতলিতে এক চা চামচ সবুজ চা নিতে হবে।
গ. ফুটন্ত পানি কেটলিতে ঢেলে কেটলির মুখ বন্ধ করে তিন থেকে পাঁচ মিনিট রাখতে হবে। তারপর পরিবেশন করা যাবে।
ঘ. চা সঙ্গে সঙ্গে পান না করা হলে চা-পাতাগুলো তুলে ফেলে দিতে হবে, তা না হলে চায়ের স্বাদ তিতা হয়ে যাবে।
ঙ. চায়ের স্বাদে ভিন্নতা আনতে এক টুকরো আদা (ছেঁচে)ও দারচিনি দিতে পারেন।
সূত্র - প্রথম আলো

