গর্ভাবস্থার পর দ্রুত মেদ কমাবেন যেভাবে
24 May,14
Viewed#: 277

গর্ভাবস্থায় যেহেতু বাচ্চার পুষ্টির জন্য বেশি করে খাওয়া লাগে এ কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে পেটে মেদ জমে যায়। একটি বাচ্চা হওয়ার পর আবার বাচ্চা নিতে গেলে শরীরের জমে যাওয়া অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফেলা অনেক জরুরী। গর্ভাবস্থার পর মেদ কমানো কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়।
যদি গর্ভধারণের সময় আপনার ওজন স্বাভাবিক থেকে থাকে এবং গর্ভাকালীন সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার ১১-১৫ কেজি ওজন বেড়ে যায় তাহলে গর্ভাবস্থার পর আপনার মেদ কমিয়ে আগের অবস্থায় যেতে ৪/৫ মাসের বেশি সময় লাগার কথা না যদি আপনি খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখেন ও নিয়মিত ব্যায়াম করেন।
অন্য ক্ষেত্রে আপনার ওজন যদি গর্ভধারণের আগে থেকেই বেশি থাকে তাহলে ওজন কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় যেতে হলে আপনার ১ বছরের মত সময় লাগতে পারে।
ওজন কমানোর জন্য আপনার বাচ্চা হওয়ার ৬ মাস পর থেকেই প্ল্যান করা উচিত। অনেক মহিলার ক্ষেত্রে বাচ্চা হওয়ার ৬ সপ্তাহের মধ্যেই শরীর নিজেই বাড়তি মেদ খানিকটা ছাড়া শুরু করে। বাকি টুকু নির্ভর করে আপনার উপর। তাই বাড়তি মেদ কমানোর জন্য আপনি যা করতে পারেনঃ
গর্ভাবস্থার পর খাদ্যাভ্যাসঃ
এই স্বাস্থ্যসম্মত টিপস গুলো আপনার স্বাস্থ্য ঠিক রেখে ওজন কমাতে আপনাকে সাহায্য করবে
প্রতিদিন ঠিক সময়ে খেয়ে নিবেন। নতুন মা রা অনেক সময় ঠিক সময়ে খেতে ভুলে যায়, এর ফলে দেখা যায় শরীরের শক্তি কমে যায়। মনে রাখবেন এর ফলে কিন্তু আপনার ওজন কমবে না। শুধু শক্তিই হারাবেন।
৩ বেলা বেশি করে না খেয়ে সারাদিনে ৫/৬ বার কম করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এর মাঝে হাল্কা নাস্তা করুন ক্ষুধা মেটানোর জন্য।
সকালের নাস্তা কখনই বাদ দিবেন না। অনেকে মনে করে সকালের নাস্তা না করলে বাড়তি মেদ কমানো সম্ভব। তবে এটা ভুল। সকালে খাওয়া খাবার সারাদিনে শরীরের শক্তি যোগাতে সাহায্য করে। এছাড়া সকালে নাস্তা করলে আপনার দিনে ক্ষুধা পাবে কম তাই আপনি খেতেও পারবেন কম।
যখন খাবার খাবেন তখন সময় নিয়ে খাবেন। পেট ভরতে কিন্তু সময় লাগে না। তাই আপনি যদি সময় একটু বেশি নিয়ে অল্প পরিমাণে খাবার খান তাহলে আপনি নিজেকে উপলব্ধি করাতে পারবেন যে আপনার পেট ভরে গেছে। এতে করে আপনার বেশি খাবার নেয়ার সুযোগ কমে যাবে।
কম চর্বি সম্মত দুধ ও দুধের তৈরী খাবার খাবেন। পারলে চর্বি-মুক্ত দুধের তৈরী খাবার খাবেন।
যখন আপনি নাস্তা খাবেন চেষ্টা করবেন সেখানে বেশি করে ফল ও সবজী রাখতে। আপেল, কমলালেবু, বেরী, কলা, গাজর এসব বেশি করে খাবেন নাস্তার জন্য। এগুলোতে ফ্যাট কম থাকে কিন্তু প্রচুর পরিমাণে তন্ত ও ভিটামিন থাকে।
দিনে ৮-৯ কাপ তরল খাদ্য যেমনঃ ফলের রস, স্যুপ খান। পানি সবচেয়ে ভালো নির্বাচন এ ক্ষেত্রে। পানি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। সোডা, ঠান্ডা পানীয়, কেনা জ্যুস ও যেসব তরল খাদ্যে চিনি আর ক্যালরি বেশি থাকে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
মসলা জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে সেদ্ধ ও হাল্কা তেলে রান্না করা খাবার খাবেন।
চিনি জাতীয় খাবার ও মিষ্টি খাওয়া যাবে না।
শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানঃ
আপনি যদি আপনার সন্তানকে বুকের দুধ পান করিয়ে থাকেন তাহলে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বেশি জোর দিবেন না। দ্রুত মেদ কমানোর প্রচেষ্টায় থাকলে আপনার বাচ্চা কম দুধ পাবে। দেড় সপ্তাহে ১ কেজি করে ওজন কমলে আপনার বুকের দুধের সরবরাহ ঠিক থাকবে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শরীরের ক্যালরি পুড়তে থাকে। তাই এটি আপনার অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করবে। আপনি যদি ধৈর্য্য ধরতে পারেন তাহলে আশ্চর্য হয়ে যাবেন যে শুধু বুকের দুধ পান করিয়েই আপনি অনেক ওজন কমিয়ে ফেলেছেন।
ক্র্যাশ ডায়েট একেবারেই মানাঃ
ওজন কমানোর লক্ষ্যে ভুলেও ক্র্যাশ ডায়েটে (পরিমিত না খাওয়া) যাবেন না। এতে অল্প সময়ে আপনার ওজন অনেক খানি কমে গেলেও পরে খাদ্যাভ্যাস আগের মত করলে আবার ওজন বেড়ে যাবে ও শরীরেরও ক্ষতি হবে।
বাস্তববাদী হউনঃ
অনেক চেষ্টা করার পরও দেখা যেতে পারে যে আপনি গর্ভাবস্থার পর খানিক ওজন কমাতে পারলেও আপনার শেপ আর আগের মত হয় নি। এর কারণে হতাশ হবেন না। কেননা অনেক মহিলার ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা শরীরে এমন কিছু বদল আনে যা আর ঠিক করা যায় না। আপনার পেটের চামড়া ঝুলে যেতে পারে, নিতম্ব চওড়া হতে পারে, কোমরের মাপ বেড়ে যেতে পারে। এরকম হলে এই অবস্থাতেই কিভাবে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলবেন সেটি নিয়ে ভাবুন।
ব্যায়ামঃ
স্বাস্থ্যকর খাদ্যের সাথে ঠিকমত ব্যায়াম করাই গর্ভাবস্থার পর দ্রুত ওজন ও মেদ কমানোর সবচেয়ে সঠিক পন্থা। প্রতিদিন একটু করে ব্যায়াম করুন। যখন দেখবেন আপনার মেদ কমা শুরু হয়েছে তখন থেকে প্রতিদিন একটু করে খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কমিয়ে দিন ও একটু বেশি নড়াচড়া করা শুরু করুন। কঠোর রুটিনের মধ্যে ফেলাটা খুব কষ্টের হবে তবে একবার যদি এটি করতে পারেন তখন আর খারাপ লাগবে না রুটিনের মধ্যে থাকতে। আবার খেয়াল রাখবেন শরীরের প্রতি যেন বেশি কঠোরও হয়ে না যান। প্রতিদিন বাচ্চাকে ট্রলারে নিয়ে ২০-৩০ মিনিট হেঁটে আসলে আপনার ও আপনার বাচ্চার মন যেমন ভালো হবে আপনার স্বাস্থ্যও আরও ভালো হবে।
এছাড়া বাসায় বসে প্রতিদিন বেসিক ক্রাঞ্চ করতে পারেন। ওজন কমাতে বেশ ভালো কাজ করবে এটি। যেভাবে করবেন,
-মেঝে বা শক্ত বিছানায় সোজা হয়ে ও হাঁটু বাকিয়ে শুয়ে পড়ুন (ছবি থেকে ধারণা নিন)
-হাত দুটি মাথার পেছনে রাখুন যেন আপনার হাতের বুড়ো আঙ্গুল কানের পেছনে থাকে (আঙ্গুল গুলো একটি আরেকটির সাথে পেচিয়ে রাখবেন না)
-এবার কনুই এর উপর মাথা ভর দিয়ে কাঁধ মেঝ থেকে ১/২ ইঞ্ছি উত্তোলন করুন। এ সময় ঘাড় সোজা ও চিবুক উঁচু রাখবেন
-৩/৪ সেকেন্ড এভাবে থেকে ধীরে আবার মেঝে কাঁধ নিয়ে আসুন
-১৫/২০ বার পুনরাবৃত্তি করুন প্রক্রিয়াটি
পেটের মেদ কমানোর জন্য বেসিক ক্রাঞ্চ খুবই কার্যকরী। এছাড়া আপনার শরীরের অবস্থার উপর ভিত্তি করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আরও বিভিন্ন ধরণের ব্যায়াম করতে পারেন।