home top banner

Health Tip

বার্ধক্য রোধে হরমোন
11 March,14
Tagged In:  aging hormones  hormone therapy  
  Viewed#:   274

aging-hormonesহরমোন দেহের এক ধরনের কেমিক্যাল, যা আমাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখতে সহায়তা করে। আমাদের দেহে প্রাকৃতিকভাবেই হরমোন উৎপন্ন হয়। কিছু হরমোনের পরিমাণ বার্ধক্যে কমতে থাকে কিংবা দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণ উৎপন্ন করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। এ হরমোনগুলো হল- উঐঊঅ, গ্রোথ হরমোন, টেসটোসটেরন ও ইস্ট্রোজেন। যৌবন কিংবা বয়স ধরে রাখার জন্য দেহের বাইরে থেকে এগুলোর প্রয়োগ কতটুকু ফলপ্রসূ অথবা এসব হরমোন আদৌ কার্যকরী কিনা তা আজও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যাদের হরমোনের ঘাটতি রয়েছে তাদের কিছুটা উপকার হলেও এসব হরমোনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। সঠিক মাত্রায় প্রয়োগে দেহ সুস্থ থাকবে, কিন্তু ভুল হলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেহের অভ্যন্তরে কোষের সমষ্টিতে গ্রন্থির সৃষ্টি এবং নালিবিহীন গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোন রক্তে মিশ্রিত এবং বাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে কাজ করে। বাইরে থেকে প্রয়োগকৃত হরমোন দেহে বেশি মাত্রায় অবস্থান করতে পারে। ফলে নেগেটিভ প্রভাব দেখা দেয়। দেহের বৃদ্ধি সাধনকারী গ্রোথ হরমোন নিয়ে আলোচনা করা যাক। কারও কারও মতে, এই হরমোন বার্ধক্যের লক্ষণ কমাতে পারে। 

মাংসপেশির বৃদ্ধি, চর্বি কমানো, দেহে শক্তি ও ভালোলাগা এবং সুস্থ থাকার অনুভূতি সৃষ্টিতে এই হরমোন সহায়ক। মস্তিষ্কে অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থিকে মাস্টার গ্লান্ড বলা হয়। এ থেকে গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়ে থাকে। শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর মাত্রা কমে যেতে থাকে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে বাইরে থেকে প্রয়োগকৃত এই হরমোন ব্যক্তিবিশেষে উপকার নিয়ে আসতে পারে। অনেক সময় শিশুরা অস্বাভাবিক খাটো হতে পারে যদি তাদের শরীরে এই হরমোন সঠিকভাবে তৈরি না হয়। এ ক্ষেত্রে বাইরে থেকে হরমোন প্রয়োগ করলে তার দৈহিক বৃদ্ধি ঘটবে। তরুণ বয়সে গ্রোথ হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী পিটুইটারি গ্রন্থি টিউমারের জন্য অথবা অন্য কোনো অপারেশনে ফেলে দিতে হলে এই হরমোন আর তৈরি হয় না। এ ক্ষেত্রে মেদবহুল দেহের সৃষ্টি হয়। এ রোগীকে বাইরে থেকে হরমোন প্রয়োগে ওজন কমে আসবে।

গবেষণা হচ্ছে, গ্রোথ হরমোন বৃদ্ধ বয়সে প্রয়োগের ফলে মাংসপেশি শক্তিশালী ও দেহের চর্বি কমানো যায় কি না। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস, ত্বক ও টিস্যুতে পানি আসা, ব্লাড ক্যান্সার বেড়ে যেতে পারে, হার্ট ফেইলুর এবং অস্থিসন্ধিতে ব্যথা। টেসটোসটেরন হরমোন নিয়ে আলোচনা করা যাক। এটি পুরুষ হরমোন হলেও নারী-পুরুষ উভয়ের দেহে টেসটোসটেরন উৎপাদিত হয়। পুরুষের দেহে টেসটোসটেরনের মাত্রা বেশি হওয়াতে পুরুষালী লক্ষণ যেমন কণ্ঠস্বর ভরাট, দাড়ি-গোঁফ গজানো এবং মাংসপেশির প্রশস্ততা দেখা দেয়। বার্ধক্যে টেসটোসটেরনের মাত্রা কমে যেতে পারে। বার্ধক্যে যে যৌন দুর্বলতা দেখা দেয় তার সবগুলোর কারণই কিন্তু টেসটোসটেরন কমে যাওয়ার জন্য নয়। ডায়াবেটিস রোগ, রক্তনালির সমস্যা ইত্যাদি আরও কিছু কারণ রয়েছে। ওষুধ হিসেবে টেসটোসটেরন ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক আগে থেকেই, তবে তাদেরই ব্যবহার করা উচিত যাদের দেহে টেসটোসটেরন মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম রয়েছে অথবা যাদের দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে হরমোন তৈরি হচ্ছে না। যেমন যাদের মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি কোনো কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। টিউমার অথবা ইনফেকশনের কারণে এমনটি হতে পারে অথবা টেসটোসটেরন উৎপাদনকারী কোষ ক্ষতিগ্রস্ত অথবা অসুস্থ থাকার কারণেও হতে পারে। যাদের টেসটোসটেরনের ঘাটতি রয়েছে তাদের বাইরে থেকে এই হরমোন গ্রহণে উপকারিতা ও কার্যকারিতা রয়েছে। এই হরমোনের অভাবে পুরুষদের মাংসপেশি ও হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

যৌন উদ্দীপনা ও আগ্রহ কমে যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত প্রয়োগ ও ব্যবহার ক্ষতিকর। স্টেরয়েড ও টেসটোসটেরন হরমোনের অতিরিক্ত ব্যবহার মাংসপেশি ও শক্তির বৃদ্ধি ঘটাতে গিয়ে সমস্যা জটিল হয়েছে- এমন উদাহরণও রয়েছে। দেখা গেছে, এদের বেশির ভাগের এই হরমোন স্বাভাবিক মাত্রা রয়েছে এবং বাইরে থেকে প্রয়োগের ফলে হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যায়, দেহের চর্বি ও কলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে পরবর্তীতে হৃদরোগের সৃষ্টি করতে পারে। বন্ধ্যত্ব ও ব্রণও সৃষ্টি হতে পারে। আপনার চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন বার্ধক্যে হরমোন গ্রহণ কতটুকু প্রয়োজন ও এর কতটুকু উপকারিতা হবে। 

সূত্র - দৈনিক যুগান্তর

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: অমনোযোগিতাও অসুখ!
Previous Health Tips: স্মৃতিশক্তি কম? বাড়িয়ে নিন!!!

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')