home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

অমনোযোগিতাও অসুখ!
১৫ মার্চ, ১৪
Tagged In:  lack of concentration  
  Viewed#:   155

বাচ্চারা দুষ্টুমি করবেই, কিন্তু কোনো কোনো বাচ্চা এমন ডানপিটে যে কিছুতেই বাবা-মা তার সঙ্গে পেরে ওঠেন না। তিন-সাত শতাংশ স্কুলবয়সী বাচ্চার ক্ষেত্রে এমন হয়। এটা একটা অসুখ। যার সংক্ষিপ্ত নাম এডিএইচডি মানে 'অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভিটি ডিজঅর্ডার' বা মনোযোগ ঘাটতিজনিত দুরন্তপনা। এ অসুখে আচরণজনিত তিনটি বৈশিষ্ট্য সাধারণত থাকে।lack of concentration

* অমনোযোগিতা

* দুরন্তপনা

* অদ্ভুত তাড়না।

শৈশবকালে

অমনোযোগী শিশু কদাচিৎ কোনো একটা কাজে মনঃসংযোগ ধরে রাখতে পারে। কোনো কাজ শুরু করলে কয়েক মিনিটের মধ্যে তাতে আর উৎসাহ থাকে না। আগেরটা বাদ দিয়ে আবার ঝাঁপিয়ে পড়ে অন্য কোনো কিছুতে। কোনো কিছুতেই স্থিরতা নেই। একমুহূর্তের জন্য সে কোথাও বসে থাকতে পারে না। রুমে বা যেখানে অবস্থান করছে, হয় পা দিয়ে, না হয় হাত দিয়ে সবকিছু সে ছুঁয়ে যাচ্ছে, ঠেসে ধরছে অথবা অনর্গল বকবক করে চলেছে। এটাই এ সময় রোগটির লক্ষণ।

দেখে মনে হয় যেন এক অদ্ভুত তাড়না শিশুটির মধ্যে কাজ করে সব সময়। কোনো কিছু করার আগেই যেন নতুন চিন্তা তার মধ্যে ভিড় করে। ফলে সে কোনো কিছু না দেখে গাড়ি চলাচলের রাস্তায় দৌড়ে চলে যেতে পারে, ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যেতে পারে, একা একাই করে ফেলতে পারে বিপজ্জনক কোনো কাজ।

বয়ঃসন্ধিকালে

এডিএইচডিতে ভোগা ৭০ শতাংশ ছেলেমেয়ে বয়ঃসন্ধিকালে উপনীত হতে হতে উদ্দীপ্ত তাড়নাজাত আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। সমস্যার সমাধানে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে তালগোল পাকিয়ে ফেলে এবং কৈশোর-যৌবনকালজুড়ে অমনোযোগিতার জন্য কাঙ্ক্ষিত ফল লাভে ব্যর্থ হয়। এ সময় এ অসুখের লক্ষণের মধ্যে থাকে-

* স্কুলে বা বাসায় সাধারণভাবে ছন্নছাড়া সময় পার করে দেওয়া

* যেকোনো কার্যক্রমে দেরিতে অংশগ্রহণ ও তাড়াহুড়ো করে শেষ করার চেষ্টা করা

* নিয়মিতভাবে হোমওয়ার্ক ঠিক সময়ে শেষ করতে না পারা

* কিছুক্ষণের জন্য মনঃসংযোগ দিয়ে কাজ করলেও আবার অন্য কোথাও মন হারিয়ে ফেলা

* সব কাজ একদম শেষ সময়ে সম্পাদন

* তাড়াহুড়ো করে কাজ করলেও নিখুঁত থাকার প্রবণতা

* যখন সে কথা বলে তখন আর কারো কিছু না শোনা।

অসুখের কারণ

এখন পর্যন্ত অসুখটির সঠিক কারণ পাওয়া যায়নি। তবে কিছু গবেষণায় জেনেটিক উপাদানকে দায়ী মনে করা হচ্ছে। আরো কিছু কারণ আছে, সেগুলো হলো-

* মা-বাবার বাচ্চাকে ঠিকভাবে গড়ে তুলতে না পারা

* প্রসবকালে কিংবা অন্য দুর্ঘটনায় ব্রেনে অগভীর চোট পাওয়া

* ব্রেনে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি

* মগজের মনঃসংযোগ কেন্দ্রগুলোতে গ্লুকোজের মাত্রা কম থাকা

* গর্ভাবস্থায় ধূমপায়ী বা নেশাগ্রস্ত মায়ের শরীর থেকে ক্ষতিকারক উপাদানে আক্রান্ত হওয়া

* খাবারে সুষম পুষ্টিমান বজায় না থাকা।

চিকিৎসা

এডিএইচডি শিশু তিন উপশ্রেণীতে বিভক্ত

* বাচ্চা মূলত অতিদুরন্ত ও

অতিতাড়িত প্রবৃত্তির

* মূলত অমনোযোগী

* ওপরের দুটোই।

এসব শিশুর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সমন্বিতভাবে করতে হয়। প্রথমে দেখে নিতে হবে শিশু অন্য কোনো অসুখে ভুগছে কি না, যদি ভোগে; তবে তার চিকিৎসা করে নিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে নিচের বিষয়গুলো প্রয়োগ করতে হবে।

এডুকেশনাল প্রোগ্রাম : শিশুকে পড়ালেখা করতে উৎসাহ দিতে হবে। যেকোনো বিষয়ে ভালো করলে তাকে পুরস্কৃত করতে হবে। ভয়ভীতি দেখানো চলবে না। বন্ধুর মতো আচরণ করতে হবে। ঠিক সময়ে স্কুলে যাওয়া, হোমওয়ার্ক করা ইত্যাদি বিষয়ে বাবা-মা ও অভিভাবককে সাহায্য করতে হবে।

সাইকোলজিস্ট : কখনো কখনো সাইকোলজিস্টের কাছে গিয়ে চেকআপ করা ও তাদের পরামর্শ গ্রহণ জরুরি। সাইকোলজিস্টরা সহজেই বাচ্চার মানসিক অবস্থা পরিমাপ করে তার জন্য উপযোগী পদ্ধতি বলে দিতে পারেন।

দৈনন্দিন রুটিন : সকালে ঘুম থেকে উঠা থেকে আবার ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত একটি রুটিন তৈরি করে তা মেনে চলার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। প্রতিটি কাজ একটা নির্দিষ্ট সময়ে শুরু ও শেষ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তাহলে অমনোযোগিতা ধীরে ধীরে কমে যাবে।

ওষুধ : ইদানীং কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। শিশু নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে এ ধরনের ওষুধ সেবন করানো যেতে পারে।

সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: গরমেও থাকুন সুস্থ সতেজ
Previous Health Tips: বার্ধক্য রোধে হরমোন

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')