আপনাদের সম্পর্ক যথেষ্ট শক্তিশালী এবং আজীবনের জন্য কিনা তা বোঝার ৬ টি লক্ষণ
15 January,14
Viewed#: 370
নতুন বছর শুরু হয়েছে, যার মানে নতুন লক্ষ্য অর্জনের এখনি সময়, নতুন অঙ্গিকার, একটি নতুন আপনি। তবে এটা আশা করা যায় এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আপনার এ নতুন বছরে কোনও অদল বদল হবে না তা হল আপনার সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক। আমরা বিবাহের অন্তর্নিহিত বিষয় গুলি জানি। ঝলমলে উপস্থিতি, চমৎকার পার্টি, এবং রুমের ভেতরে হট টাব সম্বলিত হানিমুন স্যুট কখনও বিবাহকে সুখী করে না। এখনকার দিনে সম্পর্ক নানা ধরণের এবং নানা আকারের হতে দেখা যায়, বিয়ে না করে যুগলদের লিভ টুগেদার করতে দেখা যায়, অথবা রক্ষণশীল-নয় এমন ধরণের পারিবারিক বন্ধনে যুক্ত হতে দেখা যায়। সুতরাং আজীবনের জন্য সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি কি হতে পারে? আজীবনের জন্য সম্পর্ক স্থায়ী হবে কিনা তা জানার লক্ষণগুলি নীচে দেখে নিতে পারেন!
১. বিশ্বস্ততা বজায় রাখুন
আপাত দৃষ্টিতে, সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়িত্বের বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে বিস্ময়কর ভাবে বেশ সহজ। Time এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধ অনুযায়ী এক দল গবেষক যুগলদেরকে প্রথমে কেবল তাদের জীবনসঙ্গীর ছবির দিকে তাকিয়ে দেখে তারা কি “সুখী” নাকি “অসুখী” এটা জিজ্ঞাসা করে তার উত্তরের ভিত্তিতে এটা পরিমাপ করেছেন তারা কতটা সুখী। যুগলদের মধ্যে যারা বেশ কিছুক্ষণ খুঁটিয়ে দেখে “দুঃখী” ছবিটি সনাক্ত করেছেন তারা হল সুখী যুগল, অপরদিকে যারা বেশ দ্রুত দুঃখী ছবিটি সনাক্ত করেছেন তারা অসুখী। এর কারণ? অসুখী যুগলরা, অনেকটা অবচেতনেই যারা তাদের সঙ্গীর ছবির দিকে তাকিয়েছে, তারা ইতোমধ্যেই “অসুখী” মানসিকতার মধ্যে আছে, এবং এর ফলে তারা সহজেই এবং দ্রুত অসুখী ছবিটির দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করতে পারে।
২. সঙ্গী বিহীন অবস্থায় থাকার চেয়ে সঙ্গীর সাথে থাকা অবস্থায় আপনি একজন ভাল মানুষ
এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় আমার স্বামীর সাথে আমার সম্পর্ক আমাকে একজন আরও বেশী ভাল মানুষে পরিণত করেছে। যখন আমরা প্রথম ডেটিং শুরু করেছিলাম, তখন আমি বেশ হীনভাবে মুডি, আত্মবিশ্বাসবিহীন, এবং অনিরাপদ ব্যাক্তি ছিলাম এবং তার আবেগের প্রতি বেশ নিরুত্তাপ থাকতাম। এই দিন গুলিতে, আমি এখনও ঐ সকল বিষয় নিয়ে সংগ্রাম করছি, কিন্তু সে আমাকে “ন্যায্য যুদ্ধ” করা শিখতে সাহায্য করেছে, এবং আমার জন্য এমন একজন নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে যাকে আমি কখনও ছাড়তে পারব না।
৩. আপনারা সুখী হওয়ার জন্য একে অপরের উপর নির্ভর করেন না
আমি মনে করি না বিয়ে মানুষকে আরও বেশী সুখী করে তুলতে পারে এ সত্যটি নিয়ে দ্বিধান্বিত হওয়ার কিছু আছে, আমি আমার বিয়ের প্রথম দিকে এটাও ভাবতে শুরু করেছিলাম যে আমার “মিসেস” উপাধি হয়ত সুখী হওয়ার চাবিকাঠি। আমি নিশ্চিত হতে এটা চিন্তা করতাম যে আমাকে ভালবাসে এমন একজন স্বামী পাওয়া আমাকে আত্মবিশ্বাসী, নির্ভেজাল, সুখী ব্যক্তিতে পরিণত করবে যা আমি হতে চাইতাম, কিন্তু আমি বিস্মিত হলাম- সেটি ঘটেনি। নিঃসন্দেহে বিয়ে সুখী হওয়ার একটি উপায়, কিন্তু কেবল বিয়ে এককভাবে আপনাকে সুখী করতে পারবে না।
৪. আপনি পরমাত্মা তে বিশ্বাসী নন
আপনি যখন এটি নিয়ে সত্যই ভাবেন তখন পরমাত্মা নিয়ে সিদ্ধান্তে আসার মধ্যে স্বাভাবিক এবং অন্তর্নিহিত বিপদ থাকে। এর পরেও, এটা যদি সত্য হয় যে আমাদের পরমাত্মা আছে, তবে কে এমন আছে যাকে আমাদের সম্পর্কের সাথে সক্রিয় ভাবে জড়াতে পারি? এটি যদি আপনার নিয়তিতে থাকে, তবে তাই হবে, এটি কি সঠিক? আসলে, তা নয়। ভিন্ন রকমের সহজ ভালবাসার মতবাদ যেমনটি পরমাত্মারা চিত্রণ করতে পারে, সম্পর্ক বেছে নেয়া তার থেকে একেবারেই ভিন্ন ব্যাপার।
৫. আপনার বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রয়েছে
Glamour ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে কোন সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না তা বলার একটি ভাল এবং সহজতম উপায় হল যদি একটি যুগল বাস্তবসম্মত আচরণ প্রদর্শন করে এবং তাদের সম্পর্কের মধ্যে নির্ভেজাল শুভকামনা ছাড়া কোনরূপ অবাস্তব প্রত্যাশা না থাকে। এর মানে এটিও বুঝায় মানুষ শক্ত করে যে ধারনা আঁকড়ে ধরে থাকে তা পরিবর্তন করে না, এবং সম্পর্ক ধ্বংসের জন্য সব সময়েই এটি যথেষ্ট যদি আপনি এটা আশা করেন যে আপনার সঙ্গী কেবল আপনার জন্য নিজেকে বদলিয়ে ফেলবে।
৬. আপনারা একত্রে মিলে ভবিষ্যত স্বপ্নের বীজ বুনেন
একসাথে বর্তমান জীবন উপভোগ করতে বিরত রাখে না, অবশ্যই কেবল এমন উপায় নয়, বরং নিশ্চিত ভাবে একসাথে মিলে ভবিষ্যৎ জীবন যাপন করার উপায় বের করুন। একত্রে মিলে লক্ষ্য নির্ধারণ করে, আপনারা যে ধরণের জীবন যাপন করতে চান তার পরিকল্পনা করে, এবং তেমন একটি পথ অবলম্বন করতে হবে যা আপনাদের স্বপ্ন সমূহকে একত্রে বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করবে।