৫ টি চর্বিযুক্ত খাবার যা আপনাকে স্লিম করবে
15 January,14
Viewed#: 700
যারা খুব বেশী চর্বিযুক্ত খাবার খান তারা মোটা হয়ে যাবেন—কথাটি কি সত্য? আসলে তা নয়। বিজ্ঞান দেখিয়েছে যে চর্বিযুক্ত খাবার খেলেই আপনি মোটা হবেন না। যে সকল খাবার অপ্রয়োজনীয় ধরণের চর্বিতে বোঝাই সেগুলি আপনাকে মোটা বানিয়ে দিবে। ঝলসানো এবং সেঁকা খাবারের বহিরাবরণে থাকা ট্রান্স ফ্যাট (trans fat) এবং প্রক্রিয়াজাতকৃত এবং শস্যভোজী প্রাণীজ মাংসে প্রাপ্ত সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি থাকে যা ক্ষতিকর ভাবে আপনার শরীরের পুষ্টি সীমা অতিক্রম করে যায়। কিন্তু উপকারি চর্বি এর বিপরীতটি করে থাকেঃ সেগুলি আপনার ক্ষুধা প্রশমিত করে, আপনি দৈনিক যে খাবার খান তার থেকে ক্যালরি কমিয়ে দেয়, এবং এর সাথে আপনার হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা ও বিপাকীয় শক্তি বাড়িয়ে দেয়।
সুস্বাদু, চর্বিযুক্ত খাবার যা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে এখানে সেগুলি দেখুনঃ
১. তৃণভোজী গরুর মাংস
আমরা জানি তৃণভোজী গরুর মাংস কিছুটা বেশী দামী। কিন্তু এতে থাকা আপনার জন্য অতি মাত্রার উপকারি চর্বি একে আরও মুল্যবান করে তুলেছে। Nutrition Journal এ প্রকাশিত এক গবেষণাতে দেখা গেছে তৃণভোজী প্রাণীর মাংসে উচ্চ মাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়, যা হৃদরোগ এর ঝুঁকি কমায় বলে মনে করা হয়। প্রচলিত মাংসের তুলনায় তৃণভোজী গরুর মাংসে বেশ কম ক্যলরি পাওয়া যায় এবং তা আপনার কোমরে কম জমে আপনাকে প্রাকৃতিক ভাবে স্লিম রাখে। এটা বিবেচনা করুনঃ ৭ আউন্স পরিমাণে চর্বি ছাড়ানো সাধারণ একফালি মাংস থেকে আপনি ৩৮৬ ক্যালরি এবং ১৬ গ্রাম ফ্যাট পাবেন। কিন্তু ৭ আউন্স পরিমাণে একফালি তৃণভোজী গরুর মাংসে মাত্র ২৩৪ ক্যালরি এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট পাবেন—অর্থাৎ এক্ষেত্রে আপনি ১৫০ ক্যলরি কম পাচ্ছেন এবং আরও ভাল স্বাদ অনুভব করছেন।
২. অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েল ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধকারী পলিফেনল এবং হৃদপিণ্ড সবলকারী মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ এবং যখন স্লিম হওয়ার প্রসংগ আসে তখন এর মধ্যে সুন্দর শক্তিশালী কিছু সত্য পাওয়া যায়। স্থুলতা সম্পর্কিত সাম্প্রতিক এক গবেষণাতে দেখা গেছে যে অলিভ অয়েল সমৃদ্ধ খাবারে উচ্চ মাত্রায় এডিপোনেকটিন থাকে ফলে এটি উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারে পরিণত হয়। শরীরের চর্বি ভেঙ্গে ফেলার জন্য দায়ী একটি হরমোন হল এডিপোনেকটিন, এবং এটি আপনি যত বেশী গ্রহণ করবেন, তত বেশী পরিমাণে আপনার BMI কমার প্রবনতা দেখা যাবে। রান্নার কাজে এবং সালাদ ও সসে অলিভ অয়েল ব্যবহার করে আপনি আরও বেশী উপকৃত হতে পারেন।
৩. নারিকেল
নারিকেলে উচ্চ মাত্রায় সম্পৃক্ত চর্বি থাকে, কিন্তু এর অর্ধেকেরও বেশী আসে লরিক এসিড থেকে যা একটি মৌলিক লিপিড এবং এটি ব্যাকটেরিয়ার সাথে যুদ্ধ করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। লিপিড নিয়ে এক গবেষণাতে দেখা গেছে নারিকেল তেলের তৈরি সম্পুরক খাবার গ্রহণে প্রকৃতপক্ষে পেটের মেদ কমে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী অর্ধেক ব্যাক্তিকে দৈনিক দুই টেবিল চামচ নারিকেল তেল এবং বাকি অর্ধেক ব্যক্তিকে দৈনিক দুই টেবিল চামচ সয়াবিন তেল খেতে দিয়ে দেখা গেছে কয়েকদিন পরে উভয়েরই সার্বিক ওজন কমেছে, কিন্তু কেবল যারা নারিকেল তেল খেয়েছেন তাদেরই কোমরের পরিধি কমেছে। দইয়ের উপর চিনিবিহীন কয়েক ফালি নারিকেল ছড়িয়ে দিয়ে অথবা নারিকেলের দুধ দিয়ে ভাজি করা খাবার খেয়ে আপনি আপনার কোমরের মেদ ঝরাতে পারেন।
৪. বাদামী চকোলেট
আপনার মিষ্টি মুখের জন্য খুশীর খবরঃ চকোলেট আপনার পেট সমান করে দিতে সাহায্য করতে পারে। বাদামী চকোলেট এটি করবে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণাতে দেখা গেছে খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা আগে যারা ৩.৫ আউন্স মিল্ক চকোলেট খেয়েছেন তাদের তুলনায় যারা ঐ পরিমাণ বাদামী চকোলেট খেয়েছেন তাদের ১৭ শতাংশ ক্যালরি কম গ্রহণ করা হয়েছে। গবেষকরা এটা বিশ্বাস করেছেন এ কারনে যে বাদামী চকোলেটে খাঁটি কোকোয়া বাটার থাকে যা হজমের গতি ধীরকারী স্টেয়ারিক এসিডের একটি উৎস। অপর দিকে মিল্ক চকোলেটের কোকোয়া বাটারের মধ্যে বাটার ফ্যাট যোগ করা হয়, এর ফলাফল স্বরূপ তা আরও দ্রুত পৌষ্টিক নালীতে শোষিত হয়ে বাদামী চকোলেটের বিপরীত কাজ করে। যেহেতু বাদামী চকোলেট হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দেয় তাই এটি খাবার ইচ্ছাও কমিয়ে দেয় ফলে আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে।
৫. অ্যালমন্ড বাটার
অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে উচ্চ ফ্যাট সমৃদ্ধ হওয়া সত্বেও অ্যালমন্ড (কাঠবাদাম বা খুবানি) আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। International Journal of Obesity and Related Metabolic Disorders এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে দেখা গেছে তুলনামূলক দুইটি খাদ্য তালিকা নিয়ে ছয়মাস ব্যাপী এক গবেষণা চালানো হয়েছিল। এক গ্রুপকে কম ফ্যাটযুক্ত কম ক্যলরি সম্পন্ন (১৮ শতাংশ ফ্যাট) খাবার ছয় মাস খাওয়ানো হল এবং অপর গ্রুপকে সহনীয় ফ্যাটযুক্ত (৩৯ শতাংশ) খাবারের সাথে অতিরিক্ত ফ্যাট হিসাবে অ্যালমন্ড দেয়া হল। যদিও উভয় গ্রুপ একই পরিমাণে মোট ক্যালরি গ্রহণ করেছিল তারপরেও কম ফ্যাট গ্রহণকারীদের তুলনায় পরবর্তী গ্রুপের বেশী ফ্যাট গ্রহণকারীদের বেশী পরিমাণে ওজন কমে গিয়েছিল। এরপরেও, অ্যালমন্ড গ্রহণকারীদের ৫০ শতাংশ বেশী হারে কোমরের পরিধি কমেছিল। এটা কি করে সম্ভব? অ্যালমন্ডের মধ্যে এমন যৌগ আছে যা দেহে ফ্যাট শোষণের মাত্রা কমিয়ে দেয়, সুতরাং এর কিছুটা হজমবিহীন ভাবেই বেরিয়ে যায়। আপনার খাবারের সাথে অ্যালমন্ড বাটার মিশিয়ে নিন অথবা স্ন্যাক্সের সাথে কয়েক চামচ খেয়ে নিতে পারেন।