নখ কয়েকটি রোগ
১৩ জানুয়ারী, ১৪
Viewed#: 258
নখের অসংখ্য রোগ আছে। তবে এখানে মাত্র কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রোগ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে একটু আলোচনা করা হলো।
প্যারোনাইকিয়া : নখের ভড়ষফ বা ভাঁজযুক্ত স্থানে প্রদাহ বা রহভবপঃরড়হ হওয়াকেই প্যারোনাইকিয়া বলা হয়। এটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যুবতী মেয়েদের বেশি হতে দেখা যায় যারা পানি নিয়ে বেশি নাড়াচাড়া করেন। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি হয়। এ ছাড়া লন্ড্রি ও রেস্টুরেন্টের কর্মচারী, রান্নাঘরের বাবুর্চি বা কর্মচারীদের মধ্যেও বেশি হতে দেখা যায়। কোনো কারণে
নখের কোণে আঘাত লাগলে, সুচ ফুটলে বা সেখানে জীবাণু দূষণ ঘটলেও এ রোগের সৃষ্টি হতে পারে। এটা ব্যাকটেরিয়া বা ক্যানডিডা (ছত্রাক) বা দুটোরই আক্রমণের কারণে হতে পারে। প্যারোনাইকিয়া যদি ক্রনিক বা দীর্ঘ দিনের হয় তাহলে একে ক্যানডিডার (ফাঙ্গাস) কারণেই হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। তবে অপঁঃব বা সদ্য প্যারোনাইকিয়ার ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার কথাই সর্বপ্রথম বিবেচনায় আনতে হবে।
এ ক্ষেত্রে নখের ভাঁজে ব্যথা হয় এবং ক্রমে তা গোটা আঙুলের মাথায় ছড়িয়ে পড়ে। আঙুলের মাথা ফুলে ওঠে এবং লাল আকার ধারণ করে। এরপর চিড়িক মারা যন্ত্রণাভাবও থাকতে পারে এবং সেই সঙ্গে ভেতরে পুঁজ জমে। চাপ দিলে পুঁজ বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। হালকা জ্বর জ্বর ভাবও থাকতে পারে। ক্রনিক হয়ে গেলে যন্ত্রণা থাকে না তবে যথাসামান্য ব্যথা থাকে। রোগটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বৃদ্ধা বা বুড়ো আঙুলে বেশি হয়; তবে অন্যান্য আঙুলেও হতে পারে।
চিকিৎসা : হাত সব সময় শুষ্ক করে রাখতে হবে। কারণ অনুসারে অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিফাঙ্গাল দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে।
টিনিয়া আনগুইয়াম বা নখের ছত্রাক রোগ : এ ক্ষেত্রে নখ ছত্রাক দিয়ে আক্রান্ত হয়। সবচেয়ে বেশি এবং প্রথমে পায়ের বড় আঙুলের নখে সাধারণত আক্রমণ ঘটে। প্রথমে একটি নখ আক্রান্ত হয় তারপর ক্রমে সব নখে ছড়িয়ে পড়ে। নখ মোটা ও কর্কশ হয়ে পড়ে। নখ ক্রমে ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং সাধারণ চাপে ভেঙে যেতে পারে। এতে নখের নিচের চামড়া বা মাংস অংশে সামান্য ব্যথা অনুভূত হয়। তবে কোনোরকম চুলকানি থাকে না। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত নখের নিচের অংশ ছেঁচে নিয়ে তা যদি পরীক্ষা করা হয়, তাহলে এ রোগ খুব সহজেই নির্ণয় করা যায়।
চিকিৎসা : ফাঙ্গাস নামক ওষুধ সেবনে এ রোগ ভালো হয়। তবে একটি কথা মনে রাখতেই হবে_ পানিতে হাত ভেজানো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখতে হবে। তা না হলে চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা থাকবে।
নকখুনি [ওহ মৎড়রিহম ঃড় হধরষ] : ত্রুটিপূর্ণভাবে নখ কাটার কারণে এ রোগটি হতে দেখা যায়। সে জন্য সব সময়ই নখ সতর্কতার সঙ্গে কাটতে হবে। এ ক্ষেত্রে নখের এক কোনা বৃদ্ধি পেয়ে নখের পাশে মাংসল অংশে ঢুকে পড়ে। ফলে সেখানে জীবাণুর দূষণ ঘটে। রোগটি সাধারণত বুড়ো আঙুলের কোণেই বেশি হয় এবং নখের কোণে প্রচ- ব্যথা হয়। ফুলে ওঠে, পুঁজ জন্মে এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। কাদা মাটি, বর্ষা, স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় এটা বেড়ে যেতে পারে।
চিকিৎসা : আক্রান্তের পরিমাণ কম হলে ট্রাইক্লোরো অ্যাসিটিক অ্যাসিড বা সিলভার নাইট্রেট ব্যবহারে উপকার হয়। অনেক ক্ষেত্রে নখ তুলে ফেলার প্রয়োজন হয়। ইনফেকশন থাকলে অ্যান্টিবায়োটিকও ব্যবহার করতে হবে।
সূত্র - দৈনিক যায়যায়দিন