অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ ও অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি তোলার ফলে কক্সবাজারে সুপেয় পানির তীব্র সংকট চলছে। সাগর উপকূলের হোটেল-মোটেল অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকার নলকূপে উঠছে লবণাক্ত পানি। এ পানি পানের কারণে পর্যটকসহ স্থানীয় লোকজনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার শহরে বাংলাদেশ সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলনকক্ষে ‘কক্সবাজারের ভূগর্ভস্থ পানিদূষণের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কানিজ ফাতিমা প্রধান অতিথি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম উবায়েদ উল্লাহ বিশেষ অতিথি ছিলেন। কর্মশালায় কক্সবাজারের পানি ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫০ জন শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক আশরাফ আলী সিদ্দিকী বলেন, পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের চাহিদা মেটানোর জন্য কোনো রকম বৈজ্ঞানিক গবেষণা ছাড়াই কক্সবাজারে নতুন নতুন বহুতল আবাসিক হোটেল নির্মাণ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে হোটেলগুলোতে গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তোলা হচ্ছে। এতে কক্সবাজার শহর ও হোটেল-মোটেল অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। লবণাক্ত পানি এসব এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির আধারে প্রবেশ করছে। পানযোগ্য সুপেয় পানিকে দূষিত করছে। এতে ক্যানসারসহ অন্যান্য দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রধান অতিথি কানিজ ফাতিমা বলেন, বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আওতাধীন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তিন বছর ধরে কক্সবাজারসহ দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে ভূগর্ভস্থ পানি নিয়ে একটি গবেষণা প্রকল্প চালিয়ে আসছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার শহর ও হোটেল-মোটেল অঞ্চলসহ পাশের এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির টেকসই উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মো. মুখলেছুর রহমান, এস এম নুর আলম, কাজী মতিন উদ্দিন আহমদ, আবদুস সাত্তার প্রমুখ।
Source: The Daily Prothom Alo

