ছুরির আঘাতে গোপনাঙ্গে সৃষ্ট ক্ষতের যন্ত্রণা নিয়ে নিজ বাড়িতে এখনো কাতরাচ্ছেন যশোরের সেই গৃহবধূ। অর্থাভাবে যথাযথ চিকিত্সা হচ্ছে না তাঁর। এ ব্যাপারে সহায়ক হিসেবে গৃহবধূর পাশে নেই কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে ২৩ দিন পরও মনিরামপুর উপজেলার বিজয়রামপুর গ্রামের বর্বরোচিত ওই ঘটনার কোনো সূত্র খুঁজে পায়নি পুলিশ। বলা হচ্ছে, ঘটনার ব্যাপারে জোর পুলিশি তদন্ত চলছে। শিগগিরই ধরা পড়বে আসামি। কিন্তু ঘটনা থমকে আছে একই জায়গায়।
আজ বুধবার ঘটনার শিকার ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, তিনি অর্থাভাবে চিকিত্সা করাতে পারছেন না। ৫ আগস্ট রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বিজয়রামপুর গ্রামের ওই গৃহবধূর গোপনাঙ্গে ছুরি ঢুকিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাঁকে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি ঘটলে পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর শরীরে ইতিমধ্যে দুইবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তিন মাস পর আরও একটি অস্ত্রোপচার করাতে হবে। ১৫ দিন হাসপাতালে থেকে অসুস্থ অবস্থায় ২১ আগস্ট বিকেলে ওই নারী বাড়িতে ফিরে গেছেন। এ ঘটনায় মামলা না নিয়ে ৮ আগস্ট মনিরামপুর থানার পুলিশ সাধারণ ডায়েরি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
প্রথম আলো ডটকমে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ঘটনার ১৫ দিন পর তড়িঘড়ি করে পুলিশ মামলা হিসেবে বিষয়টি তালিকাভুক্ত করে।
নির্যাতিত ওই নারীর মা আজ দুপুর ১২টার দিকে প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘মেয়েটি মুখে কিছুই খেতে পারছে না। প্রায় সময় তার বমি হচ্ছে। তা ছাড়া মলত্যাগের জন্য পেটের এক পাশ দিয়ে একটি পথ করে সেখানে ব্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ব্যাগটি পাল্টাতে হচ্ছে। ব্যাগ না পাল্টালে সংক্রমণ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে চিকিত্সকেরা বলেছেন। প্রতিটি ব্যাগের দাম এক হাজার ২০০ টাকা। টাকার অভাবে ব্যাগও পাল্টানো সম্ভব হচ্ছে না। তা ছাড়া ওষুধ-পথ্য দিয়ে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ হচ্ছে।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘নিজেদেরই যেখানে খাওয়া জুটছে না, সেখানে মেয়ের চিকিত্সা খরচ চালাব কী করে?’
তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, বাদীপক্ষ কাউকে সন্দেহ পর্যন্ত করতে পারছে না। এ কারণে কাউকে আটক করাও সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার জোর তদন্ত চলছে।
২০ আগস্ট প্রথম আলো ডটকমে ‘এত বর্বরতা, তবু নির্বিকার পুলিশ’ শিরোনামে ওই নারীকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এর এক দিন পরই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল যশোরে এসে ওই নারী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে যায়।
কমিশনের সহকারী পরিচালক এম রবিউল ইসলাম প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, প্রতিবেদনে তিনটি বিষয়ে সুপারিশ করা হবে। প্রথমত, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বা বিশেষ কোনো গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ঘটনাটির তদন্ত করানো। দ্বিতীয়ত, চিকিত্সার যাবতীয় ব্যয় বহন করা এবং তৃতীয়ত, ওই নারীর চিকিত্সার ব্যাপারে অভিযোগ ওঠা মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
প্রথম আলো ডটকমে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশ-বিদেশ থেকে অনেক সহূদয় ব্যক্তি ওই নারীকে আর্থিক সহায়তা দিতে আগ্রহ দেখান। এ জন্য জনতা ব্যাংক মনিরামপুর শাখায় একটি হিসাব খোলা হয়। তবে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।
সহায়তা করতে চান যাঁরা
২০ আগস্ট প্রথম আলো ডটকমে ‘এত বর্বরতা, তবু নির্বিকার পুলিশ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে অনেক পাঠক নির্যাতিত ওই গৃহবধূকে সাহায্য করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ওই গৃহবধূর বাবা সুভাষ ঘোষের নামে জনতা ব্যাংক মনিরামপুর শাখায় একটি হিসাব খোলা হয়েছে। এ ছাড়া সাহায্যের ব্যাপারে ওই গৃহবধূর ভাই বিশ্বজিেক ফোন করতে পারেন। বিশ্বজিতের মুঠোফোন নম্বর হলো ০১৯১৭৩৩৫২৩৭।
আগ্রহী ব্যক্তিরা ওই গৃহবধূকে নিচে দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বরে সাহায্য পাঠাতে পারেন।
সুভাষ ঘোষ
হিসাব নম্বর ১৭৭২২
জনতা ব্যাংক (মনিরামপুর শাখা)।
সূত্র - প্রথম আলো

