সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করতে স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীতে বঙ্গবাজারের কাছে সদ্য নির্মিত ১৫০ আসনের সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে পে-কমিশন পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। তাদের বেতন কখন বাড়বে এজন্য তারা দীর্ঘ সময় প্রতীক্ষা করেন। সুতরাং মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিতভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর জন্য একটি স্থায়ী পে-কমিশন গঠন করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
এর আগে ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়ছিল। ওই বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ। সর্বনিম্ন ৫৬ শতাংশ। সর্বোচ্চ বেতন ৪০ হাজার এবং সর্বনিম্ন বেতন ধরা হয়েছিল চার হাজার ১০০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরও আগে ২০০৫ সালে সর্বশেষ বেতন কাঠামো কার্যকর করা হয়েছিল।১৫০ আসনের সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: পিআইডি।
জানা গেছে, গত ২ জুন সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্থায়ী ‘পে অ্যান্ড সার্ভিসেস কমিশন’ গঠনের করার কথা জানান। ওইসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্ধারণ করা জটিল বিষয়। এ সংক্রান্ত একটি স্থায়ী কমিশন গঠিত হলে কমিশন এটি নিয়ে সব সময় কাজ করবে এবং তারা এ বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ বা সুপারিশ দেবে।
পরে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সে সময় তিনি বলেন, কমিশন ভবিষ্যতে বেতন-ভাতা নিয়ে সময়ে সময়ে সরকারকে নিয়মিতভাবে সুপারিশ করবে। তারা বেতন-ভাতা নির্ধারণে সৃষ্ট অসঙ্গতির সমাধানও দিতে পারবে।
প্রসঙ্গত বর্তমানে দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৩ লাখ। এর মধ্যে চাকরিতে সক্রিয় আছেন প্রায় ১১ লাখ।
এদিকে আজকের অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কল্যাণে বর্তমান সরকার খুবই আন্তরিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরে যাবার বয়স ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর করেছে। মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কর্মচারীদের বয়স ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের চাকরি কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের জন্য চাকরির বয়স ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হয়েছে এবং ১ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মন্ত্রিপরিষদের সচিব এম মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও জ্যেষ্ঠ সচিব আবদুস সোবহান শিকদার বক্তব্য দেন।
সূত্র - প্রথম আলো

