home top banner

News

মানবকোষ থেকে একেবারে 'ডিলিট' হবে এইচআইভি!
26 July,14
Tagged In:  HIV virus  hiv aids   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   23

hiv-virus'ডিলিট'৷ মানবকোষে লুকিয়ে বাসা বেঁধে থাকা এইচআইভি-১ ভাইরাসকে জিনোম থেকে আলাদা করার পথের খোঁজ মিলল৷ ঠিক কম্পিউটার থেকে ফাইল ওড়ানোর মতোই৷ সদ্য প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এমন দাবি করেছেন টেম্পল ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের একদল বিজ্ঞানী৷ বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় যার নাম 'সিআরআইএস/ক্যাস-৯ জিনোম এডিটিং সিস্টেম'৷ নতুন এই আবিষ্কার বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এইডস গবেষণায় যুগান্তকারী সাফল্য আসবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা৷ হাসি ফুটবে বিশ্বের প্রায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষ এইচআইভি আক্রান্তের মুখে৷


হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস মানবকোষে একবার ঢুকে পড়তে পারলে আর বেরোয় না৷ ঘাঁটি গেড়ে বসে৷ আক্রান্তের ডিএনএ'তে ঢুকিয়ে দেয় এর মারণ জিনোম৷ ফলে বাকি জীবনটা ওষুধ আর হাজারো চিকিত্সার উপর ভরসা করেই কাটাতে হয় আক্রান্তকে৷ নয়া আবিষ্কার সেই দুঃস্বপ্ন-এর হাত থেকে মুক্তি দেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে৷ আবিষ্কার বলছে, মানবকোষ থেকে সুপ্ত এইচআইভি-১ ভাইরাস 'ডিলিট' করার চেষ্টা এই প্রথম সাফল্য পেয়েছে, যা ঘুমিয়ে থাকা সংক্রমণ সারানোরও পথ দেখিয়েছে৷ টেম্পলের নিউরোসায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষকদলের প্রধান কামেল খলিলি বলেন, 'এইডস পুরোপুরি সারিয়ে তোলার পথে এটা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ৷' অবশ্য একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এটা ফাটাফাটি আবিষ্কার ঠিকই, কিন্ত্ত ক্লিনিক পর্যন্ত একে পৌঁছে দিতে এখনও দেরি আছে৷ তার কথায়, 'বলা যেতে পারে, আমাদের ভাবনার প্রমাণ পেয়েছি৷ যার অর্থ, আমরা ঠিক পথেই এগোচ্ছি৷'

গত প্রায় ১৫ বছরে এইচআইভি-র সঙ্গে লড়াইয়ে মানুষের হাতিয়ার 'হাইলি অ্যাকটিভ অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি'৷ এইচআইভি-১ ভাইরাসের বাড়াবাড়ি ঠেকিয়ে রেখেছে এই থেরাপিই৷ কিন্ত্ত চিকিত্সায় ছেদ পড়লেই ফোঁস করে উঠেছে ভাইরাস৷ এইচআইভি-১-এর সংখ্যায় বেড়ে যাওয়াও (রেপ্লিকেশন) ঠেকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে থেরাপি৷ কিন্ত্ত ভাইরাসের উপস্থিতি স্বাস্থ্যের বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছে৷ খলিলির কথায়, 'ভাইরাস কম সংখ্যায় বাড়লেও (লো লেভেল রেপ্লিকেশন) আক্রান্তর শরীরে এমন সব রোগ বাসা বাঁধে, যেগুলো সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজির হয়৷' এ সবের মধ্যে রয়েছে কার্ডিওমায়োপ্যাথি বা হূদপেশিরদৌর্বল্য, হাড়ের অসুখ, কিডনির অসুখ ও স্নায়ুর রোগ৷ ভাইরাসকে বশে রাখতে যে সব ড্রাগ শরীরে ঢোকানো হয়, অনেক সময় তা এই রোগগুলিকেই আরও আক্রমণাত্মক করে তোলে৷ সব মিলিয়ে রোগীর পক্ষে আরও যন্ত্রণাদায়ক এক দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া৷ সুবিশাল খরচের ক্ষেত্রও বটে৷

তাই বিজ্ঞানীরা সেই পথ খুঁজেছেন, যে পথে এগোলে এইচআইভি ভাইরাসকে একেবারে ঠেঙিয়ে মানবকোষ থেকে বিদায় করা যাবে৷ খলিলি ও তার সহকর্মীরা ল্যাবে দিনের পর দিনের গবেষণার সেই পথের সন্ধানও পেয়েছেন অবশেষে৷ গবেষকরা ২০-নিউক্লিওটাইডের গাইড আরএনএ'কে পাঠিয়েছেন এইচআইভি-১ ডিএনএ লক্ষ্য করে আক্রমণ করতে৷ আরএনএ'কে শক্তিশালী করা হয়েছে তার সঙ্গে ডিএনএ-পৃথকীকরণ উৎসেচক সিএএস-৯'কে জুড়ে দিয়ে৷ এই গাইড আরএনএ মূলত আক্রমণ শানায় জিনের কন্ট্রোল রিজিয়নে, যার পোশাকি নাম 'লং টার্মিনাল রিপিট' (এলটিআর)৷ যা এইচআইভি-১ জিনোমের দু'দিকেই থাকে৷ এদের টার্গেট করে ক্যাস-৯ নিউক্লিয়েজ, এইচআইভি-১ জিনোমের অন্যতম উপকরণ ৯,৭০৯-নিউক্লিওটাইডকে ছিঁড়ে নিয়ে চলে আসে৷

এইচআইভি-১ যে সমস্ত কোষে ঘাঁটি বাঁধে, সেই মাইক্রোগ্লিয়া, মাইক্রোফাজ, টি-লিম্ফোসাইটে এই পরীক্ষা চালিয়ে সফল হয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ খলিলি বলেন, 'টি-সেল ও মনোসাইটিক সেলই মূলত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়৷ তাই এরাই এই প্রযুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য টার্গেট৷'

তবে সহসা টার্গেটে সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন না বিজ্ঞানীরা৷ থেকে যাচ্ছে অনেকগুলি প্রশ্ন৷ যেমন প্রত্যেকটি আক্রান্ত কোষকে আক্রমণ করার মতো প্রক্রিয়া তৈরি করতে হবে৷ তার চেয়েও বড় কথা, এইচআইভি-১ যেহেতু মিউটেশন-পন্থী, তাই এক-এক আক্রান্তের জন্য এক-এক রকম চিকিত্সা প্রয়োজন হতে পারে৷ খলিলের কথায়, 'আক্রান্তের শরীর থেকে প্রতিটি এইচআইভি-১ কপিই আমরা বের করে দিতে চাইছি৷ এই প্রযুক্তি এইডস সারিয়ে দেবে৷ আমার মনে হয়, সেই পথেই এগোচ্ছি আমরা৷'

এইচআইভি আক্রান্তরা সে দিকেই তাকিয়ে৷ নতুন দিনের অপেক্ষায়৷

সূত্র - ওয়েবসাইট

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: ক্যানসার-হৃদরোগ রুখবে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের ‘বাপ’!
Previous Health News: মেছতা থেকে মুক্তি

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')