শৌচাগারের একটি হাইকমোডে বসে দায়িত্ব পালন করেছেন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা লুত্ফা বেগম। তাঁর সহযোগী জুলফিকার আলী ও অজিদা আক্তার বসেছেন শৌচাগারের সরু প্রবেশদ্বারে। পাশের আরেকটি শৌচাগারের কমোডে রাখা হয়েছে ব্যালট বাক্স।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদি ইউনিয়নের ৮ নম্বর আগরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি বুথ এটি। স্কুলের শৌচাগারটি ভোটকেন্দ্রের একটি বুথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর ওই বুথটি রাখা হয়েছে নারী ভোটারদের জন্য।
ভোটকেন্দ্রের প্রার্থীর এজেন্টরা ছিলেন মাঠে। আর শৌচাগারের মূল দরজার সামনে ছিল ভোটারের সারি। জানা গেছে, ৮ নম্বর আগরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোট তিন হাজার ২৫২। এজন্য পাঁচটি কক্ষে ১০টি বুথ বসানো হয়। এর একটি বসানো হয় স্কুলের শৌচাগারে। সেখানে ভোট ছিল ২৭৬টি।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, শৌচাগারের বুথে নারী ভোটারের সারি। একজন করে ঢুকছেন আর ভোট দিয়ে বের হচ্ছেন। ভোট দিয়ে বের হয়ে এসে জুমেলা আক্তার (ভোটার নম্বর ২১৮) বললেন, ‘হুনছি ভোট নাকি উত্সব। পায়খানায় ভোট দিয়া কোন উত্সব পালন করলাম, কে জানে।’ আরেক ভোটার আসমা বেগম ( ভোটার নম্বর ৭৬) বলেন, ‘আর জায়গা পাইল না। রুচিতে লাগছে।’
হাই কমোডে বসে কর্তব্য পালন করতে গিয়ে বিব্রত হয়েছেন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টরাও। সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা লুত্ফা বেগম বলেন, ‘লজ্জা লাগছে। কিছু করার নাই। বলতে হবে ভালোই লাগছে।’
বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নুরুল মিল্লাতের (দোয়াত-কলম) এজেন্ট রহমত আলী বলেন, ‘জীবনও ভাবি নাই, টয়লেটের কেন্দ্রের এজেন্ট হইতে হইব।’ আরেক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সৈয়দ হাসান সারওয়ারের (আনারস) এজেন্ট মো. রতনও একই অনুভূতির কথা জানান।
এ ব্যাপারে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. শাহনেওয়াজ বলেছেন, কক্ষ সংকটের কারণে তাঁকে ভোটকেন্দ্রের বুথ হিসেবে শৌচাগার বেছে নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, বড় কথা হলো শৌচাগারটি এখনো ব্যবহার করা শুরু হয়নি।
সূত্র - প্রথম আলো

